


নিজস্ব প্রতিনিধি, বারাসত: এসআইআর পর্বে নাগরিকত্বের প্রশ্নে তুমুল বিভ্রান্তির মধ্যে আছে মতুয়া সমাজের বড়ো অংশ। নির্বাচন কমিশন প্রকাশিত প্রথম দফার চূড়ান্ত ভোটার তালিকা থেকে বাদ পড়েছে হাজার হাজার নাম। এই আবহে নাগরিকত্বের টোপ দিয়ে সাধারণ মানুষের থেকে টাকা তোলার অভিযোগ উঠল হাবড়ায়। অভিযোগ, নিজেকে বিজেপি কর্মী দাবি করে সিএএর মাধ্যমে নাগরিকত্ব পাইয়ে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে ৫০০ থেকে ৮০০ টাকা নেওয়া হচ্ছিল। রবিবার হাবড়া পুরসভার ৫ নম্বর ওয়ার্ডের ৩১ নম্বর রেলগেট এলাকায় এই ঘটনাকে ঘিরে উত্তেজনা ছড়ায়। হাবড়া থানার পুলিশ এসে দু’জনকে আটক করে।
জানা গিয়েছে, লিঙ্কন মণ্ডল নামে এক ব্যক্তি দোকানের সামনে ল্যাপটপ বসিয়ে কয়েকজনকে কাজে লাগান। যাঁদের ভোটার তালিকায় নাম নেই বা কাটা গিয়েছে, তাঁদের সিএএ’র মাধ্যমে নাগরিকত্বের আবেদন করে দেওয়া হবে বলে আশ্বাস দেওয়া হচ্ছিল। নাগরিকত্বের প্রক্রিয়া সম্পন্ন হলে ভোটার তালিকায় নাম তুলে দেওয়া হবে বলেও প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয় বলে অভিযোগ। সেই কাজের জন্য কারও কাছ থেকে ৮০০, কারও কাছ থেকে ৭০০ টাকা নেওয়া হয়েছে। স্থানীয়দের একাংশের দাবি, নাগরিকত্ব নিয়ে অনিশ্চয়তায় রয়েছেন বহু মানুষ। বিশেষ করে মতুয়া সম্প্রদায়। সিএএ’র মাধ্যমে তাঁদের নাগরিকত্বের সমস্যা মিটবে—এমন প্রতিশ্রুতি বিজেপির তরফে বারবার দেওয়া হয়েছে। কিন্তু বাস্তবে অনেকের নাম এখনও তালিকায় ওঠেনি বা বাতিল হয়েছে। ‘মতুয়াগড়’ বনগাঁয় উদ্বেগ সর্বাধিক। এই অবস্থায় নাগরিকত্বের প্রতিশ্রুতি দিয়ে টাকা তোলার অভিযোগ রাজনৈতিক বিতর্ক আরও জোরদার করল। ঘটনার খবর পেয়ে এলাকায় যান হাবড়া পুরসভার চেয়ারম্যান নারায়ণচন্দ্র সাহা ও স্থানীয় কাউন্সিলার শঙ্কর ঘোষ। তাঁদের উপস্থিতিতেই বিষয়টি নিয়ে উত্তেজনা ছড়ায়। স্থানীয় বাসিন্দা মনোতোষ গাইনের অভিযোগ, ‘নাগরিকত্বের কার্ড করে দেবে বলে আমার কাছ থেকে ৮০০ টাকা নিয়েছে।’ নিশা দেবনাথ নামে আর এক বাসিন্দার দাবি তেমনই। স্থানীয় কাউন্সিলার বলেন, ‘বিজেপির এক কর্মী ল্যাপটপ বসিয়ে সিএএর মাধ্যমে নাগরিকত্ব ও ভোটার তালিকায় নাম তুলে দেওয়ার কথা বলে টাকা নিচ্ছিল।’ হাবড়া পুরসভার চেয়ারম্যান বলেন, ‘সিএএর নামে মানুষকে প্রতারণা করা হচ্ছে।’ তবে অভিযুক্তরা দাবি করছেন, সিএএ’র আবেদনের জন্য এফিডেভিট করে দেওয়ার কাজ করছিলেন তাঁরা। টাকা নেওয়া হয়েছিল। এই ঘটনার সঙ্গে তাদের যোগ নেই বলে দাবি করেছেন বিজেপি নেতা দীপঙ্কর চক্রবর্তী। তাঁর অভিযোগ, ‘তৃণমূলই চক্রান্ত করে আমাদের নাম জড়াচ্ছে।’