Bartaman Logo
৯ জুন, ২০২৬
বর্তমান / বিদেশ

যুদ্ধবিরতির জন্য ইরানকে ১৫টি শর্ত ট্রাম্পের, পালটা প্রস্তাব তেহরানেরও, মার্কিন যুদ্ধজাহাজে হামলা

২৬ দিনের রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ চালিয়েও ইরানকে নত করতে পারেনি আমেরিকা। বরং পালটা লড়াইয়ে ওয়াশিংটনকেই চাপে ফেলে দিয়েছে ইরান।

যুদ্ধবিরতির জন্য ইরানকে ১৫টি শর্ত ট্রাম্পের, পালটা প্রস্তাব তেহরানেরও, মার্কিন যুদ্ধজাহাজে হামলা
  • ২৭ মার্চ, ২০২৬ ১৬:০৩
Prefer us on Google

ওয়াশিংটন: ২৬ দিনের রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ চালিয়েও ইরানকে নত করতে পারেনি আমেরিকা। বরং পালটা লড়াইয়ে ওয়াশিংটনকেই চাপে ফেলে দিয়েছে ইরান। তার মধ্যেই এবার ইরানের সামনে ১৫ দফা শর্ত দিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ইরান যদি ওই শর্তগুলি নিয়ে আলোচনা করতে চায়, তাহলে একমাসের জন্য আমেরিকা যুদ্ধবিরতির পথে হাঁটবে বলে জানিয়েছেন তিনি। শর্তগুলির মধ্যে অন্যতম হল হরমুজ প্রণালী ফের সব দেশের জন্য খুলে দেওয়া এবং তেহরানের পরমাণু কর্মসূচির উপর কঠোর বিধিনিষেধ আরোপ। যুদ্ধবিরতির জন্য আমেরিকা ও ইরানের মধ্যে মধ্যস্থতার চেষ্টা চালাচ্ছে পাকিস্তান। সোশ্যাল মিডিয়ায় পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ লেখেন, ইরান যুদ্ধ শেষ করতে অর্থবহ ও চূড়ান্ত আলোচনার পথ সুগম করতে ইসলামাবাদ প্রস্তুত। সেই পোস্ট আবার শেয়ার করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট।

Advertisement

তবে ট্রাম্প শর্ত চাপালেও, তা ইরানের পক্ষে মেনে নেওয়ার সম্ভাবনা অত্যন্ত ক্ষীণ। কারণ ট্রাম্প শর্ত চাপানোর পরেই ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোর (আইআরজিসি) হুঁশিয়ারি দিয়েছে, নিজেদের পরাজয়কে সমঝোতা বলে চালিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করবেন না। উলটে তেহরানই যুদ্ধবিরতির জন্য আমেরিকাকে পালটা বেশ কিছু প্রস্তাব দিয়েছে। এর মধ্যে অন্যতম উপসাগরীয় অঞ্চলে আমেরিকার সমস্ত সামরিক ঘাঁটি বন্ধ করতে হবে। এছাড়া যুদ্ধে ইরানের যে ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে, তার জন্য আর্থিক ক্ষতিপূরণ দিতে হবে এবং হরমুজ দিয়ে যাতায়াতকারী জাহাজের উপর কর চাপানো হবে। লেবাননে হিজবুল্লার বিরুদ্ধে ইজরায়েল যে অভিযান চালাচ্ছে, তাও অবিলম্বে বন্ধ করতে হবে বলে জানিয়েছে ইরান। বুধবারই মার্কিন রণতরী ইউএসএস আব্রাহাম লিঙ্কনে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা হয়েছে। ইরানি নৌসেনার কমান্ডার জানিয়েছেন, লিঙ্কনের উপর ক্রমাগত নজরদারি চালাচ্ছিলেন তাঁরা। ক্ষেপণাস্ত্রের পাল্লার মধ্যে আসতেই সেটির উপর হামলা চালানো হয়। যদিও জাহাজটির কতটা ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে তা স্পষ্ট নয়। 
মঙ্গলবার ট্রাম্প দাবি করেছিলেন, ইরানের সঙ্গে যুদ্ধে আমেরিকা জিতেই গিয়েছে। তেহরান কথা দিয়েছে কোনোদিনও পরমাণু অস্ত্র তৈরি করবে না। ইরান আলোচনার জন্য মরিয়া বলেও দাবি করেছিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। তারপরেই ইরানের উপর শর্ত চাপানোর বিষয়টি সামনে আসে। ওয়াশিংটন যে সব শর্ত চাপিয়েছে, তাতে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি এবং সেই সংক্রান্ত সেনা পরিকাঠামোও বন্ধ করে দিতে বলা হয়েছে। এর বদলে ইরানের উপর নিষেধাজ্ঞা আংশিক তুলে নেবে আমেরিকা। এছাড়া রাষ্ট্রসংঘের নজরদারিতে অসামরিক পরমাণু কর্মসূচির কথাও বলা হয়েছে। এদিকে, ট্রাম্প হঠাত্ করে যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব দেওয়ায় কিছুটা হতবাক ইজরায়েলি আধিকারিকরা। তাঁরা জানিয়েছেন, পশ্চিম এশিয়ায় আরও তিন হাজার অতিরিক্ত সেনা পাঠানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে আমেরিকা। তার মধ্যেই এমন প্রস্তাব মানানসই নয়। তবে বিশেষজ্ঞদের মতে, ট্রাম্প যে সব শর্ত চাপিয়েছে, তা নতুন কিছু নয়। আমেরিকা এর আগেও একাধিকবার ইরানের উপর এমন শর্ত চাপানোর চেষ্টা করেছে। তবে, তেহরান কোনোদিনই তা মানেনি।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ