সংবাদদাতা, রামপুরহাট: সামনেই কৌশিকী অমাবস্যায় তারাপীঠে ভিড় জমাবেন লক্ষ লক্ষ পুণ্যার্থী ও পর্যটক। তার ঠিক আগেই খাবারের গুণমান ও স্বাস্থ্যবিধি বজায় রাখতে ময়দানে নামল বীরভূম জেলা প্রশাসন। সেফটি অডিটের পর এবার তারাপীঠ ও নলহাটি শহরে একযোগে অভিযান চালাল খাদ্যসুরক্ষা দপ্তর। একাধিক হোটেল, রেস্তরাঁ ও মিষ্টির দোকানে চরম অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ ও খাবারে ভেজালের চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে এসেছে। নলহাটির একটি বেকারি ও একটি হোটেল বন্ধ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
এদিন সকালে নলহাটি শহরের একাধিক মিষ্টির দোকান, তেলেভাজা, বেকারি ও মুদিখানায় হানা দেন আধিকারিকরা। সেখানে দেখা যায়, মিষ্টি ও ঘুগনিতে অবাধে ব্যবহার করা হচ্ছে ক্ষতিকারক কৃত্রিম রং, মুদি দোকানে বিক্রি হচ্ছে নকল হলুদ এবং শিশুদের জন্য রাখা হয়েছে মেয়াদ উত্তীর্ণ প্যাকেটজাত দুধ। এছাড়া লাইসেন্স ছাড়া বেআইনিভাবে চলায় নলহাটির একটি হোটেল ও বেকারি বন্ধ করার নির্দেশ দেওয়া হয়।
এদিন বিকেলে তারাপীঠে মহকুমাশাসক অশ্বিন বি রাঠোর এবং মহকুমা পুলিশ আধিকারিককে সঙ্গে নিয়ে অভিযান চালায় খাদ্যসুরক্ষা দপ্তর। নামী-হোটেল ও রেস্তরাঁ ঘুরে আধিকারিকদের চোখ কপালে ওঠার জোগাড় হয়। দেখা যায়, কয়েকদিনের পুরনো রান্না করা খাবার, কাঁচা মাছ-মাংস অপরিষ্কার ফ্রিজে মজুত রাখা রয়েছে। বারবার ব্যবহারের ফলে রান্নার তেল অস্বাস্থ্যকর হয়ে গিয়েছে। ব্যবহারের জল অত্যন্ত ঘোলা এবং হলুদে রাসায়নিক মেশাতেই তা লাল হয়ে যাচ্ছে। বিরিয়ানির আলুতে মেশানো হচ্ছে ক্ষতিকারক রাসায়নিক রং। অভিযান চলাকালীন অস্বাস্থ্যকর ও বিষাক্ত সমস্ত খাবার ডাস্টবিনে ফেলে সঙ্গে সঙ্গে নষ্ট করে দেওয়া হয়। ব্যবসায়ীদের চরম হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে।
মহকুমা শাসক অশ্বিন বি রাঠোর বলেন, কৌশিকী অমাবস্যায় আগত ভক্তরা যাতে খাবার খেয়ে অসুস্থ না হয়ে পড়েন তা নিশ্চিত করাই আমাদের লক্ষ্য। প্রশাসন কঠোর পদক্ষেপ নিতে চায় না, তবে আমাদের যেন বাধ্য না করা হয়। হাইজিন ও খাবারের মান বজায় না রাখলে কৌশিকী অমাবস্যার আগেই হোটেল ও রেস্তোরাঁ বন্ধ করে দেওয়া হবে। যাদের ফুড লাইসেন্স নেই দ্রুত তা করিয়ে নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হচ্ছে। প্রশাসনের এই কড়া অভিযানে অসাধু ব্যবসায়ীদের মধ্যে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে, তেমনই কিছুটা স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলছেন সাধারণ মানুষ ও পুণ্যার্থীরা।