নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: দীর্ঘদিনের পরিচয়। প্রেমের সম্পর্ক থেকেই লিভ-ইনে থাকতেন তাঁরা। শনিবার ভোরে তিলজলার ফ্ল্যাট থেকে তরুণীর ঝুলন্ত দেহ উদ্ধারের ঘটনায় চাঞ্চল্য ছড়ায়। মৃত্যুর প্রায় তিন ঘণ্টা পরে তরুণীকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ উঠেছে লিভ-ইন সঙ্গীর বিরুদ্ধে। রহস্য আরও ঘনীভূত হয় হাসপাতাল থেকে যুবকের আচমকা বেপাত্তা হওয়ার ঘটনায়। মৃতার দাদার অভিযোগের ভিত্তিতে লিভ-ইন পার্টনার ও তাঁর গাড়িচালকের বিরুদ্ধে খুনের মামলা রুজু করেছে তিলজলা থানার পুলিশ। রবিবার সকালে অভিযুক্ত দু’জনকে গ্রেপ্তার করেছেন তদন্তকারীরা। লালবাজার সূত্রে খবর, ধৃত দুই অভিযুক্তের নাম রাজা ওয়াসিম হোসেন ও মহম্মদ শাহিদ।
পুলিশ জানিয়েছে, মৃত তরুণীর নাম চম্পা সেনাপতি (২৬)। তিনি ওড়িশার কুজাঙ্গা থানা এলাকার বাবলাবাঁধার বাসিন্দা। কলকাতার এক পানশালায় নর্তকীর কাজ করতেন। সেখানেই পানশালার কর্মী রাজা ওয়াসিম হোসেনের সঙ্গে আলাপ হয় চম্পার। বছর পাঁচেকের পরিচয়। ক্রমে তাঁদের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। তিলজলা থানা এলাকার পিকনিক গার্ডেন রোডের একটি ফ্ল্যাটে লিভ-ইন করতেন তাঁরা। বছর দু’য়েক আগে তাঁরা একটি পানশালা কেনেন। দু’জনের মিলিত মূলধনে শুরু হয় ব্যবসা। লভ্যাংশ দু’জনেই ভাগ করে নিতেন। সম্প্রতি তাঁদের সম্পর্কে চিড় ধরে। প্রাথমিক তদন্তে পুলিশ জেনেছে, গত কয়েকদিন ধরে তিলজলার ফ্ল্যাটে থাকছিলেন না রাজা। ১৫ আগস্ট ভোর ৩টে নাগাদ চম্পার দাদা রঞ্জন সেনাপতিকে ফোন করেন নর্তকীর এক বান্ধবী। ওই ফোনেই বোনের মৃত্যুসংবাদ পান দাদা।
রঞ্জন বলেন, ১৩ আগস্ট শেষবার বোনের সঙ্গে তাঁর ফোনে কথা হয়েছিল। তারপর থেকে একাধিকবার ফোন করলেও সুইচড অফ পাওয়া যায়। তাঁকে বলা হয়, চম্পার দেহ ফ্ল্যাটের ঘর থেকে ঝুলন্ত অবস্থায় পাওয়া গিয়েছে। তিনি সুইসাইড করেছেন। দ্রুত ওড়িশা থেকে কলকাতায় আসেন মৃতার দাদা। ন্যাশনাল মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালে পৌঁছনোর পর সন্দেহ দানা বাঁধে রঞ্জনের মনে। তাঁর কথায়, ভোর ৩টে নাগাদ ফোনে তিনি বোনের মৃত্যুসংবাদ পান। আর হাসপাতালের তথ্য বলছে, সকাল পৌঁনে ৬টা নাগাদ চম্পাকে ইমার্জেন্সিতে নিয়ে আসে তাঁর লিভ-ইন পার্টনার রাজা। তাঁর সঙ্গে ছিলেন গাড়িচালক মহম্মদ শাহিদ। কিন্তু, রঞ্জন যখন হাসপাতালে পৌঁছান, তার অনেক আগেই সেখান থেকে চম্পট দেয় ওই দু’জন। ফোনে মৃত্যুসংবাদ পাওয়ার সময় ও হাসপাতালে নিয়ে আসার মধ্যে তিন ঘণ্টার ফারাক রয়েছে। তা থেকেই মৃতার দাদার সন্দেহ, বোনকে গলায় দড়ির ফাঁস দিয়ে খুন করে ঝুলিয়ে দেওয়া হয়েছে। গলায় যে দাগ রয়েছে, তাতে খুন বলেই মনে করছেন অভিযোগকারী।
পুলিশ জানিয়েছে, মৃতার দেহের ময়নাতদন্ত করা হয়েছে। পূর্ণাঙ্গ রিপোর্ট এলে কীভাবে তাঁর মৃত্যু হয়েছে, তা স্পষ্ট হবে। এদিন ধৃতদের আলিপুর আদালতে পেশ করা হয়। সরকারি আইনজীবী শুভাশিস ভট্টাচার্য বলেন, ‘পুলিশ হেপাজতে নিয়ে অভিযুক্তদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে।’