সোনা ব্যবসায়ীকে খুনের সময়  ফ্ল্যাটে হাজির দুই ‘রহস্যময়ী’!
  • ১৮ নভেম্বর, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, বিধাননগর: বিডিও-ঘনিষ্ঠ ঠিকাদার, তৃণমূল কংগ্রেস নেতা, গাড়ি চালক গ্রেফতার হয়েছে আগেই। সোনা ব্যবসায়ী স্বপন কামিল্যাকে অপহরণ ও খুনের ঘটনার তদন্তে এবার চাঞ্চল্যকর তথ্য পেল পুলিশ। জানা গিয়েছে, এই খুনে ‘রহস্যময়ী’ দুই মহিলার যোগ মিলেছে! ওই দুজন নাকি খুনের সময় নিউটাউনের ফ্ল্যাটে হাজিরও ছিলেন। বিধাননগর কমিশনারেট ইতিমধ্যেই ওই দুজনকে চিহ্নিতও করে ফেলেছে। তাঁদের একজনের বাড়ি কলকাতার কাঁকুড়গাছি এলাকায়, অন্যজনের বাড়ি বাংলাদেশ সীমান্ত সংলগ্ন বসিরহাট এলাকায়! তবে, এই খুনের তাঁদের কী ভূমিকা ছিল? তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। সেই সঙ্গে ধৃত তৃণমূল নেতা, ঠিকাদার, গাড়ি চালককে জেরা করে ওই মহিলাদের সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য সংগ্রহ করছে পুলিশ।

Advertisement

গত ২৮ অক্টোবর স্বপনবাবুকে অপহরণের পর নিউটাউনের এবি ব্লকের ফ্ল্যাটে নিয়ে গিয়ে খুন করা হয়েছিল। সেই ব্যাপারে একাধিক তথ্য পুলিশের হাতে এসে গিয়েছে। খোদ বিডিও নিজে স্বপনবাবুকে মারধর করেছিলেন বলে, পুলিশ ও সংবাদমাধ্যমের কাছে স্বীকারোক্তি দিয়েছিলেন ‘সোনা চোর’! ওই ফ্ল্যাটটি নাকি বিডিওর। খুনে যুক্ত থাকার প্রমাণ মেলার পর বিডিওর গাড়ি চালক রাজু ঢালি ও ঠিকাদার বন্ধু তুফান থাপাকে গ্রেফতার করা হয়। তাঁদের জেরা করে কিছুদিন আগেই গ্রেফতার করা হয়েছে বিডিও-ঘনিষ্ঠ তৃণমূল কংগ্রেস নেতা সজল সরকারকে। তিনি কোচবিহার -২ ব্লকের তৃণমূল সভাপতিও। শুক্রবার রাতে এই খুন কাণ্ডে একটি গাড়িও বাজেয়াপ্ত হয়েছে। গাড়ির রেজিস্ট্রেশন খতিয়ে দেখে পুলিশ গাড়ির মালিকের নাম জানতে পেরেছে। তাঁর বাড়ি মধ্যমগ্রামে।
ওই তিনজনকে জেরা করে পুলিশ ও গোয়েন্দারা দুই মহিলা খোঁজ পেয়েছেন। তবে, ওই দুই মহিলার ভূমিকা নিয়ে একাধিক রহস্যের কিনারা হয়নি। তাঁরা কি সরাসরি এই ঘটনায় যুক্ত? তাঁদের কি ফ্ল্যাটে ডেকে পাঠানো হয়েছিল? নাকি, অন্যকোনও কারণে তাঁরা হাজির ছিলেন? এই সমস্ত কিছু খতিয়ে দেখা হচ্ছে। ওই দুই মহিলা বিডিওর ঘনিষ্ঠ নাকি ধৃত তিনজনের মধ্যে কারও ঘনিষ্ঠ সেই বিষয়টিও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। ইতিমধ্যে বেশকিছু নথি পুলিশের হাতে এসেছে। সূত্রের খবর, জেরা করার জন্য তাঁদের দুজনকেই নোটিশ পাঠানো হয়েছিল। একজন জবাব দেননি। তবে, অন্যজন, ‘আসব’ বলে জানিয়েছেন।