ওয়াশিংটন: ক্ষমতায় এলে মূল্যবৃদ্ধিতে রাশ টানবেন। দাম কমবে নিত্যপণ্যের। প্রেসিডেন্ট পদে নির্বাচনের আগে এই প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। তবে ক্ষমতায় ফিরে সেই প্রতিশ্রুতি বেমালুম ভুলেছেন তিনি। উল্টে এমন কিছু পদক্ষেপ নিয়েছেন, যা আমেরিকায় মূল্যবৃদ্ধির পালে হাওয়া দিয়েছে। মাত্রা ছাড়িয়েছে নিত্যপণ্যের দাম। মুদিখানা ও বিদ্যুৎখাতে খরচ সবচেয়ে বেড়েছে। এর জন্য ট্রাম্পের শুক্লনীতিকেই দুষছেন অর্থনীতিবিদরা। অভিযোগ, আমদানিতে ব্যাপক শুল্ক আরোপ এবং ‘বিগ বিউটিফুল বিল অ্যাক্ট’ প্রণয়ন —এই দু’টি পদক্ষেপই আমেরিকার বর্তমান অর্থনৈতিক অস্থিরতার জন্য দায়ী।
সম্প্রতি ভারত সহ কিছু দেশের পণ্যে বাড়তি শুল্ক আরোপ করেছেন ট্রাম্প। তাতে সমস্যায় পড়ে মার্কিন বাজারের বিকল্প খুঁজতে শুরু করেছেন অনেকে। এর প্রভাব পড়েছে আমেরিকার বাজারেও। ভারত থেকে আমেরিকায় রপ্তানি হওয়া পণ্যের দাম বাড়ছে। খাদ্যদ্রব্য, পোশাক থেকে শুরু করে রাসায়নিক দ্রব্য, সবেতেই শুল্ক আরোপ করেছেন ট্রাম্প। বিভিন্ন দেশ থেকে আমদানি হওয়া এইসব পণ্য আমেরিকার বাজারে খুচরো বিক্রির পাশাপাশি উৎপাদনেও ব্যবহার হতো। তাই শুল্ক আরোপ হওয়ায় সামগ্রিকভাবে দাম বেড়ছে সবকিছুর। এভাবে চলতে থাকলে বছরের শেষে ৩.৪ শতাংশ হারে মূল্যবৃদ্ধি হতে পারে খ্যাদ্যদ্রব্যের। যা বিগত ২০ বছরের মধ্যে সর্বাধিক। অন্যদিকে গত একবছরে বিদ্যুৎখাতে খরচ দ্বিগুণ হয়েছে আমেরিকাবাসীর। আগামীতে তা আরও বাড়ার আশঙ্কা থাকছে। এর কারণ ইস্পাত, অ্যালুমিনিয়ামের ওপর বাড়তি শুল্কের বোঝা। আগামীতে বিদ্যুৎ ট্রান্সমিশন লাইন, সাবস্টেশন ও বিদ্যুৎকেন্দ্রের নির্মাণ ও রক্ষণাবেক্ষণের খরচ ২০ শতাংশ পর্যন্ত বাড়তে পারে। এই মূল্যবৃদ্ধির চাপও পড়বে ভোক্তাদের ওপরই। সমীক্ষা বলছে, বছরে ৩০ হাজার ডলারের কম আয় করা পরিবারগুলি সবচেয়ে বেশি সমস্যার মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন। ভবিষ্যতে এর প্রভাব পড়বে আমেরিকার চাকরির বাজারেও। বিশেষজ্ঞদের অনুমান, ২০৩০ সালের মধ্যে প্রায় ৮.৪০ লক্ষ মানুষ চাকরি হারাতে পারেন। এবং আমেরিকার জিডিপি প্রায় ১.১ ট্রিলয়ন ডলার কমতে পারে।