Bartaman Logo
১৫ জুলাই, ২০২৬
বর্তমান / বিদেশ

মাউন্ট এভারেস্টের চূড়ায় পা বঙ্গসন্তান মুনমুন ঘোষের, শৃঙ্গ জয় করে ফেরার পথে ২ ভারতীয় অভিযাত্রীর মৃত্যু

বৃহস্পতিবার ঘড়ির কাঁটায় সকাল আটটা। বিশ্বের সর্বোচ্চ শৃঙ্গে দাঁড়িয়ে চার মহিলা অভিযাত্রী গলা মিলিয়ে গেয়ে উঠলেন ‘বন্দে মাতরম’।

মাউন্ট এভারেস্টের চূড়ায় পা বঙ্গসন্তান মুনমুন ঘোষের, শৃঙ্গ জয় করে ফেরার পথে ২ ভারতীয় অভিযাত্রীর মৃত্যু
  • ২৩ মে, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

কাঠমান্ডু ও নিজস্ব প্রতিনিধি, তমলুক: বৃহস্পতিবার ঘড়ির কাঁটায় সকাল আটটা। বিশ্বের সর্বোচ্চ শৃঙ্গে দাঁড়িয়ে চার মহিলা অভিযাত্রী গলা মিলিয়ে গেয়ে উঠলেন ‘বন্দে মাতরম’। এই প্রথম বিএসএফের মহিলা অভিযাত্রী দল এভারেস্ট জয় করলেন। বিএসএফের ৭৫ বর্ষপূর্তি উপলক্ষ্যে এই অভিযানের নামও দেওয়া হয়েছিল ‘মিশন বন্দে মাতরম’। নিরাপত্তা বাহিনীর এই সাফল্যের কারিগর তথা অল ফিমেল গ্রুপের সদস্য ছিলেন বাহিনীর চার কনস্টেবল। পশ্চিমবঙ্গের বাসিন্দা মুনমুন ঘোষ, লাদাখের কওসর ফতিমা, উত্তরাখণ্ডের বাসিন্দা রেবেকা সিং এবং কারগিলের সেরিং চোরোল।

Advertisement

বিএসএফের মতো আইটিবিপির তরফেও মাউন্ট এভারেস্ট অভিযানে গিয়েছিল মহিলা অভিযাত্রী দল। ১১ মহিলা সদস্য ও তিন সাপোর্ট স্টাফ বৃহস্পতিবার রাত ১২টা ৫২ নাগাদ নেপালের দিক দিয়ে সর্বোচ্চ শৃঙ্গে ওঠেন। বাহিনীর তরফে মহিলা কর্মীদের এই সাফল্যকে গোটা দেশের গর্ব বলে ব্যাখ্যা করা হয়। তার ঠিক কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই বিএসএফের মহিলা বাহিনী সর্বোচ্চ চূড়ায় পা রাখেন। উল্লেখ্য, এদিনই এভারেস্টের অপেক্ষাকৃত উঁচু ক্যাম্পগুলি থেকে ৫০০ কেজি বর্জ্য নীচে নামচে বাজারে নামিয়ে আনা হয়। এদিকে, এভারেস্ট জয়ের পরেও আর ঘরে ফিরতে পারলেন না দুই ভারতীয় অভিযাত্রী অরুণ তিওয়ারি ও সন্দীপ আরে। শুক্রবার নেপাল প্রশাসনের তরফে জানানো হয়েছে, ফেরার পথে ধকল সইতে না পেরে হিমালয়ের কোলেই প্রাণ হারান তাঁরা। সে দেশের এক্সপেডিশন অপারেটরস অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক ঋষি ভাণ্ডারি বলেন, ‘সফল অভিযান শেষে ফেরার পথে অভিযাত্রী অরুণ তিওয়ারি ও সন্দীপ আরের শারীরিক অবস্থার অবনতি ঘটতে থাকে। শেরপারা দুই অভিযাত্রীকেই ফেরানোর যথাযথ চেষ্টা করেন। তবে অরুণ হিলারি স্টেপের কাছে এবং সন্দীপ ক্যাম্প ২-এর কাছে প্রাণ হারান।’ 
মুনমুনের পাশাপাশি এক বছরের ব্যবধানে দ্বিতীয়বার এই সাফল্য পেলেন আরও এক বঙ্গসন্তান তমলুক থানার মাথুরি গ্রামের বাসিন্দা লক্ষ্মীকান্ত মণ্ডল। তিনি বারাকপুর ৩ নম্বর ব্যাটেলিয়নে কর্মরত। গত ২১ মে তিনি দ্বিতীয়বার এভারেস্ট জয় করেন। বৃহস্পতিবার রাতে ক্যাম্প-২তে নামার পর শুক্রবার সকালে সফলভাবে ক্যাম্প-১তে পৌঁছেছেন লক্ষ্মীকান্ত। এর আগে গত বছর ১৯ মে তিনি প্রথমবার এভারেস্ট জয় করেছিলেন। ভাই শ্রীকান্ত বলেন, ‘শুক্রবার আমরা দাদার সাফল্যের খবর পাই।’ দার্জিলিংয়ের হিমালয়ান মাউন্টেনিয়ারিং ইনস্টিটিউট থেকে প্রশিক্ষণের পাশাপাশি সার্চ অ্যান্ড রেসকিউ কোর্সও করেন লক্ষ্মীকান্ত। এর আগে ২০২৪ সালে মাউন্ট কুন (৭০৭৭ মিটার) এবং পিনাকেল (৬৯৪০ মিটার) শৃঙ্গ জয় করেছেন তিনি।  এভারেস্টে মুনমুন ঘোষ।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ