নিজস্ব প্রতিনিধি, হাওড়া: প্রায় আড়াই বছর আগে সাঁকরাইলে এক ব্যক্তিকে ইট দিয়ে থেঁতলে খুনের অভিযোগে সোমবার দু’জনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের সাজা শোনাল হাওড়া আদালত। গত বৃহস্পতিবার দুই অভিযুক্তকে দোষী সাব্যস্ত করেছিল আদালত। এদিন আদালতের দ্বিতীয় অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা বিচারক সোমেশ প্রসাদ সিনহা আসামি নজরুল মোল্লা ও সাবির লস্করকে এই সাজা শোনান।
ঘটনাটি ঘটেছিল ২০২২ সালের নভেম্বর মাসে। জানা গিয়েছে, সাঁকরাইলের বাসিন্দা সিমরাজ ওরফে বিসমিল্লার বন্ধু ছিল সাবির ও নজরুল। ৯ নভেম্বর রাতে তারা বিসমিল্লাকে বাড়ি থেকে ডেকে নিয়ে যায়। এরপর আন্দুল গ্রাম পঞ্চায়েতের পাশে একটি জায়গায় তিনজনকে একসঙ্গে বসে মদ্যপান করতে দেখা গিয়েছিল। সেখানে ব্যক্তিগত কোনও বিষয়কে কেন্দ্র করে বচসা হলে রাগের বশে নজরুল ও সাবির ইট দিয়ে বিসমিল্লার মাথা থেঁতলে দেয়। মারা যান তিনি। তদন্তে নেমে অভিযুক্ত দু’জনকেই গ্রেপ্তার করে পুলিস। ঘটনাস্থল থেকে উদ্ধার হয় রক্তমাখা ইট। ঘটনার কোনও প্রত্যক্ষদর্শী না থাকলেও বিভিন্ন পারিপার্শ্বিক তথ্য প্রমাণের ভিত্তিতে দুই অভিযুক্তের বিরুদ্ধে মামলা শুরু হয়। প্রায় আড়াই বছর ধরে মামলা চলে। মোট ২৩ জন সাক্ষ্য দেন। তার ভিত্তিতে এদিন দুই আসামির বিরুদ্ধে সাজা ঘোষণা করল হাওড়া আদালত।
এদিকে, ট্রেনের মহিলা কামরায় ছিনতাই ও এক ধারালো অস্ত্র দিয়ে যাত্রীকে জখম করার ঘটনায় সাত বছর পর অভিযুক্তকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের সাজা দিল হাওড়া আদালত। আসামির নাম গুড্ডু সিং। তাকে আর্থিক জরিমানাও করেছে আদালতের পঞ্চম অতিরিক্ত জেলা জজ অখিলেশকুমার পান্ডে।
ঘটনাটি ঘটেছিল ২০১৮ সালের নভেম্বর মাসে। হাওড়া স্টেশন থেকে রাত ১০টা ২০ মিনিটের ব্যান্ডেল লোকাল ছাড়ার কিছুক্ষণের মধ্যেই চলন্ত ট্রেনের মহিলা কামরায় ছিনতাইয়ের উদ্দেশ্যে ওঠে গুড্ডু। ধারালো অস্ত্র দেখিয়ে সোনু শর্মা নামের এক মহিলা যাত্রীর সোনার আংটি ও মোবাইল ফোন ছিনতাইয়ের চেষ্টা করে সে। তিনি বাধা দিলে তাঁকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে আঘাত করা হয়। অন্যান্য যাত্রীরা চেন টেনে ট্রেন দাঁড় করালে আরপিএফ এসে অভিযুক্তকে হাতেনাতে ধরে ফেলে। জখম মহিলাকে হাওড়া হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।