নিজস্ব প্রতিনিধি, সিউড়ি: ভারী বৃষ্টিপাত হয়েছে ঝাড়খণ্ডে। সেইসঙ্গে রবিবার রাতেও দুবরাজপুরে মুষলধারে বৃষ্টি হয়। এই পরিস্থিতিতে শাল নদীর জলস্তর এক লাফে অনেকটাই বৃদ্ধি পেয়েছে। ঘটনায় সোমবার সকালে দুবরাজপুর ব্লকের বালিজুড়ি পঞ্চায়েত এলাকার পৃথক দু’টি কজওয়ে জলমগ্ন হয়ে পড়েছে। একটি কজওয়ের উপর দিয়ে কোমর সমান জল বইছে। অন্য কজওয়ের উপরে হাঁটুসমান জল। সেইসঙ্গে মেজে গ্রাম থেকে বনকাটি গ্রাম পর্যন্ত যাওয়ার রাস্তার একাংশও নদীর জলে ডুবে রয়েছে। এই পরিস্থিতিতে দশটির অধিক গ্রামের বাসিন্দারা যথেষ্ট বিপাকে পড়েছেন। কজওয়ে জলমগ্ন হয়ে থাকায় গ্রামবাসীদের ঘুরপথে চলাচল করতে হচ্ছে। দুর্ঘটনা এড়াতে নজরদারি চালাচ্ছে পুলিস।
বিডিও রাজা আদক বলেন, ভারী বৃষ্টিপাতের জেরে দু’টি কজওয়ে ডুবে গিয়েছে। ওই কজওয়ে দু’টি দিয়ে যান চলাচল পুরোপুরি বন্ধ রয়েছে। কেউ যাতে ঝুঁকি নিয়ে পারাপার না করে সেদিকেও নজর রাখা হচ্ছে। জলস্তর না কমা পর্যন্ত ওই কজওয়ে দু’টি দিয়ে যান চলাচল বন্ধ থাকবে।
চলতি বর্ষার মরশুমের শুরুতেই একটানা ভারী বৃষ্টিপাতের জেরে বালিজুরি পঞ্চায়েতের বেলসাড়া ও মেজে গ্রামের মাঝে থাকা শাল নদীর কজওয়ে জলমগ্ন হয়ে উঠেছিল। সেইসঙ্গে চণ্ডীপুর ও কুখুটিয়া গ্রামের সংযোগকারী কজওয়েও নদীর জলে ডুবে রয়েছে। সাময়িকভাবে ওই পথে যান চলাচল বন্ধ থাকলেও পরবর্তীতে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়। তবে একরাতের বৃষ্টিতে এদিন সকালে শাল নদীর জলস্তর আবারও আচমকাই বৃদ্ধি পেতেই নতুন করে বিপত্তি বাড়ল। ফের পৃথক দু’টি কজওয়ে জলমগ্ন হয়ে পড়েছে।
প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, বেলসাড়া ও মেজে গ্রামের সংযোগকারী কজওয়ের উপর দিয়ে এদিন সকাল থেকেই কোমর সমান জল বইছে। সেইসঙ্গে মেজে গ্রাম থেকে বনকাটি যাওয়ার রাস্তার একাংশও নদীর জলে ডুবে রয়েছে। তার জেরে কমবেশি ১০টি গ্রামের বাসিন্দারা বিপাকে পড়েছেন। ঘুরপথে চলাচল করতে হচ্ছে গ্রামের বাসিন্দাদের।
অন্যদিকে, চণ্ডীপুর ও কুখুটিয়া গ্রামের মাঝে শাল নদীর উপর কজওয়ে জলমগ্ন হয়ে থাকায় দুবরাজপুরের সঙ্গে খয়রাশোলের যোগাযোগ ব্যবস্থাও একপ্রকার মুখ থুবড়ে পড়েছে। এই পরিস্থিতিতে নিরাপত্তার স্বার্থে পৃথক দু’টি কজওয়েতেই কড়া পুলিসি নজরদারি রয়েছে।
স্থানীয় কাঞ্চন পাল বলেন, এদিন সকালে আচমকাই কজওয়ে জলমগ্ন হয়ে পড়ায় সমস্যা যথেষ্টই বেড়েছে। পুলিস ও প্রশাসনের তরফে যান চলাচল পুরোপুরি বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। বাধ্য হয়ে ঘুরপথে চলাচল করতে হচ্ছে। মিলন মাহারা বলেন, আচমকাই এদিন সকালে কজওয়ে জলমগ্ন হয়ে পড়েছে। মূলত ঝাড়খণ্ডে ভারী বৃষ্টিপাতের জেরে এই সমস্যা দেখা দিয়েছে। আমরা খুবই সমস্যায় পড়েছি। দ্রুত এই সমস্যার স্থায়ী সমাধান প্রয়োজন।