নিজস্ব প্রতিনিধি, আসানসোল ও সংবাদদাতা, দুর্গাপুর: দুর্গাপুরের বেসরকারি মেডিকেল কলেজের পড়ুয়াকে গণধর্ষণকাণ্ডে গ্রেফতার হওয়া দুই অভিযুক্ত রাজসাক্ষী হতে চেয়েছে বলে পুলিশ সূত্রে খবর। তদন্তকারী অফিসারের কাছে তারা ঘটনার যা বিবরণ দিয়েছে, তা বিচারকের কাছেও গোপন জবানবন্দি হিসেবে জানাতে চায় দুই অভিযুক্ত শেখ রিয়াজুদ্দিন ও সফিক শেখ। রবিবারই দুই অভিযুক্তকে দুর্গাপুর মহকুমা আদালতে তোলা হয়। তবে এদিন বিচারক না থাকায় গোপন জবানবন্দি নেওয়া যায়নি। সোমবার কালীপুজো। মঙ্গলবার ফের তাদের আদালতে তোলা হবে। ভারতীয় ন্যায় সংহিতার ১৮৩ ধারায় সেদিন যদি তারা গোপন জবানবন্দি দেয়, তাহলে রাজসাক্ষী হিসাবেই চিহ্নিত হবে দুই অভিযুক্ত। এই মামলায় রাজ্য সরকারের নিয়োগ করা বিশেষ সরকারি আইনজীবী বিভাস চট্টোপাধ্যায় বলেন, মঙ্গলবারের শুনানির পরই বিষয়টি নিয়ে কিছু বলা যাবে।
উল্লেখ্য, শুক্রবার ১০ অক্টোবর রাতে দুর্গাপুরের শোভাপুরে বেসরকারি মেডিকেল কলেজের পড়ুয়াকে গণধর্ষণের অভিযোগ ওঠে। পুলিশ দফায় দফায় মোট ছ’জনকে গ্রেপ্তার করে। প্রথমে গ্রেফতার হয় শেখ রিয়াজুদ্দিন, ফিরদৌস শেখ ও অপু বাউরি। পরে গ্রেফতার হয় শেখ নাসিরুদ্দিন ওরফে সম্রাট ও সফিক শেখ। শেষে নির্যাতিতার সহপাঠী ওয়াসিফ আলি। তদন্তে উঠে এসেছে, মেডিকেল কলেজের পাশে পরাণগঞ্জের জঙ্গলে সহপাঠীর সঙ্গে যায় যুবতী। সেখানেই তিন যুবক তাদের ধরে। সহপাঠী যুবতীকে একা ফেলে সেখান থেকে পালিয়ে আসে। যুবতীর উপর নির্যাতন চালানো হয়। পরে আরও দুই দুষ্কৃতী আসে। তারা টাকা দিলে মোবাইল ফেরত দেওয়া হবে বলে জানায়। যদিও পরে নির্যাতিতা তরুণী তাঁর সহপাঠীকেও ঘটনায় অভিযুক্ত করেছেন। জানা গিয়েছে, যারা পরে টাকা চায় তারমধ্যে অন্যতম রিয়াজুদ্দিন। প্রাথমিক ভাবে উঠে আসছে, সে সরাসরি মহিলাকে নির্যাতন করেনি। পুলিশের কাছে পুরো ঘটনাটি সে বর্ণনা করেছিল। তারপরই পুলিশ তাকে রাজসাক্ষী হওয়ার প্রস্তাব দেয়। তাতে সে রাজি হয় বলে জানা গিয়েছে। অন্যদিকে সফিক শেখও গোপন জবানবন্দি দেওয়ার ইচ্ছে প্রকাশ করেছে। তারপরই তড়িঘড়ি রবিবার ছুটির দিনেই দুই অভিযুক্তকে নিয়ে আদালতে পৌঁছয় পুলিশ। তবে এদিন সে কাজ হয়নি। মঙ্গলবার ফের তাদের আনা হবে। ওয়াকিবহাল মহলের দাবি, বিশেষ আইনজীবীর নির্দেশে যেভাবে মামলার গুটি সাজাচ্ছে পুলিশ, তাতে দ্রুত বিচার প্রক্রিয়া শেষ হয়ে যেতে পারে। সেক্ষেত্রে সহ অভিযুক্তদের জবানবন্দি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিতে পারে।
অন্যদিকে এলাকা সূত্রে জানা গিয়েছে, শেখ রিয়াজুদ্দিন বছর চার আগেও ওই বেসরকারি মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালে কাজ করত। প্রথম দিকে গাঁজার মাত্রাতিরিক্ত নেশা করার জন্য তাকে মর্গে ডিউটি দেওয়া হয়। পরে নেশা এতটাই তাকে গ্রাস করে যে, সেই কাজও চলে যায়। ইদানিং সে জঙ্গলের নির্জন এলাকায় ঘুরে যুগলদের ধরে ব্ল্যাকমেল করে গাঁজা কেনার টাকা জোগাড় করে। বছর চার ধরে এই কাজ করলেও কোনও দিন কোনও মহিলার উপর অত্যাচারের অভিযোগ তার বিরুদ্ধে ওঠেনি। সফিক শেখ বেসরকারি কারখানায় কাজ করত।