নিজস্ব প্রতিনিধি, বিধাননগর: তৃণমূল কংগ্রেস নেতা অনুব্রত মণ্ডলকে গ্রেপ্তারের দাবিতে সল্টলেকে দলীয় বিক্ষোভ কর্মসূচি নিয়েছিল বিজেপি। কিন্তু শেষ পর্যন্ত সেই কর্মসূচি নিজেদের মধ্যে মারামারির ব্রততে রূপান্তরিত হয়। মঙ্গলবার সকালে সেখানে প্রকাশ্য রাস্তায় বিজেপির দুই গোষ্ঠীর মধ্যে ব্যাপক হাতাহাতি হয়। এমনকী, অন্য গোষ্ঠীর হাতে মার খেয়ে দলের মণ্ডল সভাপতি, যুব মোর্চার সভাপতি সহ বিজেপির চারজন কর্মকর্তা জখম হয়েছেন। হাসপাতালে তাঁদের প্রাথমিক চিকিৎসা করা হয়। থানায় না গিয়ে আক্রান্ত নেতারা অবশ্য বিষয়টি নিয়ে দলীয় নেতৃত্বের কাছে অভিযোগ জানিয়েছেন। বিষয়টি সামনে আসার পর দলীয় নেতৃত্ব বেজায় ক্ষুব্ধ। দলের এক জেলা নেতা বলেন, এই ধরনের ঘটনা একেবারেই কাম্য নয়। আলোচনা করে দল নিশ্চয় প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে।
বিজেপি সূত্রে জানা গিয়েছে, বিধাননগর মণ্ডলের পক্ষ থেকে এদিন সকাল ১১টা নাগাদ সল্টলেক করুণাময়ী মোড়ে এই বিক্ষোভ কর্মসূচি নেওয়া হয়েছিল। তার জন্য নেতা-কর্মীরা একটু দূরে জমায়েত হচ্ছিলেন। বিধাননগরে বিজেপির চারটি মণ্ডল রয়েছে। প্রতিটি মণ্ডল থেকেই লোকজন আসছিলেন। ততক্ষণে হাজির হয়েছিলেন, বিধাননগর-২ মণ্ডলের সভাপতি কৌশিক বিশ্বাস, বিধাননগর-৪ মণ্ডলের সভাপতি অতীশ দীপঙ্কর দত্ত, বিধাননগর-২ মণ্ডলের যুব মোর্চার সভাপতি প্রশান্ত দেবনাথ সহ অনেকেই। তাঁদের সঙ্গে বিজেপির কর্মকর্তা পীযূষ কানোরিয়ার অনেকদিন ধরেই অন্তর্দ্বন্দ্ব চলছে।
এদিনের কর্মসূচিতে দলবল নিয়ে হাজির হন পীষূষ কানোরিয়াও। অভিযোগ, তারপরই তাঁর অনুগামীদের সঙ্গে অতীশ দীপঙ্কর, প্রশান্ত, কৌশিকদের প্রথমে বচসা শুরু হয়। তারপরই দু’পক্ষের মধ্যে হাতাহাতি শুরু হয়ে যায়। নেতাদের মারামারি করতে দেখে দলের কর্মীরা হকচকিয়ে যান। ২ নম্বর মণ্ডল সভাপতি কৌশিক বিশ্বাসকে সজোরে ধাক্কা দেওয়া হয়। তবে, ৪ নম্বর মণ্ডল সভাপতি অতীশ দীপঙ্কর দত্ত ও ২ মণ্ডলের যুব মোর্চার সভাপতি প্রশান্ত দেবনাথ সহ চারজনকে ব্যাপক মারধর করা হয়েছে বলে অভিযোগ। ওই চারজনকে জখম অবস্থায় স্থানীয় হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল। প্রাথমিক চিকিৎসার পর তাঁদের ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। দলীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, কিছুদিন আগে দলের কর্মীদের হাতেই আক্রান্ত হয়েছিলেন ৪ নম্বর মণ্ডল সভাপতি। তা নিয়েও দলের কাছে অভিযোগ জমা পড়েছে। এবার তিনি দ্বিতীয়বার আক্রান্ত হলেন।
এদিনের গণ্ডগোল প্রসঙ্গে বিজেপির বিধাননগর ২ মণ্ডল সভাপতি কৌশিক বলেন, কর্মসূচি শুরুর মুখে আমরা এক জায়গায় জমায়েত হয়েছিলাম। তখনই একটি ভুল বোঝাবুঝি থেকে হাতাহাতি পর্যন্ত গড়ায়। ৪ জন কর্মকর্তা জখম হয়েছেন। আমরা পুরো বিষয়টি নিয়ে দলের কাছে লিখিত অভিযোগ জানিয়েছি। অপরদিকে, বিজেপির পীযূষ কানোরিয়া জানান, দলীয় কর্মসূচিতে বিধাননগর মণ্ডলের আহ্বানেই আমি সেখানে গিয়েছিলাম। কয়েকজন উত্তেজিত হয়ে একটু গণ্ডগোল করেছিল। আমরা বিষয়টি মিটিয়ে নিয়েছি।



