


অগ্নিভ ভৌমিক, কৃষ্ণনগর: ২০১১ সালে পালাবদলের সঙ্গে সঙ্গেই রানাঘাট উত্তর-পশ্চিমে বিদায় নেয় সিপিএম। চারিদিকে ফুটেছিল জোড়া ঘাসফুল। ২০১৪ সালের লোকসভা ভোটে দেশজুড়ে তুমুল মোদি ঝড়ের মধ্যেও এগিয়েছিল তৃণমূল। তারপর ২০১৬ থেকে ২০২৪ সাল।লোকসভা হোক কিংবা বিধানসভা—ঘাসফুলের জমিতে চাষ হয়েছে পদ্ম। ছাব্বিশের হাইভোল্টেজ ভোটে কি তৃণমূল পারবে, পদ্মের জমিতে ফের ঘাসফুল ফোটাতে?
জবাব মিলবে ৪ মে। তবে, তার আগে হিসেব কষে রণকৌশল সাজিয়েছে তৃণমূল। এবার এই কেন্দ্রে প্রার্থী করা হয়েছে তৃণমূলের পুরনো যোদ্ধা তাপস ঘোষকে। ভরা বাম জমানাতেও রানাঘাটে একসময় ঘাসফুল ফোটানোর অন্যতম কারিগর ছিলেন তিনি।তাৎপর্যপূর্ণ বিষয় হল, এখানে বিজেপির প্রার্থী যিনি সেই পার্থসারথি চট্টোপাধ্যায়ও তৃণমূলের একদা দাপুটে নেতা ছিলেন।২০১১ সালে ঘাসফুল প্রতীকে জিতে এমএলএ হয়েছিলেন পার্থসারথি। স্বাভাবিকভাবেই দু’জনের চেনা মাঠ। রণকৌশল নির্ধারণের ঘরানাও এক। তাই তৃণমূল ও বিজেপির এবার লড়াইটাই হবে বেশ হাড্ডাহাড্ডি। তারউপর এসআইআরেনাম বাদ যাওয়ায় ভোট-সমীকরণ কার পাল্লা ভারী করবে, সেটাও চর্চার বিষয়। তৃণমূল প্রার্থী তাপসবাবু বলেন, ‘সিপিএমের জমানায় আমি তৃণমূলকে পঞ্চায়েত সমিতি উপহার দিয়েছি। মানুষ আমাকে ভালোবাসেন। আস্থা ও ভরসা রাখেন। প্রচারে গিয়েও আমি সেটা লক্ষ্য করছি। খুব ভালো সাড়া পাচ্ছি। মতুয়া সম্প্রদায়ের মানুষজন বুঝে গিয়েছেন তাদের ভোটাধিকার কেড়ে নিয়েছে বিজেপি। তৃণমূল তাঁদের গণতান্ত্রিক অধিকার ফেরানোর লড়াই করছে।’
সম্প্রতি নাসড়া স্কুলের মাঠে তৃণমূল প্রার্থী তাপস ঘোষের সমর্থনে জনসভা করতে এসে অভিষেক বন্দোপাধ্যায় বলেছিলেন, ‘২০২১ সালে ওরা প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল যেডবল ইঞ্জিন সরকার হলে অনেক কিছু হবে। কিন্তু এখানকার সাংসদ এবং বিধায়ক দু’জনেই বিজেপির। ডবল ইঞ্জিন সরকারের কী সুবিধা আপনারা পেয়েছেন? আমরা ১২ কোটি টাকারও বেশি ব্যয়ে প্রায় ৬৪টি রাস্তা এবং ৩৯ কিলোমিটারেরও বেশি রাস্তা তৈরি করেছি। এই বিধানসভা কেন্দ্র থেকে ১৫ হাজার ৬১৭ জনযুবসাথীর সুবিধা পাচ্ছেন।’
রাজনৈতিক মহলের দাবি, বিজেপির এই উত্থানের অন্যতম কারণ ছিল মতুয়া ভোটব্যাঙ্ক। এই কেন্দ্রে প্রায় ৩০ শতাংশের কাছাকাছি মতুয়া ভোট রয়েছে। পাশাপাশি বামের ভোট রামে যাওয়ার প্রবণতা দেখা গিয়েছে বিগত কয়েকটি নির্বাচনে। এবার বাতিল ভোটারদের মধ্যে একটা বড় অংশ মতুয়া বলে মনে করা হচ্ছে। সেক্ষেত্রে গড় ধরে রাখা বিজেপির পক্ষে বেশ চ্যালেঞ্জিং বলে রাজনৈতিক মহলের মত।
পরিসংখ্যান বলছে, ২০১৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে রানাঘাট উত্তর-পশ্চিম কেন্দ্রে বাম-কংগ্রেস যৌথভাবে ৫২ শতাংশ ভোট পায়। সেই সঙ্গে আসনটি তৃণমূলের হাতছাড়া হয়। তখন এই কেন্দ্রে বিজেপির ভোট ছিল মাত্র পাঁচ শতাংশ। ২০১৯ সালের লোকসভা নির্বাচনে সেটাই ঘুরে গিয়ে, বিজেপি ঝুলিতে যায় ৫৫ শতাংশ ভোট এবং সিপিএম পায় ৭ শতাংশ ভোট। একুশের বিধানসভা নির্বাচনেও বিজেপি ৫১ শতাংশ এবং কংগ্রেস ৫ শতাংশ ভোট পায়। চব্বিশের লোকসভা নির্বাচনে এই কেন্দ্রে বিজেপি ৫২ শতাংশ এবং সিপিএম ৮ শতাংশ ভোট পায়।
পাশাপাশি এই কেন্দ্রেই ১৫ হাজার বিচারাধীন ভোটারের মধ্যে ১৪ হাজার ভোটারের নাম বাদ গিয়েছে। খসড়া তালিকা, চূড়ান্ত তালিকা এবং সাপ্লিমেন্টারি তালিকা মিলিয়ে নাম বাদ যাওয়া ভোট ভোটারের সংখ্যা প্রায় ৩৬ হাজারের কাছাকাছি।বিজেপি প্রার্থী পার্থসারথি চট্টোপাধ্যায় বলেন, ‘মানুষকে নাগরিকত্ব দেওয়ার কোনো অধিকার নেই তৃণমূলের। এই শংসাপত্র কেন্দ্র সরকার দেয়। নাম বাদ গেলেও খুব বেশি সমস্যা হবে না।’