


দুবাই: যুদ্ধবিরতি নিয়ে ইরানের সঙ্গে আলোচনা চলছে। সোমবার এমনই দাবি করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প। পাঁচ দিনের জন্য ইরানের বিদ্যুৎ কেন্দ্র ও জ্বালানি পরিকাঠামোয় হামলার সিদ্ধান্ত স্থগিতের ঘোষণা করতে গিয়ে ওই দাবি করেন তিনি। মঙ্গলবার ট্রাম্পের বক্তব্যকে ‘ভুয়ো খবর’ বলে উড়িয়ে দিয়েছে ইরান। সেদেশের সংসদের স্পিকার মহম্মদ বাঘের কালিবাফের দাবি, তেল ও শেয়ার বাজারকে প্রভাবিত করতেই এই ধরনের মিথ্যা ছড়ানো হচ্ছে। এরইমধ্যে আক্রমণ-পাল্টা আক্রমণ অব্যাহত। ইজরায়েলের রাজধানী তেল আভিভে আছড়ে পড়ল ইরানের ক্ষেপনাস্ত্র। অন্যদিকে, ইরানের বিভিন্ন শহরে হামলা চালায় আমেরিকা ও ইজরায়েল। এরমধ্যে দুটি গ্যাস প্লান্ট ও পাইপলাইনকেও নিশানা করা হয়েছে বলে দাবি ইরানের সংবাদমাধ্যমের।
সূত্রের খবর, মার্কিনীদের বিশ্বাস করতে পারছেন না ইরানের নেতারা। পরমাণুচুক্তি নিয়ে আলোচনার মধ্যেই গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানে আক্রমণ চালায় আমেরিকা ও ইজরায়েল। গত জুনেও একইভাবে ইরানের একাধিক পরমাণুঘাঁটিতে হামলা চালিয়েছিল আমেরিকা। ইরানের পার্লামেন্টের সদস্য ইসমাইল কোসোয়ারি বলেছেন, ‘ট্রাম্প ও বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু জন্মগতভাবে মিথ্যাবাদী। ওঁদের কাজ বিভেদ সৃষ্টি করা।’
এরইমধ্যে পশ্চিম এশিয়ার উদ্দেশে পাড়ি গিয়েছে আমেরিকার বিশেষ প্রশিক্ষিত মেরিন বাহিনী। আগামী শুক্রবার পশ্চিম এশিয়ায় পৌঁছে যেতে পারে কয়েক হাজার মার্কিন সেনা। মনে করা হচ্ছে, ইরানের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ তেল রপ্তানি কেন্দ্র খার্গ দখলের পরিকল্পনা রয়েছে ট্রাম্পের। তার আগে সময় নষ্ট করার জন্যই আলোচনার কথা বলছেন তিনি। নিউ ইয়র্কের একটি থিংক ট্যাংক সৌফান সেন্টার ট্রাম্পের অতীত পদক্ষেপের বিশ্লেষণ করে এমনই অভিমত জানিয়েছে। যদিও সংস্থাটি আরও বলেছে, ‘যুদ্ধ থেকে বের হওয়ার উপায়ও খুঁজতে পারেন ট্রাম্প । যদিও তাতে ইরান সম্মত হবে কিনা সন্দেহ।’
এদিন সাত সকালে ইজরায়েলে ক্ষেপনাস্ত্র হামলা চালায় ইরান। বেশ কয়েকটি প্রতিহত করা গেলেও ১০০ কেজি ওজনের ওয়ারহেডের একটি ক্ষেপণাস্ত্র আছড়ে পড়ে তেল আভিভের একটি গুরুত্বপূর্ণ রাস্তায়। ঘটনায় অন্তত ৪জন আহত হয়েছে বলে খবর। ক্ষতিগ্রস্ত বেশ কয়েকটি বাড়িও।
এদিনও লেবাননের বেইরুটের দক্ষিণ শহরতলিতে হামলা চালিয়েছে ইজরায়েল। সেখানকার একটি আবাসিক ভবনে ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় অন্তত ৩ জনের মৃত্যু হয়েছে। লেবাননের স্বাস্থ্য দপ্তর জানিয়েছে, মৃতদের মধ্যে রয়েছে ৩ বছরের এক শিশুকন্যাও। অন্যদিকে বাহরিন ও সৌদি আরব জানিয়েছে, তাদের এয়ার ডিফেন্স সিস্টেম ইরানের মোট ১৯টি ড্রোন ধ্বংস করেছে।