শিশির ঘোষ: বাঙালির কাছে ফুটবল বিশ্বকাপ অনেকটাই দুর্গোপুজোর মতো। একটি করে সেরা দলের বিদায়ের সঙ্গে উন্মাদনাও ক্রমশ কমতে থাকে। আর ব্রাজিলের বিদায়ের পর যেন পাড়ার ক্লাবগুলিতে বাজছে বিষাদের সুর। তবে তাই বলে পুজো কিন্তু এখনও শেষ হয়নি। মেসির আর্জেন্তিনার হাত ধরেই বেঁচে রয়েছে সেই উন্মাদনা। আর সেটাকে শেষ পর্যন্ত টিকিয়ে রাখার লক্ষ্যেই মঙ্গলবার প্রি কোয়ার্টার-ফাইনালে মিশরের বিরুদ্ধে নামছে তিনবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা।
অতীতে মূলত ইউরোপ আর লাতিন আমেরিকার দেশগুলির মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকত নক-আউটের লড়াই। তবে এবারের বিশ্বকাপে আফ্রিকার প্রতিটি দেশ চমক দিয়েছে। গত ম্যাচে কেপ ভার্দের বিরুদ্ধে তো মেসিদের নাভিশ্বাস উঠে গিয়েছিল। তাই মিশরের বিরুদ্ধে অনেক বেশি সতর্কতার চাদর মুড়েই খেলতে নামবে আর্জেন্তনা। ব্যক্তিগতভাবে আমার বিশ্বাস, বিপক্ষকে চাপে রাখতে শুরুতেই গোলের জন্য ঝাঁপাক স্কালোনি-ব্রিগেড। নরওয়ের বিরুদ্ধে যে ভুলটা ব্রাজিল করেছিল, সেটা আর্জেন্তিনা করলে চলবে না। প্রাপ্ত সুযোগ কাজে লাগাতে হবে। না হলে ম্যাচ গড়ানোর সঙ্গে বিপক্ষ লড়াইয়ের জমি পোক্ত করার সুযোগ পাবে।
চলতি বিশ্বকাপে স্বপ্নের ফর্মে লিও মেসি। কাতারের মাটিতে অধরা মাধুরীর স্বাদ পাওয়ায় এবার অনেক বেশি চাপমুক্ত বাঁ পায়ের জাদুকর। কোচ স্কালোনিও মেসিকে ফ্রি খেলাচ্ছেন। এখনও পর্যন্ত ওকে কেন্দ্র করেই যাবতীয় আক্রমণ গড়ে উঠছে আর্জেন্তিনার। অবশ্যই এর ইতিবাচক ও নেতিবাচক—দুটো দিকই রয়েছে। তবে আমি মনে করি, এই দলে আগা (মেসি) ও গোড়া (এমিলিয়ানো মার্তিনেজ) এতটাই পোক্ত যে, এদের সহজে নড়ানো অসম্ভব। গত ম্যাচে অবশ্য আর্জেন্তিনার রক্ষণে একাধিক গলদ চোখে পড়েছে। কোচ স্কালোনি নিশ্চয়ই ম্যাচের আগে তা মেরামত করার পরিকল্পনা করেছেন। শুনেছি, গত ম্যাচের প্রথম একাদশে অন্তত তিনটি পরিবর্তন আনতে চলেছেন তিনি। তাহলে এই আর্জেন্তিনা দলকে আরও বেশি ভয়ঙ্কর দেখাবে।
মিশর এখনও পর্যন্ত টুর্নামেন্টে যে ফুটবল খেলেছে তা অবশ্যই প্রশংসনীয়। দলে মো সালাহর মতো ফুটবলার রয়েছে। একটা সময় ওকে মিশরের মেসি বলা হত। তাই সেই দলের উপর নজর রাখতেই হবে। তবে সবশেষে যে দলে মেসি আছে, তাদের যে কোনও দল সমীহ করতে বাধ্য। আর মঙ্গলবার ম্যাচে আরও একবার মেসি-ম্যাজিকে ভর করে আর্জেন্তিনা জয় তুলে নিলে আমি অবাক হব না।