সংবাদদাতা, বারুইপুর: গৃহশিক্ষিকার কাজ করেন। আবার বাড়িতে হেঁসেলও ঠেলেন। তিনি কুলপির বাসিন্দা। নাম যমুনা তাঁতি। এবার এই কেন্দ্র থেকে এসইউসিআই’য়ের প্রার্থী হয়েছেন। এর পাশাপাশি গুণসিন্ধু হালদার এসইউসিআই’য়ের হয়ে রায়দিঘি কেন্দ্র থেকে দাঁড়িয়েছেন। একসময় রায়দিঘির রাধাকান্তপুর পঞ্চায়েতের প্রধান ছিলেন। এছাড়া শংকর নস্কর, শিশিরকুমার মণ্ডল নাম দুই সমাজসেবী ভোটে দাঁড়িয়েছেন। শংকরবাবু দাঁড়িয়েছেন কুলতলি থেকে। শিশিরবাবু প্রার্থী হয়েছেন মন্দিরবাজার থেকে। এঁরাও এসইউসিআই’য়ের হয়ে লড়ছেন। লড়াইয়ে আছেন মৎসজীবী মিলন বিশ্বাসও। তিনি ঝড়খালির বাসিন্দা। এসইউসিআই’য়ের হয়ে বাসন্তী থেকে দাঁড়িয়েছেন। আর গৃহশিক্ষক প্রদুৎ চক্রবর্তী এই বাম দলের পক্ষ থেকে বারুইপুর পশ্চিম কেন্দ্র থেকে প্রার্থী হয়েছেন। তাঁরা সবাই নেমে পড়েছেন ভোট প্রচারে।
গৃহবধূ যমুনা তাঁতি বলেন, সামান্য কয়েকজনকে পড়িয়ে সংসার চালাই। লড়াই কঠিন জেনেও ভোট যুদ্ধে নেমেছি। এলাকার সমস্যার সমাধান করতে হবে। এই কেন্দ্রে কোনো কলেজ নেই। কলেজ করতে চাই। লক্ষ্মীকান্তপুর থেকে নামখানা এখনও রেলের ডবল লাইন নেই। এর সমাধান চাই।’ গুণসিন্ধু হালদার ১৯৮৮ সাল থেকে ২০০৩ সাল পর্যন্ত রাধাকান্তপুর পঞ্চায়েতের প্রধান ছিলেন। বাড়ি ওই এলাকাতেই। তিনি বলেন, ‘সুন্দরবনের মৎসজীবীদের জন্য আমার লড়াই। রায়দিঘিতে পরিবহণ ব্যবস্থা খারাপ। রাস্তাঘাট বেহাল। নদীবাঁধ কংক্রিটের নয়। এসবের পরিবর্তন করতে চাই।’ মিলন বিশ্বাস বলেন, ‘আমি মৎসজীবী হয়ে বুঝি কি অবস্থার মধ্যে আমরা রয়েছি। মাছ-কাঁকড়া ধরে সংসার চলে। আমাদের সমস্যার সমাধান চাই। পাশাপাশি এলাকার বিদ্যুৎ সমস্যার প্রতিকার করতে হবে।’ সুন্দরবনের কুলতলিতে একসময়ে ছিল এসইউসিআই’য়ের দুর্গ। সেখানকার প্রার্থী শংকর নস্কর বলেন, ‘সে আমলে উন্নতি হয়েছিল কুলতলির। এখন একমাত্র হাসপাতালটির পরিষেবা বেহাল। মানুষ সব জানে। তাই আমাদের চাইছে।’ শিশিরকুমার মণ্ডল বলেন, ‘লড়াই করব বাঘের মত। এই এলাকার পরিবহণ ও স্বাস্থ্য ব্যবস্থার পরিবর্তন দরকার। সেই ইস্যু নিয়েই বাড়ি বাড়ি যাচ্ছি।’ প্রদুৎ চক্রবর্তী বলেন, ‘জলনিকাশি ও যানজট বড়ো সমস্যা। তা দুর করতে পারেননি বিধায়ক।’