Bartaman Logo
১২ জুন, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

ভরসা লক্ষ্মীর ভাণ্ডারেই, গরম উপেক্ষা করে মমতার সভায় উপস্থিত মহিলারা,

বেলা তখন প্রায় ১২টা। মাথার উপর ঝলসে ওঠা রোদ, তাপমাত্রা ছুঁইছুঁই ৩৮ ডিগ্রি।

ভরসা লক্ষ্মীর ভাণ্ডারেই, গরম উপেক্ষা করে মমতার সভায় উপস্থিত মহিলারা,
  • ১৫ এপ্রিল, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, হাওড়া: বেলা তখন প্রায় ১২টা। মাথার উপর ঝলসে ওঠা রোদ, তাপমাত্রা ছুঁইছুঁই ৩৮ ডিগ্রি। সেই তীব্র গরমকে কার্যত তুচ্ছ করেই জগৎবল্লভপুরের বড়গাছিয়া হসপিটাল মাঠে ঢল নামায় জনস্রোত। চারদিক যেন এক সুরে মুখর, ‘যতই করো হামলা, আবার জিতবে বাংলা’।  মঙ্গলবার মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সভায় এই দৃশ্যই যেন হয়ে উঠেছিল দিনের প্রধান ছবি। আর সেই ভিড়ের বড়ো অংশ জুড়েই ছিলেন মহিলা ভোটাররা। সংখ্যালঘু থেকে হিন্দু—হাজার হাজার নারীর এককথা, ‘লক্ষ্মীর ভাণ্ডার’-এর উপর তাঁদের আস্থা অটুট।

Advertisement

প্রত্যন্ত পাঁতিহাল থেকে এসেছিলেন ৮২ বছরের অন্নপূর্ণা কোলে। প্রচণ্ড গরমে তাঁর উপস্থিতি অবাক করতেই পারে। কিন্তু ফোকলা হাসিতে তিনি জানালেন, ‘মমতাকে দেখতে এসেছি। ও এত কষ্ট করে গোটা রাজ্যে ঘুরছে, বাড়ির কাছে এল, একবার দেখব না?’ অন্যদিকে, নির্বাচন কমিশনের তালিকা থেকে নাম কাটা যাওয়ায় তীব্র আতঙ্কে থাকা ডোমজুড়ের নারনা এলাকার সন্ধ্যা সরকারদের মনেও একই আবেগ। তাঁরা দল বেঁধে এসে বলেন, ‘ভোট দিতে পারব কি না জানি না, কিন্তু আমাদের সমর্থন 
দিদির সঙ্গেই থাকবে। আমাদের জন্য উনি যা করছেন, তা অন্য কেউ করেনি।’ আমতা থেকে আসা সামিনারা বেগম, রেহানা খাতুন ও শবনম খাতুনদের বক্তব্যেও উঠে এল কেন্দ্রীয় বঞ্চনার সুর। ‘প্রজন্মের পর প্রজন্ম এখানে বাস করছি, সব কাগজপত্র থাকা সত্ত্বেও চক্রান্ত করে বাড়ির অনেকের নাম কেটে দেওয়া হয়েছে। কিন্তু দিদির প্রতি আমাদের সমর্থন কেউ কেড়ে নিতে পারবে না’, বললেন তাঁরা। 
এদিন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সভামঞ্চের উলটো দিকের দুটো সারি জুড়ে মহিলাদের ভিড় ছিল চোখে পড়ার মতো। নববর্ষের প্রাক্কালে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় যখন উলুধ্বনির আহ্বান জানান, তখন শঙ্খ ও উলুধ্বনির সম্মিলিত ধ্বনি যেন জানিয়ে দেয়—সমালোচনা, কুৎসা সবকিছুর ঊর্ধ্বে এখনো অটুট এই সমর্থন।
তাৎপর্যপূর্ণভাবে, হাওড়া জেলার মধ্যে পড়লেও এই সভাস্থল সাংগঠনিকভাবে হুগলির শ্রীরামপুর লোকসভা কেন্দ্রের অন্তর্গত। ফলে একমঞ্চেই মিশে যায় দুই জেলার আবেগ। সভায় উপস্থিত ছিলেন ডোমজুড় ও জগৎবল্লভপুরের 
প্রার্থী তাপস মাইতি ও সুবীর চট্টোপাধ্যায়। পাশাপাশি হাওড়া সদরের অরূপ রায়, গৌতম চৌধুরী, কৈলাস মিশ্র এবং হুগলির স্নেহাশিস চক্রবর্তী ও ইন্দ্রনীল সেনও এদিনের জনসমাবেশে যোগ দেন। 

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ