সংবাদদাতা, রামপুরহাট: এক যুগ ধরে বেহাল একটি সেতু কীভাবে অপরাধের আঁতুড়ঘর হয়ে উঠতে পারে, তার জ্বলন্ত উদাহরণ রামপুরহাটের কুসুমদই ও নারায়ণপুর গ্রামের মাঝের ক্যানেলের ওপরের ব্রিজটি। রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে ওই কংক্রিটের সেতুটি বর্তমানে মরণফাঁদে পরিণত হয়েছে। সেই সুযোগকে কাজে লাগিয়ে একের পর এক অপরাধ করে চলছিল একটি গ্যাং। অবশেষে সেই গ্যাংয়ের দুই সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
ধৃতদের নাম রেন্টু শেখ ওরফে খোদারাক্ষা এবং রাহুল শেখ ওরফে ওবেদুর রহমান। দুজনেরই বাড়ি নলহাটি থানার হরিষড়া গ্রামে। রবিবার রাতে রানিগঞ্জ-মোড়গ্রাম ১৪ নম্বর জাতীয় সড়কের নলহাটির তেজহাটি মোড় থেকে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। রামপুরহাট আদালতের নির্দেশে ধৃতদের পাঁচদিনের পুলিশ হেফাজতে হয়েছে।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, গত ২৯ নভেম্বর ভোরে রামপুরহাটের বৈধরা গ্রামের বাসিন্দা, বছর পঞ্চান্নর ক্যান্সারাক্রান্ত সন্ধ্যা ঘোষ চিকিৎসার জন্য কলকাতায় যাচ্ছিলেন। রামপুরহাট স্টেশন থেকে ট্রেন ধরার জন্য টোটোয় চড়ে কুসুমদই গ্রামের মুখে ওই ভাঙা সেতুর কাছে পৌঁছতেই ৮ জনের একটি মুখঢাকা দুষ্কৃতী দল আচমকা পথ আটকায়।
অভিযোগ, দুষ্কৃতীরা প্রথমে টোটো চালক পার্থ সরকারকে বেধড়ক মারধর করে। এরপর অসুস্থ সন্ধ্যাদেবীর কানের দুল, নাকছাবি ও নগদ ৫ হাজার টাকা ছিনিয়ে নেয়। বাধা দিলে প্রৌঢ়ার পায়ে ধারালো অস্ত্রের কোপ মারে ও লাঠিপেটা করে। গুরুতর জখম সন্ধ্যাদেবীকে দীর্ঘদিন রামপুরহাট মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি থাকতে হয়। এই ঘটনার পরেই এলাকার নিরাপত্তা ও সেতুটি দ্রুত সংস্কারের দাবি জানিয়ে ক্ষোভে ফেটে পড়েন স্থানীয় বাসিন্দারা।
তদন্তে নেমে পুলিশের প্রাথমিক অনুমান, এই রাস্তায় ঘটা অধিকাংশ অপরাধের পিছনে এই গ্যাংটিই রয়েছে। গত বছরের ৩০ জুন ঠিক একই কায়দায় হাসপাতালে যাওয়ার পথে রাস্তায় গাছের ডাল ফেলে অ্যাম্বুলেন্স আটকে কুসুমদই গ্রামের এক প্রসূতি পায়েল মাল ও তাঁর আত্মীয়দের ওপর ধারালো অস্ত্র নিয়ে চড়াও হয় ছজনের একটি দুষ্কৃতী দল। ওই একই রাস্তায় রাতের অন্ধকারে নয়ন শেখ নামে এক ইট ব্যবসায়ীকে লক্ষ্য করে গুলি চালানোর অভিযোগ ওঠে দুষ্কৃতীদের বিরুদ্ধে।
পুলিশ জানিয়েছে, ধৃতদের জেরা করে এই গ্যাংয়ের বাকি সদস্যদের নাম এবং অতীতে ঘটা একাধিক ছিনতাই ও নাশকতামূলক ঘটনার কিনারা করার চেষ্টা চলছে। এই গ্যাংয়ের বাকি সদস্যদের নাগাল পেতে তল্লাশি অভিযান চলছে।



