Bartaman Logo
১৯ আগস্ট, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

বৃষ্টিতে কলকাতায় জোড়া দুর্ঘটনা, তড়িদাহত হয়ে, বাড়ি ভেঙে দু’জনের মৃত্যু

দু’দিনের নিম্নচাপে দিনভর দফায় দফায় কলকাতায় বৃষ্টি। যার জেরে শহরে পুরানো জরাজীর্ণ একাধিক বাড়ি ভেঙে পড়ে। তার ফলে মৃত্যুর ঘটনাও ঘটে।

বৃষ্টিতে কলকাতায় জোড়া দুর্ঘটনা, তড়িদাহত হয়ে, বাড়ি ভেঙে দু’জনের মৃত্যু
  • ১৯ আগস্ট, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: দু’দিনের নিম্নচাপে দিনভর দফায় দফায় কলকাতায় বৃষ্টি। যার জেরে শহরে পুরানো জরাজীর্ণ একাধিক বাড়ি ভেঙে পড়ে। তার ফলে মৃত্যুর ঘটনাও ঘটে। এছাড়া বৃষ্টির জেরে তড়িদাহত হয়ে মৃত্যুও হয়েছে শহরে। 

Advertisement

কলকাতা পুরসভা জানিয়েছে, একটানা বৃষ্টির জেরে বিপজ্জনক পুরানো বাড়িগুলির কাঠামো আলগা হয়ে বারবার দুর্ঘটনা ঘটছে। মঙ্গলবার সকালে উত্তর কলকাতার জোড়াবাগানে ভেঙে পড়ে তিনতলা একটি জরাজীর্ণ বাড়ি। ঘটনাটি ঘটেছে ব্রজদুলাল স্ট্রিটে। সেখানে বাড়ির সাইড ওয়ালের একটি বড়ো অংশ ভেঙে পড়ে। মৃত্যু হয় ঊর্মিলা সাউ (৫৩) নামে এক মহিলার। স্থানীয় বাসিন্দারা জানিয়েছেন, ঊর্মিলাদেবী এবং তাঁর ছোটো ছেলে বাড়ি ভেঙে পড়ার সময় কোনোভাবে ঘর থেকে বেরিয়ে আসতে পারেন। তবে বড়ো ছেলেকে বাঁচাতে ফের ঘরের ভিতর ঢোকেন ঊর্মিলাদেবী। ছেলে বেরিয়ে এলেও বাড়ির একটা অংশের চাঙড় ভেঙে পড়ায় সেখানেই চাপা পড়ে যান প্রৌঢ়া। পরে তাঁকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। তবে চিকিৎসকরা তাঁকে মৃত বলে ঘোষণা করেন। ওই বাড়িতে বেশ কিছু কমার্শিয়াল জোন আছে।
অন্যদিকে এদিন সকালে পোস্তার সিকদার পাড়া লেনেও একটি বিপজ্জনক পুরনো বাড়ির সামনের অংশ ভেঙে পড়ে। সেখানকার সাতজন বাসিন্দা আটকে পড়েন। তাঁদের উদ্ধার করেন দমকল, বিপর্যয় মোকাবিলা দলের কর্মীরা। তবে কোনো হতাহতের খবর নেই। দু’জায়গাতেই পৌঁছয় পুরসভার বিল্ডিং বিভাগের ডেমলিশন টিম। বাড়িগুলি ভাঙার কাজ শুরু হয়েছে। ঘটনাস্থলে যান জোড়াসাঁকোর বিধায়ক বিজয় ওঝা।
অন্যদিকে তড়িদাহত হয়ে মৃত্যুর ঘটনা ঘটে বাঁশদ্রোণিতে। সেখানে ব্রহ্মপুরের রবীন্দ্রপল্লিতে এক কিশোরের মৃত্যু হয়। তার নাম সইদ আলি শেখ (১১)। পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, ছেলেটি বাড়িতে একাই ছিল। মা প্রতিবেশীর বাড়ি গিয়েছিলেন। ঘরে ফিরে ছেলেকে অচেতন অবস্থায় মেঝেতে পড়ে থাকতে দেখেন। সইদকে এম আর বাঙ্গুর হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। তাকে মৃত বলে ঘোষণা করেন চিকিৎসকরা। পুলিশ জানিয়েছে, টালির বাড়িতে থাকতেন তাঁরা। সেখানে ঘরের উপরে ছাউনির জন্য বাঁধা বাঁশ থেকে ইলেকট্রিকের তার ঝুলছিল। সেই তার থেকে তড়িদাহত হওয়ার ঘটনাটি ঘটে। অন্যদিকে বাড়ি ভাঙার ঘটনায় কলকাতার পুর প্রশাসক স্মিতা পান্ডে জানান, শহরে যে সমস্ত বিপজ্জনক বাড়ি রয়েছে সব জায়গাতেই আবার নোটিস পাঠাতে বলা হয়েছে। আগেও ওই বাড়িগুলিতে বারবার নোটিস পাঠানো হয়েছে। বিপজ্জনক বাড়িতে বাস না করার পরামর্শ দিয়েছে পুরসভা। কিন্তু তারপরও কেউ বাড়ি ছাড়তে রাজি হন না। তাই এই ধরনের ঘটনা ঘটে। আইনি জটিলতার কারণে এবং মানবিকতার জন্য পুরসভা পদক্ষেপ নিতে পারে না। জোড়াবাগানের বাসিন্দাদের দাবি, রাত থেকে বাড়ির কিছু কিছু অংশ ভেঙে পড়ছিল। তবে আচমকা সকালে হুড়মুড়িয়ে ভেঙে পড়ে বাড়ির পিছনের অংশ। আরও ১৫ জন আহত হন এই বিপর্যয়ে। তাঁদের ভাঙা বাড়ি থেকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলেও আঘাত গুরুতর না হওয়ায় প্রাথমিক চিকিৎসার পর ছেড়ে দেওয়া হয়।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ