ওয়াশিংটন, ১৯ জুলাই: আর দু’দিন বাদেই সংসদের বাদল অধিবেশন। পহেলগাঁওতে জঙ্গি হামলা ও অপারেশন সিন্দুর নিয়ে সমস্ত তথ্য জানার জন্য কেন্দ্রীয় সরকারকে চেপে ধরবে বিরোধীরা। তার সঙ্গেই ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে যুদ্ধ থামানো নিয়ে ট্রাম্পের দাবিকে ঘিরে নানা প্রশ্ন কেন্দ্রের দিকে ছুড়ে দিতে পারে বিরোধী শিবির। সেইভাবে প্রস্তুতিও নিচ্ছে কেন্দ্রের এনডিএ সরকারও। এর মাঝেই ফের নয়াদিল্লির রক্তচাপ বাড়িয়ে নতুন দাবি করলেন আমেরিকার প্রেসিডেন্ট। গতকাল, শুক্রবার(স্থানীয় সময়) রাতে ট্রাম্প ফের দাবি করেন তিনিই ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে যুদ্ধ থামিয়েছেন। বাণিজ্যের কথা বলে নয়াদিল্লি ও ইসলামাবাদের মধ্যে থামিয়েছেন সংঘাত।
সঙ্গে ট্রাম্পের দাবি, এই দুই দেশের যুদ্ধের সময়ে চার থেকে পাঁচটি যুদ্ধবিমান ধ্বংস হয়েছিল। যদিও যুদ্ধবিমানগুলি কোন দেশের ছিল তা খোলসা করেননি মার্কিন প্রেসিডেন্ট। গতকাল, হোয়াইট হাউসে দলের আইনপ্রণেতাদের সঙ্গে ডিনারের সময়ে এই দাবি করেছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। রিপাবলিকান নেতাদের সামনে তিনি বলেন, ‘আমরা অনেকগুলি যুদ্ধ থামিয়েছি। আর তা যথেষ্ট গুরুতর ছিল। ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে যা চলছিল। যুদ্ধবিমানগুলিকে লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয় যার ফলে সেগুলি মাটিতে ভেঙে পড়ে। সংখ্যাটি চার বা পাঁচটি হবে। তবে আমার মনে হয় আসলে পাঁচটি যুদ্ধবিমান ধ্বংস করা হয়েছিল। দু’টি পারমাণু শক্তিধর দেশ পরস্পরকে আঘাত করছিল। এটি আসলে এক নতুন ধরনের যুদ্ধ ছিল।’ আর মার্কিন প্রেসিডেন্টের এই দাবিকে কেন্দ্র করেই ফের একবার মোদি সরকারকে চেপে ধরেছে বিরোধীরা। তাঁর উদ্যোগেই ভারত ও পাকিস্তানের যুদ্ধবিরতি হয়। এই কথা বারবার বলেই চলেছেন ট্রাম্প। অথচ কেন্দ্রের তরফে গোটা বিষয়টি অস্বীকার করা হলেও মার্কিন প্রেসিডেন্টকে সরাসরি কিছুই বলছে না নয়াদিল্লি। তাতেই ক্ষুব্ধ বিরোধীরা।
অপারেশন সিন্দুরের সময়ে ভারতীয় সেনাবাহিনীর তরফে দাবি করা হয়েছিল, তাঁরা পাকিস্তানের একাধিক অত্যাধুনিক যুদ্ধবিমান ধ্বংস করেছে। যদিও নয়াদিল্লির সেই দাবি অস্বীকার করে পাল্টা রাফাল সহ ছ’টি ভারতীয় যুদ্ধবিমান ধ্বংস করার কথা বলেছিল পাকিস্তান। শুধুমাত্র একটি পাক যুদ্ধবিমান হাল্কা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে জানায় ইসলামাবাদ।