Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

কলকাতা পুরসভার অন্তর্ভুক্ত হওয়ার পর কেটে গিয়েছে ১২ বছর, অবশেষে পাকা রাস্তা তৈরির কাজ শুরু

কলকাতা পুরসভার অন্তর্ভুক্ত হওয়ার পর কেটে গিয়েছে ১২ বছর, অবশেষে পাকা রাস্তা তৈরির কাজ শুরু
  • ১২ মার্চ, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: আগে ছিল কাঁচা রাস্তা। পরে সেই রাস্তায় পড়েছে ইটের খোয়া ও রাবিশ। কিন্তু আজও পিচের রাস্তা বা ঢালাই সড়ক নেই জোকার উদয়াচল, রামকান্তপুর অঞ্চলে। এসব এলাকা কলকাতা পুরসভার অধীনে আসার পর কেটে গিয়েছে প্রায় ১২ বছর। এতদিনে নিজেদের এলাকায় পাকা সড়ক তৈরির কাজ হতে দেখে খুশি প্রদীপ ঘোষ, বিট্টু সামন্ত, শেফালি কর্মকাররা। তাঁরা প্রত্যেকে এই এলাকার বাসিন্দা। কুঁদঘাট হয়ে খালপোল পেরিয়ে গিয়ে একটু এগলেই বড় ঝিল। তার পাড় ধরে বেশ কিছুটা এগিয়ে গিয়ে ডানদিকে দীর্ঘ রাস্তা। সেটি  ধরে এগলেই উদয়াচল জলের ট্যাঙ্ক। সেখানে নতুন পাকা সড়ক নির্মাণের কাজ শুরু হয়েছে।

Advertisement

২০১২ সালে জোকার দু’টি গ্রাম পঞ্চায়েত কলকাতা পুরসভার অন্তর্ভুক্ত হয়। তারপর থেকে পুরোদস্তুর গ্রামাঞ্চল ধীরে ধীরে ভোল পাল্টাতে শুরু করেছে। কিন্তু এখনও জোকা এলাকার অনেক রাস্তাঘাট দেখলে মনে হতে পারে, কোনও প্রত্যন্ত গ্রাম পঞ্চায়েত। গত কয়েক বছরে রাস্তায় অনেক বাতিস্তম্ভ বসেছে। সন্ধ্যা নামলেই আর ঘুটঘুটে অন্ধকারে ডুবে যায় না এলাকা। কিন্তু খারাপ রাস্তা এবং জমা জলের ভোগান্তি রয়ে গিয়েছে আজও। অবশেষে পাকা সড়কের কাজ শুরু হওয়ায় খুশি এলাকাবাসী। উদয়াচল-রামকান্তপুর এলাকায় প্রায় ৬৫০ মিটার দীর্ঘ নতুন রাস্তা তৈরি হচ্ছে। আগে ছিল সরু একটি কাঁচা রাস্তা। এখন তা প্রায় ১৮ ফুট চওড়া করা হচ্ছে। 
খালের একপারে ১১৪ নম্বর ওয়ার্ড, অন্য পারে ১৪২ নম্বর ওয়ার্ড। এই দুই  ওয়ার্ডের বাসিন্দা এই রাস্তা ব্যবহার করেন। উদয়াচল, নতুনপল্লি, দীনেশপল্লি, রামকান্তপুর অঞ্চলের বাসিন্দারা উপকৃত হবেন। স্থানীয় বাসিন্দা বৃদ্ধা শেফালি কর্মকার বলেন, ‘আমাদের এলাকায় জীবনে পাকা রাস্তা দেখতে পাওয়ার আশাই ছেড়ে দিয়েছিলাম। বর্ষার সময় চূড়ান্ত ভোগান্তি যেন আমাদের কপালে লেখা আছে। অবশেষে পাকা রাস্তার কাজ হচ্ছে দেখে সত্যি আনন্দ লাগছে।’ ১৪২ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলার রঘুনাথ পাত্র বলেন, ‘উদয়াচল, রামকান্তপুর এলাকায় নতুন নতুন জনবসতি গড়ে উঠেছে। এলাকায় উন্নয়ন হচ্ছে। বছর ১০-১২ আগে এখানে কাঁচা রাস্তা ছিল। তারপর রাবিশ ফেলে রাস্তা তৈরি হয়েছিল। এখন সেই রাস্তার চওড়া করে পাকা করে দেওয়া হচ্ছে। এলাকায় অনেকগুলি পাকা রাস্তার কাজ শুরু হয়েছে। এবার থেকে বৃষ্টির সময় বাসিন্দাদের ভুগতে হবে না।’ পুরসভা জানাচ্ছে, আগামী দিনে কেইআইআইপি প্রকল্পের অধীনে এই অঞ্চলে ভূগর্ভস্থ নিকাশির কাজও শুরু হওয়ার কথা। আগামী চার-পাঁচ বছরের মধ্যে এলাকার ভোল পুরো পাল্টে যাবে। 

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ