Bartaman Logo
২৩ জুলাই, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

কয়েক লক্ষ টাকার তোলাবাজি, পুরকর্মী সহ পুলিশের জালে ২

হাওড়ায় তোলাবাজির অভিযোগে পুরসভার কর্মী ও এনজিও কর্তাকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। ১০ বছরে লক্ষ লক্ষ টাকা আদায়ের চক্রের হদিশ। বিস্তারিত পড়ুন।

কয়েক লক্ষ টাকার তোলাবাজি, পুরকর্মী সহ পুলিশের জালে ২
  • ২৩ জুলাই, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, হাওড়া: হাওড়া শহরের হোটেল ব্যবসায়ী, বেসরকারি হাসপাতালের মালিক এবং প্রোমোটারদের দীর্ঘদিন ধরে ভয় দেখিয়ে মোটা টাকা আদায়ের অভিযোগে হাওড়া পুরসভার আইন বিভাগের এক কর্মী এবং তাঁর ঘনিষ্ঠ এক এনজিও কর্তাকে গ্রেপ্তার করেছে গোলাবাড়ি থানার পুলিশ। বুধবার ধৃতদের হাওড়া আদালতে তোলা হলে পুলিশ হেপাজতের নির্দেশ দেওয়া হয়। তদন্তে দীর্ঘ প্রায় এক দশক ধরে চলা বড়োসড়ো তোলাবাজি চক্রের হদিশ মিলেছে বলে পুলিশের দাবি।

Advertisement

ঘটনার সূত্রপাত হাওড়া স্টেশন সংলগ্ন এলাকার হোটেল ব্যবসায়ী আশিস কাপুরের অভিযোগকে কেন্দ্র করে। পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, গত ২০ জুলাই তিনি গোলাবাড়ি থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। অভিযোগে বলা হয়, কয়েকদিন আগে রমেশ জয়সওয়াল নামের এক ব্যক্তি নিজেকে এনজিও কর্তা পরিচয় দিয়ে তাঁর সঙ্গে দেখা করে দাবি করেন, হোটেলের একাংশের নির্মাণ নাকি বেআইনি এবং সেই অভিযোগের ভিত্তিতে পুরসভা সেই অংশ ভাঙার পদক্ষেপ করতে পারে। বিষয়টি ‘মিটিয়ে’ দিতে হলে ৫০ লক্ষ টাকা দিতে হবে বলে চাপ সৃষ্টি করা হয়। এমনকি, টাকা দিতে অস্বীকার করলে তাঁকে গুলি করে খুনের হুমকিও দেওয়া হয়। ব্যবসায়ীর অফিসে বসে টাকা দাবি করার ঘটনাটি সিসি ক্যামেরায় ধরা পড়েছে বলেও তদন্তে উঠে এসেছে।
অভিযোগের তদন্তে নেমে মঙ্গলবার রাতে অভিযুক্ত রমেশ জয়সওয়াল এবং হাওড়া পুরসভার আইন বিভাগের কর্মী সুদর্শন জয়সওয়ালকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। পুলিশের দাবি, পুরসভায় কর্মরত থাকার সুবাদে কোথায় নতুন হোটেল বা বহুতল নির্মাণ হচ্ছে কিংবা কোন প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে অভিযোগ রয়েছে, সেই তথ্য সংগ্রহ করে রমেশের কাছে পৌঁছে দিতেন সুদর্শন। এরপর সেই তথ্যকে হাতিয়ার করে ব্যবসায়ীদের ভয় দেখিয়ে বড়ো অঙ্কের টাকা আদায়ের চেষ্টা চলত। পুলিশের প্রাথমিক তদন্তে আরও জানা গিয়েছে, প্রায় ১০ বছর ধরে একই কায়দায় হাওড়া শহরের একাধিক হোটেল মালিক, বেসরকারি হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ এবং প্রোমোটারদের কাছ থেকে লক্ষ লক্ষ টাকা আদায় করা হয়েছে। হাওড়া সিটি পুলিশের এক কর্তা বলেন, এই চক্রের সঙ্গে আরও কেউ জড়িত কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। ধৃতদের জিজ্ঞাসাবাদ করে আর্থিক লেনদেনের নথি, ভুক্তভোগীদের তালিকা এবং গোটা নেটওয়ার্ক সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহের চেষ্টা চলছে।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ