


ওয়াশিংটন: আমেরিকার নির্বাচনে ব্যবহৃত ভোটিং মেশিনে (ইভিএম) নিষেধাজ্ঞা চাপাতে চেয়েছিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নির্বাচন সংক্রান্ত কাজের সঙ্গে সরাসরি যুক্ত দুই ব্যক্তি জানিয়েছেন, গত বছর এই নিষেধাজ্ঞা চাপানোর উদ্যোগ নিয়েছিলেন ট্রাম্প। আমেরিকার অর্ধেকের বেশি স্টেটে যে ইভিএম ব্যবহার করা হয়েছিল, সেগুলিকেই বাতিল করার পরিকল্পনা হয়। এই কাজে সহায়তা করেছিলেন ট্রাম্পের পরামর্শদাতা তথা আইনজীবী কার্ট ওলসেন। আমেরিকার বাণিজ্য বিভাগ ভোটিং মেশিনের যন্ত্রাংশগুলিকে জাতীয় নিরাপত্তার জন্য ঝুঁকিপূর্ণ হিসাবে ঘোষণা করতে পারে কি না, সেই বিষয়ে তদ্বির করেছিলেন ওলসেন। এর আগেও ইভিএমের মাধ্যমে নির্বাচনে কারচুপির তত্ত্ব প্রমাণের জন্য ওলসেনকে দায়িত্ব দিয়েছিলেন ট্রাম্প। এই কাজে ডোমিনিয়ন ভোটিং সিস্টেমস নামে একটি সংস্থাকে টার্গেট করা হয়। ওই সংস্থাই আমেরিকায় ভোটিং মেশিন তৈরি করে।
সূত্রের দাবি, ওলসেন এবং ট্রাম্প ঘনিষ্ঠ অন্য প্রশাসনিক কর্তারা সাধারণ মানুষের মনে এই ধারণা ছড়িয়ে দিতে চেয়েছিলেন যে, কীভাবে আমেরিকার ফেডারেল সরকার যুক্তরাষ্ট্রের স্টেটগুলির নির্বাচন নিজেরা নিয়ন্ত্রণ করতে পারে। এর আগে ট্রাম্পও একাধিকবার এই তত্ত্ব ছড়ানোর চেষ্টা করেছিলেন। ওই সূত্রের আরও দাবি, ট্রাম্পের নির্দেশ অনুযায়ী ওলসেন সারা দেশে ফের ব্যালট ভিত্তিক নির্বাচন ব্যবস্থা ফিরিয়ে আনতে চেয়েছিলেন।
ট্রাম্পের পরিকল্পনা সফল করতে উদ্যোগী হয় মার্কিন প্রশাসন। ভোটিং মেশিন বাতিল করার জন্য কী কী যুক্তি দেওয়া যেতে পারে, গত বছরের সেপ্টেম্বরে বাণিজ্য বিভাগের কর্মকর্তারা তা খতিয়ে দেখতে শুরু করেন। কিন্তু সূত্রের দাবি, এত কিছুর পরেও পুরো পরিকল্পনা ভেস্তে যায়। কারণ, ওলসেন ও ট্রাম্প প্রশাসনের অন্য আধিকারিকরা ভোটিং মেশিনে কারচুপি করার মতো কোনো প্রমাণ দেখাতেই পারেননি। কিন্তু, ভোটিং মেশিন বন্ধ করার জন্য ট্রাম্প এত তত্পর কেন? বিশেষজ্ঞদের মতে, নির্বাচন পরিচালনার ক্ষেত্রে মার্কিন স্টেট ও স্থানীয় সরকারের ক্ষমতায় হস্তক্ষেপ করতে চাইছেন ট্রাম্প। আমেরিকার সংবিধানেই এই ক্ষমতা স্থানীয় সরকারকে দেওয়া হয়েছে। তবে, এখনও হাল ছাড়তে নারাজ ট্রাম্প। সূত্রের খবর, ওলসেন বর্তমানে আমেরিকার শীর্ষ গোয়েন্দা সংস্থাগুলির সঙ্গে আলোচনা করছেন।