নিজস্ব প্রতিনিধি, তমলুক: আট বছরের বেশি সময় এগরা সুপার স্পেশালিটি হাসপাতালে কর্মরত ছিলেন দুই অ্যাসিস্ট্যান্ট সুপার(নন মেডিক্যাল) সন্দীপ বেরা ও অনুপম জানা। তাঁদের বিরুদ্ধে বেশকিছু অভিযোগ ছিল। গত ৩১জুলাই স্বাস্থ্যমন্ত্রী শারদ্বত মুখোপাধ্যায় ওই হাসপাতাল পরিদর্শনে গিয়ে দু’জনকে ভর্ৎসনা করেছিলেন। তাঁদের সাসপেন্ড করার নির্দেশও দিয়েছিলেন। পরবর্তী সময়ে দু’জনকে শোকজ করেন মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিক বিভাস রায়। তারপর বুধবার স্বাস্থ্যভবন থেকে ওই দুই সুপারকে উত্তরবঙ্গে বদলি করা হল। অনুপমকে জলপাইগুড়ির মাল মহকুমা হাসপাতালে এবং সন্দীপ বেরাকে আলিপুরদুয়ারের ফলাকাটা সুপার স্পেশালিটি হাসপাতালে বদলি করা হয়েছে। এদিন ওই নির্দেশিকার কপি আসতেই হাসপাতালের কর্মীদের বড় অংশ সন্তোষ প্রকাশ করে।
এগরা সুপার স্পেশালিটি হাসপাতালের রোগী কল্যাণ সমিতির চেয়ারম্যান তথা বিধায়ক দিব্যেন্দু অধিকারী বলেন, দুই অ্যাসিস্ট্যান্ট সুপারকে নিয়ে বেশকিছু অভিযোগ ছিল। বুধবার তাঁদের বদলি করা হয়েছে বলে জেনেছি।
জানা গিয়েছে, কলকাতার লেডি ডাফরিন ভিক্টোরিয়া হাসপাতাল থেকে ডেপুটি সুপার(নন মেডিক্যাল) লোপামুদ্রা রায় এবং মালদহের চাঁচল মহকুমা হাসপাতাল থেকে অ্যাসিস্ট্যান্ট সুপার(নন মেডিক্যাল) ত্রিদিব মাইতি এগরা সুপার স্পেশালিটিতে যোগ দেবেন। এগরার পাশাপাশি তমলুক মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের তিনজন অ্যাসিস্ট্যান্ট সুপারও দীর্ঘ কয়েক বছর বাদে বদলি হয়েছেন। এদিন দুপুরেই ওই বদলির নির্দেশিকা আসে।
উল্লেখ্য, গত ৩১জুলাই স্বাস্থ্যমন্ত্রী শারদ্বত মুখোপাধ্যায় এগরা সুপার স্পেশালিটি হাসপাতাল ভিজিটে যান। সেখানে সেকেন্ড ফ্লোরে একসঙ্গে চারটি ঘর পিডব্লুডি(ইলেক্ট্রিক্যাল) বিভাগের দখলে থাকায় ক্ষুব্ধ হন মন্ত্রী। এছাড়াও প্রয়োজনের অতিরিক্ত অ্যাম্বুলেন্স ওই হাসপাতালে ছিল। হাসপাতাল চত্বর ঠিকমতো পরিষ্কার ছিল না। অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা থাকা ঘরের দরজা আটকে আসবাবপত্র থাকায় মন্ত্রী প্রচণ্ড ক্ষুব্ধ হন। স্থানীয়রা নানা অভিযোগ তোলায় ক্ষুব্ধ রাজ্যের স্বাস্থ্যমন্ত্রী দুই অ্যাসিস্ট্যান্ট সুপারকে ভর্ৎসনা করেন। সেইসঙ্গে নার্সিং সুপারকেও সতর্ক করা হয়। পরবর্তীতে তিনজনকেই শোকজ করেন সিএমওএইচ।
ভিজিট শেষে স্বাস্থ্যমন্ত্রী জানিয়েছিলেন, এগরা সুপার স্পেশালিটির পুরনো স্টাফদের বদলি করে হাসপাতালকে নতুনভাবে গড়ে তোলা হবে। বুধবার থেকে সেই কাজ শুরু হল বলে মনে করা হচ্ছে। সম্প্রতি রোগী কল্যাণ সমিতির চেয়ারম্যান দিব্যেন্দু অধিকারী এবং এগরার মহকুমা শাসক কর্মবীর কেশব হাসপাতাল ভিজিটে যান। বাথরুম থেকে ওয়ার্ডে নোংরা, পরিচ্ছন্নতা নিয়ে ক্ষোভ উগরে দিয়েছিলেন। এগরা সুপার স্পেশালিটি নিয়ে বারবার অভিযোগ ওঠার জেরেই দুই অ্যাসিস্ট্যান্ট সুপারকে(নন মেডিক্যাল) শাস্তিমূলক বদলি হিসেবে উত্তরবঙ্গে পাঠানো হল বলে ওয়াকিবহাল মহল মনে করছে।