নিজস্ব প্রতিনিধি, বারাসত: গোষ্ঠীদ্বন্দ্বে রাশ টানতে দলের শীর্ষ নেতৃত্ব বারবার নির্দেশ দিচ্ছেন। কিন্তু মিনাখাঁ বিধানসভার অন্তর্গত হাড়োয়া ২ নম্বর ব্লকে তৃণমূলের গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব যেন ক্রমশ বাড়ছে। এর ফলে কর্মীদের মধ্যেও তীব্র অসন্তোষ তৈরি হয়েছে। চলতি বিতর্কের সূত্রপাত অবশ্য হাড়োয়া ২ নম্বর ব্লক তৃণমূল কংগ্রেসের সভাপতিকে নিয়েই।
জানা গিয়েছে, হাড়োয়া ২ নম্বর ব্লক তৃণমূল কংগ্রেসের সভাপতি হিসেবে সিরাজুল ইসলামের নাম ঘোষণা করা হয় কয়েকমাস আগে। তার আগে ওই ব্লকের তৃণমূল সভাপতি হিসেবে দায়িত্বে ছিলেন এলাকার দাপুটে নেতা ফরিদ জমাদার। তাঁকে দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দেওয়ার পর থেকেই কর্মীদের একাংশের মধ্যে তীব্র অসন্তোষ তৈরি হয়েছে। ফরিদের অনুগামীদের কথায়, কোনও কারণ ছাড়াই দলের ব্লক সভাপতি বদল করা হয়েছে। সূত্রের খবর, ফরিদ জমাদার হাড়োয়া ২ নম্বর ব্লক তৃণমূল যুব সভাপতি আব্দুল খালেক মোল্লার গোষ্ঠীর লোক বলে পরিচিত। সিরাজুল স্থানীয় বিধায়ক ঊষারানি মণ্ডলের ঘনিষ্ঠ। এই দুই বিবাদমান গোষ্ঠীর মধ্যে কাজিয়া লেগে রয়েছে। ব্লকের বিভিন্ন এলাকার ঘুরলেই টের পাওয়া যাচ্ছে গোষ্ঠীকোন্দলের আঁচ। দেখা যাচ্ছে, তৃণমূলের বিভিন্ন পোস্টারে ব্লক সভাপতি হিসেবে দুই নেতার নামই জ্বলজ্বল করছে। কোনও ব্যানারে সিরাজুল ইসলামকে সভাপতি ঘোষণা করা হয়েছে। কোনও পোস্টারে বলা হয়েছে, ব্লক সভাপতি ফরিদ জমাদার। দুই গোষ্ঠী এই ব্যানার ও পোস্টারে প্রচারের ক্ষেত্রে কার্যত প্রতিযোগিতায় নেমে পড়েছে। এসব ঘটনায় তৃণমূলের নিচুতলার কর্মীরা চূড়ান্ত বিভ্রান্ত হচ্ছেন। কর্মীদের একাংশের দাবি, যেভাবে দলের অন্দরে দ্বন্দ্ব বাড়ছে, তাতে বড় কিছু ঘটনা ঘটে যেতে পারে ব্লকে। সিরাজুল বলেন, ‘দলের শীর্ষ নেতৃত্ব আমাকে এই দায়িত্ব দিয়েছে। এর উপযুক্ত প্রমাণও আমার কাছে রয়েছে। বিষয়টি উচ্চ নেতৃত্বকে জানানো হয়েছে।’ তৃণমূল নেতা ফরিদ জমাদার বলেন, ‘আমি দীর্ঘদিন ধরে ব্লক সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব সামলে আসছি। দলকে ভালো ফলাফলও দিয়েছি। এখনও পর্যন্ত দলের যা নির্দেশ রয়েছে, ব্লক সভাপতি হিসেবে সেই মতো কাজও করে যাচ্ছি।’ স্থানীয় তৃণমূল কর্মী লাল্টু মোল্লা, সিরাজুল মোল্লাদের বক্তব্য, ‘কে ব্লক সভাপতি, তা দলের পক্ষ থেকে স্পষ্ট করে দেওয়া হোক। এভাবে দুই নেতার নাম নিয়ে লড়াইয়ে মানুষের কাছে ভুল বার্তা যাচ্ছে। দ্রুত দল পদক্ষেপ গ্রহণ করুক।’ প্রতিক্রিয়া নেওয়ার জন্য মিনাখাঁর বিধায়ক ঊষারানি মণ্ডলের সঙ্গে ফোনে একাধিকবার যোগাযোগ করার চেষ্টা হলেও তাঁকে পাওয়া যায়নি।