ওয়াশিংটন: ইরানের সঙ্গে ফের শান্তি বৈঠকে বসতে চায় আমেরিকা। তবে দুটি শর্ত চাপিয়েছেন ট্রাম্প। রাজি হলে তবেই আলোচনা। একইসঙ্গে মার্কিন প্রেসিডেন্ট স্পষ্ট করেছেন, যুদ্ধবিরতির মেয়াদ বাড়ানোয় আর আগ্রহী নন তিনি। বরং স্থায়ী চুক্তি মাধ্যমে বিষয়টা নিষ্পত্তি করতে চাইছেন ট্রাম্প। মার্কিন প্রেসিডেন্টের দাবি, আমেরিকার জন্যই ইরানে ‘শাসন ব্যবস্থার পরিবর্তন’ ঘটেছে। ট্রাম্প সাফ জানিয়েছেন, ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ প্রায় শেষের পথে। তবে ওয়াশিংটনের সামরিক অভিযান এখনও শেষ হয়নি। মার্কিন সংবাদমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, পশ্চিম এশিয়ায় প্রায় ১০,০০০ অতিরিক্ত সৈন্য পাঠাচ্ছে পেন্টাগন। এই অতিরিক্ত সেনারা উপসাগরীয় অঞ্চলে অভিযানগুলোতে মোতায়েন থাকা প্রায় ৫০,০০০ মার্কিন সেনার সাথে যোগ দেবে।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট জানিয়েছেন, তেহরানের সঙ্গে নতুন দফার আলোচনা দু’দিনের মধ্যেই শুরু হতে পারে। ইজরায়েলের সংবাদপত্র ‘হেয়মে’র প্রতিবেদন অনুযায়ী, আলোচনার আগে প্রধানত দু’টি বিষয়ে নিশ্চয়তা চাইছে আমেরিকা। প্রথমত, বাধাহীনভাবে হরমুজ খুলে দিতে হবে। এক্ষেত্রে ওয়াশিংটন ‘পারস্পরিকতার’ নীতি গ্রহণ করেছে। অর্থাৎ ইরান যদি হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচলে বাধা দেয়, তবে তাদের জাহাজও একইভাবে চলাচল করতে পারবে না। দ্বিতীয় শর্ত হিসাবে বলা হয়েছে, পাকিস্তানে আসা ইরানের প্রতিনিধিদলের কাছে আইআরজিসির পূর্ণ অনুমোদন থাকতে হবে। অর্থাৎ চুক্তি চূড়ান্ত করার সম্পূর্ণ ক্ষমতা থাকতে হবে তাদের কাছে। ইসলামাবাদে যে বোঝাপড়া হবে, তা ইরান প্রশাসনের শীর্ষ মহলের সমর্থন পেতে হবে বলেও সাফ জানিয়েছে আমেরিকার।
৪০ দিনের সামরিক উত্তেজনার অবসান ঘটিয়ে ৮ এপ্রিল আমেরিকা ও ইরান ১৪ দিনের যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হয়। অস্থায়ী এই বিরতি ২২ এপ্রিল শেষ হওয়ার কথা। এ প্রসঙ্গে ট্রাম্প জানিয়েছেন, ‘যেভাবেই হোক এটি শেষ হতে হবে। তবে একটি স্থায়ী চুক্তি প্রয়োজন।’ বরাবরের মতো আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে ট্রাম্প ঘোষণা করেছেন, ‘চীন ও বাকি বিশ্বের জন্য’ হরমুজ প্রণালী স্থায়ীভাবে খুলে দিচ্ছেন তিনি। এই ঘোষণায় চীন খুশি হবে। ট্রাম্প আরও বলেন, ইরানে অস্ত্র পাঠাবে না বলে চীনের প্রেসিডেন্ট জি জিনপিং আশ্বাস দিয়েছেন।