সংবাদদাতা, বনগাঁ: অন্যের হয়ে চাকরির পরীক্ষা দিতে আসা দুই ভুয়ো পরীক্ষার্থীকে চার বছর কারাদণ্ডের সাজা দিল আদালত। বুধবার উত্তর ২৪ পরগনার বনগাঁ মহকুমা আদালতের বিচারক দেবাশিস পাঁজা ওই আদেশ দিয়েছেন। ওই দুই ভুয়ো পরীক্ষার্থীর নাম সর্দার মহম্মদ মেহেতা (৩১) ও উজ্জ্বল দরানি (৩০)। একজনের বাড়ি দক্ষিণ ২৪ পরগনা, অন্যজনের বাড়ি নদীয়ায়। বিচারক ওই সাজার সঙ্গে দশ হাজার টাকা জরিমানা, অনাদায়ে ছয় মাসের হাজতবাসের নির্দেশ দেন। অন্যান্য একাধিক অপরাধেও ওই দুই অপরাধীর পৃথক পৃথক সাজা হয়। তবে আদালতের মন্তব্য, সমস্ত সাজাই একই সঙ্গে চলবে। এই মামলায় সাক্ষ্যপ্রমাণের অভাবে এক অভিযুক্তকে আদালত বেকসুর খালাস করে। মঙ্গলবার জামিনে থাকা দুই অভিযুক্তকে বিচারক প্রতারণা ও জালিয়াতির অপরাধে দোষী সাব্যস্ত করেন। বুধবার সাজা ঘোষণার আগে বিচারক অপরাধীর বক্তব্য জানতে চান। তার উত্তরে ওই দুই যুবক বলে, ভুল হয়ে গেছে। তাদের যেন কম সাজা দেওয়া হয়। আর কোনও দিন এই ধরনের কাজ হবে না। বাড়িতে বাবামা আছে। এরপরই বিচারক সাজা ঘোষণা করেন। রায় শুনে কান্নায় ভেঙে পড়ে দুই যুবক।
আদালত সূত্রে জানা গিয়েছে, ২০১৮ সালে পুলিসে চাকরির পরীক্ষা হয়। উত্তর ২৪ পরগনার গাইঘাটার একটি কেন্দ্রে সাজাপ্রাপ্ত দুই যুবক অন্যের হয়ে পরীক্ষা দিতে আসে। পরীক্ষা হলে ঢুকতে গেলে সন্দেহ হওয়ায় পুলিস তাদের আটকায়। পরীক্ষার অ্যাডমিট কার্ডের সঙ্গে পরীক্ষার্থীদের মিল না থাকায় পুলিস জেরা শুরু করে। নথিপত্র পরীক্ষা করে পুলিস জানতে পারে, ওই দুই যুবক অন্যের হয়ে পরীক্ষা দিতে এসেছে। সুনির্দিষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতে জালিয়াতি সহ একাধিক মামলায় ধৃতদের বিরুদ্ধে মামলা রুজু করে পুলিস। দু’মাস জেল হেফাজতে থাকার পর জামিনে মুক্ত ছিল অভিযুক্তরা।
মামলার বিশেষ সরকারি আইনজীবী সমীর দাস বলেন, দেরিতে হলেও অপরাধীরা সাজাপ্রাপ্ত হয়েছে, এটাই স্বস্তির বিষয়। দোষী পক্ষের আইনজীবী জয়দেব হালদার বলেন, এই রায়ের বিরুদ্ধে আমরা শীঘ্রই উচ্চ আদালতে যাব।



