সংবাদদাতা, কাঁথি: মঙ্গলবার রামনগরের তাজপুর পর্যটন কেন্দ্রের উত্তাল সমুদ্রে স্নান করতে নেমে তিনজন পর্যটক তলিয়ে যান। তার মধ্যে একজন কিশোরের মৃত্যু হয়েছে। তলিয়ে যাওয়া ১৮ বছর বয়সি যুবকের কোনও খোঁজ পাওয়া যায়নি। আর একজন যুবককে উদ্ধার করার পর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পুলিস জানিয়েছে, মৃতের নাম সোহন হোসেন (১৬)। তার বাড়ি উত্তর ২৪ পরগনার বারাসত এলাকায়। সন্ধ্যা পর্যন্ত নিখোঁজ রয়েছেন মধ্যমগ্রামের বাসিন্দা শেখ আনিস ইসলাম (১৮)। আর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আমডাঙার আদহাটা এলাকার বাসিন্দা নাসিমুল হক (২৩)। নিখোঁজ যুবকের সন্ধানে স্পিডবোট নিয়ে জোরদার তল্লাশি চলছে। অন্যদিকে, দীঘা লাগোয়া উদয়পুর সমুদ্রসৈকতে স্নান করতে নেমে তলিয়ে মারা গিয়েছেন বনগাঁর এক পর্যটক।
পুলিস ও স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, বারাসত থেকে ১০-১২ জনের একটি পর্যটক দল সোমবার দীঘা বেড়াতে এসেছিল। সেখান থেকে মঙ্গলবার তাঁরা তাজপুরে এসে সমুদ্রে স্নান করতে নামেন। তখন জোয়ার চলছিল। নিম্নচাপ এবং আবহাওয়াজনিত কারণে সমুদ্র এখন বেশ উত্তাল। তাছাড়া মোহনার কাছে ওই অংশে স্রোতের টান একটু বেশি থাকে। স্নানের সময় তিনজনই কিছুটা সামনের দিকে এগিয়ে গিয়েছিলেন। উত্তাল ঢেউয়ের তোড়ে তাঁরা তলিয়ে যান। তাঁদের ডুবে যেতে দেখে বাড়ির লোকজন চিৎকার-চেঁচামেচি জুড়ে দেন। দ্রুত স্পিডবোট নিয়ে উদ্ধার করতে সমুদ্রে ঝাঁপিয়ে পড়েন কর্তব্যরত নুলিয়ারা। আসেন টহলরত পুলিসকর্মীরাও। দু’জনকে কোনওরকমে উদ্ধার করলেও আনিসকে উদ্ধার করা যায়নি। অচৈতন্য অবস্থায় সোহন ও নাসিমুলকে বড়রাঙ্কুয়া গ্রামীণ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। চিকিৎসক সোহনকে মৃত বলে ঘোষণা করেন। নাসিমুলের অবস্থা আশঙ্কাজনক থাকায় তাঁকে বড়রাঙ্কুয়া থেকে কাঁথি মহকুমা হাসপাতালে পাঠানো হয়। এদিকে নিখোঁজ যুবকের সন্ধানে তল্লাশি চলছে।
উদয়পুরের ঘটনায় মৃতের নাম শুভেন্দু সাহা (৩৫)। তাঁর বাড়ি বনগাঁর গাইঘাটা থানা এলাকায়। তিনি হোটেলের কর্মী ছিলেন। জানা গিয়েছে, সোমবার বেড়াতে এসে নিউ দীঘার একটি হোটেলে উঠেছিলেন চারজন বন্ধু। তাঁরা ওইদিন দুপুরে উদয়পুরের সৈকতে স্নান করতে নামেন। স্নানের সময় উত্তাল ঢেউয়ের তোড়ে তলিয়ে যান শুভেন্দু। তাঁকে অচৈতন্য অবস্থায় উদ্ধার করে দীঘা স্টেট জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে এলে চিকিৎসক মৃত বলে ঘোষণা করেন। উপকূল এলাকার দায়িত্বপ্রাপ্ত ডিএসপি (ডিঅ্যান্ডটি) আবু নুর হোসেন বলেন, স্নানে নেমে পর্যটকদের সচেতন ও সতর্ক থাকতে হবে। এই ঘটনার পর তাজপুর সহ পুরো সৈকতজুড়ে টহলদারি ও নজরদারি আরও বাড়ানোর উপর জোর দেওয়া হচ্ছে।