নিজস্ব প্রতিনিধি, চুঁচুড়া: চুঁচুড়ায় যুবককে নৃশংস খুনের ঘটনায় দুই প্রতিবেশীকে গ্রেপ্তার করল পুলিস। সোমবার রাতেই তাদের আটক করা হয়েছিল। জেরার পর মঙ্গলবার সকালে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। মঙ্গলবার ধৃতদের আদালতে তুললে বিচারক ১০ দিনের পুলিস হেফাজতের নির্দেশ দিয়েছেন। চুঁচুড়া থানার পুলিস জানিয়েছে, ধৃত যুবকদের নাম রোহিত সাউ ওরফে ভুতো এবং বাপ্পা কর্মকার ওরফে শুভ। দু’জনেই চুঁচুড়ার লোহারপাড়ার বাসিন্দা। নিহত সঞ্জয় রাজবংশীও ওই এলাকার বাসিন্দা ছিলেন। প্রাথমিক তদন্তের পর পুলিসের দাবি, শুভ ও ভুতো, দু’জনেই সঞ্জয়ের ঘনিষ্ঠ ছিল। তারা একসঙ্গেই ওঠাবসা করত। আবার এই দু’জনেই সঞ্জয়ের খুনের সঙ্গে প্রত্যক্ষভাবে যুক্ত। তবে ঠিক কী কারণে খুন, সেই প্রশ্নের উত্তর এখনও মেলেনি।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক চন্দননগর পুলিস কমিশনাটের এক কর্তা বলেন, আমরা নির্দিষ্ট কিছু প্রমাণ পেয়েছি। ধৃতরা জেরায় অসংলগ্ন কথাবার্তা বলেছে। পাশাপাশি নির্দিষ্ট কিছু তথ্যও মিলেছে। তাদের আরও জিজ্ঞাসাবাদ করা প্রয়োজন। এই ঘটনায় আরও কেউ যুক্ত কি না, কেমন করে খুন, কী কারণে খুন, সেসব তথ্য দ্রুত বেরিয়ে আসবে। তবে ওই কর্তার দাবি, পুরনো শত্রুতার জেরেই সম্ভবত এই ঘটনা। সবটাই খতিয়ে দেখা হচ্ছে। মঙ্গলবার আদালতে যাওয়ার পথে শুভ ও ভুতো বলে, আমরা সঞ্জয়কে খুন করিনি। মিথ্যা মামলায় আমাদের ফাঁসানো হয়েছে। মৃতের মা লক্ষ্মীদেবী বলেন, ওরা আমার ছেলের পরিচিত। তবে ওরা কী করেছে, আমি জানি না। পুলিস তদন্ত করে প্রকৃত সত্য সামনে আনবে। আমার ছেলেকে যারা নৃশংসভাবে মেরেছে, তাদের শাস্তি চাই। রবিবার গভীর রাতে লোহারপাড়ায় নিজের বাড়ির কাছেই গুরুতর জখম অবস্থায় পাওয়া গিয়েছিল সঞ্জয় রাজবংশীকে। বছর সাতাশের ওই যুবকের মাথায় ও ঘাড়ে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কোপ মারা হয়েছিল। এক অজ্ঞাত পরিচয় ব্যক্তি রাতে সঞ্জয়ের মা’কে ঘুম থেকে তুলে ছেলে জখম হওয়ার খবর দিয়েছিলেন। তাৎপর্যপূর্ণভাবে, লক্ষ্মীদেবী বাড়ির বাইরে বেরিয়ে আসার আগেই ওই ব্যক্তি গায়েব হয়ে যায়। রাতে সঞ্জয়কে চুঁচুড়া ইমামবাড়া হাসপাতালে ভর্তি করা হলেও বাঁচানো যায়নি। -নিজস্ব চিত্র