রঞ্জন চৌধুরি: রাত জেগে ব্রাজিল-নরওয়ে ম্যাচ দেখার ধকল ছিলই। তার উপর বজ্রবিদ্যুৎসহ বৃষ্টির কারণে ইংল্যান্ড-মেক্সিকো ম্যাচ শুরু হতে দেরি হল প্রায় এক ঘণ্টা। কিন্তু সোমবার ভোরে বল গড়াতেই সব ক্লান্তি যেন উধাও। অ্যাজটেকা স্টেডিয়ামে চলতি বিশ্বকাপের অন্যতম সেরা ম্যাচের সাক্ষী থাকল ফুটবলপ্রেমীরা। রোমাঞ্চের কোনো খামতি ছিল না। পাঁচ গোল, লাল কার্ড, পেনাল্টি, উত্তেজনা, হাতাহাতি— সব মিলিয়ে জমজমাট লড়াই। তবে সবচেয়ে বেশি প্রশংসা প্রাপ্য ইংল্যান্ডের কোচ টমাস টুচেলের। তাঁর বুদ্ধিদীপ্ত স্ট্র্যাটেজি এই ম্যাচে মেক্সিকোকে মাত দিল।
সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে অনেক উঁচুতে ম্যাচ হওয়ায় ফুটবলারদের শক্তি সঞ্চয় করে রাখার লক্ষ্যে প্রতি-আক্রমণের কৌশল নিয়েছিলেন ইংল্যান্ড কোচ। সেই পরিকল্পনাই ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দিল। তার উপর জারেল কুয়ানসা লাল কার্ড দেখে মাঠ ছাড়ার পর ১০ জন নিয়ে যে লড়াই ইংল্যান্ড উপহার দিল, তা নিঃসন্দেহে প্রশংসার দাবি রাখে। অনভ্যস্ত পরিবেশে এমন লড়াকু মানসিকতা শেষ আটে নরওয়ের বিরুদ্ধে ইংল্যান্ডকে বাড়তি অক্সিজেন জোগাবে।
জোড়া গোলে ম্যাচের নায়ক জুড বেলিংহ্যাম। পেনাল্টি থেকে হ্যারি কেনের লক্ষ্যভেদ চোখকে আরাম দিয়েছে। মেক্সিকোর দুটো গোলই পরিকল্পনার ফসল। জটলা থেকে প্রথম লক্ষ্যভেদ জুলিয়ান কুইনোনেস। পরেরটা স্পট-কিক থেকে রাউল জেমিনেজের। তবে এই যুদ্ধজয় এতটাও সহজ ছিল না ইংল্যান্ডের। খবরের কাগজে পড়েছি, মেক্সিকোয় পা রাখার পর থেকেই টুচেল ব্রিগেডের উপর চাপ সৃষ্টি শুরু হয়ে গিয়েছিল। ইংল্যান্ড দলের হোটেলের বাইরে কখনও আতসবাজি, কখনও হই-হট্টগোল চলেছে। এমনিতেই মেক্সিকো সিটির অ্যাজটেকা স্টেডিয়াম ফুটবল মাফিয়াদের জন্য কুখ্যাত। গ্যালারির মেক্সিকান ঢেউয়ের তোরে অতীতে তাবড় প্রতিপক্ষও খড়কুটোর মতো ভেসে গিয়েছে। তার উপর সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে প্রায় ২ হাজার ২৪০ মিটার উঁচুতে ম্যাচ। তবে যাবতীয় প্রতিবন্ধকতাকে চোয়ালচাপা লড়াইয়ে বশ মানাল সাকা, অ্যান্টনি গর্ডনরা। ইংল্যান্ডের তাই প্রশংসা করতেই হবে।