নিজস্ব প্রতিনিধি, বরানগর: তোলাবাজি, মারধর, হুমকি, অবৈধ নির্মাণ, পুকুর ভরাটসহ একাধিক অভিযোগে গ্রেপ্তার হয়েছেন পানিহাটির দুই কাউন্সিলার। তার একদিন পরই পদত্যাগ করলেন তৃণমূলের আট কাউন্সিলার। সূত্রের খবর, পুরসভার চেয়ারম্যানও পদত্যাগ করতে পারেন। অন্যদিকে, তৃণমূলের ১১ কাউন্সিলার পুরসভায় বসে পদত্যাগ না করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। এই চূড়ান্ত রাজনৈতিক ডামাডোলের আবহে শহরে নাগরিক পরিষেবা নিয়ে হাজারো প্রশ্ন তৈরি হয়েছে।
পানিহাটি পুরসভার মোট কাউন্সিলার ৩৫ জন। তারমধ্যে বাম ও কংগ্রেসের মোট দু’জন কাউন্সিলার ছাড়া বাকি ৩৩ জন তৃণমূলের। গত ১০ দিন আগে পানিহাটির ২৩ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলার তথা তৃণমূলের পূর্ব পানিহাটির সভাপতি সম্রাট চক্রবর্তী পদত্যাগ করেছিলেন। সেই পথ ধরে তিন নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলার ঝর্ণা চক্রবর্তীও পদত্যাগ করেছিলেন। কিন্তু বাকি কাউন্সিলার বা চেয়ারম্যান পদত্যাগ করেননি। কার্যত খুঁড়িয়ে খুঁড়িয়ে চলছিল পুরসভা। মারধর, তোলাবাজি সহ বিভিন্ন অভিযোগে রবিবার পুরসভার ১৩ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলার জয়ন্ত দাস ওরফে গোবিন্দ ও ৩২ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলার শম্ভুনাথ চন্দ ওরফে সনু গ্রেপ্তার হতেই কাউন্সিলারদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়ায়।
এরপর পশ্চিম পানিহাটি তৃণমূল কংগ্রেসের সভাপতি প্রবীর ভট্টাচার্য কাউন্সিলারদের ফোন করে পদত্যগ করার কথা বলেন। তাতে আট কাউন্সিলার রাজি হন। সেইমতো সোমবার বারাকপুর মহকুমা শাসকের অফিসে তাঁরা পদত্যাগপত্র জমা দেন। প্রবীরবাবু বলেন, কাজ করতে না পারলে পদ আঁকড়ে থেকে লাভ নেই। তাছাড়া নতুন সরকার বিপুল জনাদেশ পেয়েছে। তাঁকে সম্মান জানিয়ে পদত্যাগ করেছি। আমি ছাড়াও ৯, ১৫, ১৬, ১৮, ২০, ২৩, ২৪ ও ৩৪ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলার এদিন পদত্যাগ করেছেন। অন্যদিকে, এদিন পুরসভায় হাজির ছিলেন না চেয়ারম্যান সোমনাথ দে। সূত্রের খবর, তিনিও পদত্যাগ করার ইচ্ছে প্রকাশ করেছেন। তবে এদিন চেয়ারম্যানের অনুপস্থিতিতে তাঁর ঘরে পুরসভার ভাইস চেয়ারম্যান সুভাষ চক্রবর্তী বৈঠকে বসেন। সুভাষবাবু বলেন, এদিন আমরা ১১ জন কাউন্সিলার বৈঠকে বসেছিলাম। আমরা পদত্যাগ না করার সিদ্ধান্ত নিয়েছি। মিথ্যে কেস দিক, মাথায় বন্দুক ধরুক, মেরে ফেলুক তবুও আমরা পদত্যাগ করব না। মানুষ আমাদের জিতিয়েছেন। আমরা শেষদিন পর্যন্ত পরিষেবা দেওয়ার চেষ্টা করব। এই আবহে পুরসভা জুড়ে বেহাল নাগরিক পরিষেবা কার্যত ভেঙে পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। অন্যদিকে, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে চিঠি দিয়ে দলত্যাগের কথা জানিয়েছে কামারহাটির বর্ষীয়ান তৃণমূল নেতা রতন চক্রবর্তী। তিনি এদিন বিধায়ক মদন মিত্রের বিরুদ্ধে ক্ষোভ উগরে দেন।