Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

কাজ থেকে ফিরে ব্যবসায়ীর দেহ ব্যাগে ভরে দুই অভিযুক্ত

কাজ থেকে ফিরে ব্যবসায়ীর দেহ ব্যাগে ভরে দুই অভিযুক্ত
  • ১৩ মার্চ, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: পাওনা টাকা নিয়ে কথা বলতে ব্যবসায়ী ভগারাম দিওয়াসিকে মুক্তারাম বাবু স্ট্রিটে ডেকে পাঠায় দুই অভিযুক্ত কৃষ্ণপাল সিং  ও করণ সিং। ভগারাম সেখানে পৌঁছতেই শুরু হয় মারধর। এরপর তাঁকে মাদক মেশানো চা পান করতে বাধ্য করা হয়। অচৈতন্য হয়ে পড়লে গলার নলি কেটে দেওয়া হয়। খুনের তথ্যপ্রমাণ লোপাট করতে ঘরের রক্ত জল দিয়ে মুছে দেয় তারা। হাতে লেগে থাকা রক্ত ধুয়ে জামাকাপড় পাল্টে কাজে চলে যায়। ফিরে এসে দেহ স্ট্রলি ব্যাগে ভরে কোথাও ফেলে দেওয়ার জন্য বেরয় তারা। ধৃত কৃষ্ণরাম ও করণকে জেরা করেই এসব কথা জেনেছেন তদন্তকারীরা।

Advertisement

বারাকপুর কমিশনারেটের অফিসাররা তদন্তে নেমে জেনেছেন, কাপড়ের কারবারি ভগারামের সঙ্গে দুই অভিযুক্তের পরিচয় ব্যবসার সূত্রেই। তাঁরা তিনজনই রাজস্থানের বাসিন্দা হওয়ায় সহজে ঘনিষ্ঠতা গড়ে ওঠে। মুক্তারাম বাবু স্ট্রিটের যে বাড়িতে দুই অভিযুক্ত থাকত, সেটি তাদের এক পরিচিত ব্যবসায়ীই ভাড়া নিয়েছিলেন। বাড়ির মালিক অনিল জয়সওয়াল জানিয়েছেন, রমেশ প্রজাপতি তাঁর কাছ থেকে ঘরটি ভাড়া নেন। তাঁরই পার্টনার ছিল ওই দুই অভিযুক্ত। ভাড়া রমেশ মেটালেও ওই বাড়ি থেকে ব্যবসায়িক কাজকর্ম চালাত ওই দু’জন। ব্যবসার কাজে ভগারাম মুক্তারাম বাবু স্ট্রিটের ওই ঘরে আগেও এসেছেন। তিনি দুই অভিযুক্তের কাছ থেকে মালপত্র কিনেছিলেন। অভিযুক্তদের দাবি, সেই বাবদ তারা আট লক্ষ টাকা পেত ভগারামের কাছে। টাকা না মেটানোয় মঙ্গলবার কৃষ্ণপাল ফোন করে ভগারামকে ডেকে পাঠায়। ফোনে তারা আরও জানায়, ভগারামকে আরও মালপত্র দিতে তারা রাজি। 
পুলিস জেনেছে, মঙ্গলবার বেলা ১০টা নাগাদ তিনি সেখানে পৌঁছে ঘরে ঢুকতেই দু’পক্ষের ঝামেলা শুরু হয়ে যায়।  দরজা বন্ধ করে তাঁকে বেধড়ক মারধর করে অভিযুক্তরা। এরপর কৃষ্ণপাল মাদক মেশানো চা করে এনে জোর করে খাওয়ায় ভগারামকে। তিনি অচৈতন্য হয়ে পড়লে ঘরে থাকা একটি বড় ছুরি দিয়ে গলার নলি কাটে দু’জনে মিলে। টানা প্রায় ছ’ঘণ্টা ধরে চলে এই পর্ব। গোটা ঘর রক্তে ভাসছিল। তাদের জামাকপড়েও রক্ত লাগে।  তাই জল দিয়ে ঘরের মেঝে ভালো করে সাফাইয়ের পর বাথরুমে গিয়ে স্নান করে নেয় তারা। 
ধৃতরা তদন্তকারীদের আরও জানিয়েছে, বিকেল ৪টে থেকে ৫টার মধ্যে তারা খুন করেছে ওই ব্যবসায়ীকে। দেহ ব্যাগে ভরার পর ট্যাক্সি ধরে নাগেরবাজারে চলে যায় করণ। কৃষ্ণপাল দেহভর্তি স্ট্রলিব্যাগ নিয়ে ক্যাব বুক করে চলে আসে নাগেরবাজারে। সেখান থেকে দু’জন অন্য একটি ট্যাক্সি ধরে যায় কল্যাণী এক্সপ্রেসওয়েতে। মুক্তারাম বাবু স্ট্রিট থেকে যে ট্যাক্সি ধরে কৃষ্ণপাল গিয়েছিল, সেই গাড়িটির হদিশ পেতে সিসি ক্যামেরার ফুটেজ সংগ্রহ করছে বারাকপুর কমিশনারেট।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ