Bartaman Logo
২৪ আগস্ট, ২০২৬
বর্তমান / বিদেশ

ট্রাম্পের জয়ের পর মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাত, রাশিয়া-ইজরায়েল যুদ্ধে নজর সকলের

ফের একবার আমেরিকার প্রেসিডেন্ট হতে চলেছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। ভোটের ফলাফল ট্রাম্পের অনুকূলে যাওয়ার বিষয়টি স্পষ্ট হয়ে যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই আন্তর্জাতিক রাজনীতি নিয়ে চর্চা শুরু হয়েছে।

ট্রাম্পের জয়ের পর মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাত, রাশিয়া-ইজরায়েল যুদ্ধে নজর সকলের
  • ৭ নভেম্বর, ২০২৪ ০০:০০
Prefer us on Google
ওয়াশিংটন: ফের একবার আমেরিকার প্রেসিডেন্ট হতে চলেছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। ভোটের ফলাফল ট্রাম্পের অনুকূলে যাওয়ার বিষয়টি স্পষ্ট হয়ে যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই আন্তর্জাতিক রাজনীতি নিয়ে চর্চা শুরু হয়েছে। বারবার ‘আমেরিকা ফার্স্ট’ নীতির পক্ষে সওয়াল করে আসা ট্রাম্প ক্ষমতায় আসার ফলে আমেরিকার সঙ্গে বিভিন্ন দেশের সমীকরণ বদলানো কার্যত সময়ের অপেক্ষা বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞদের একাংশ। 
Advertisement
হোয়াইট হাউসের কুর্সি বদলে সম্ভবত সবচেয়ে বেশি প্রভাব পড়তে চলেছে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধে। প্রায় তিন বছর ধরে চলা এই যুদ্ধে এতদিন ইউক্রেনকে সাহায্য করে এসেছে হোয়াইট হাউস। কিন্তু ট্রাম্পের গলায় যেভাবে রুশ  প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের প্রশংসা শোনা গিয়েছে, তাতে হোয়াইট হাউস আর ইউক্রেনকে সাহায্য করবে কি না, তা নিয়ে ইতিমধ্যেই প্রশ্ন উঠতে শুরু হয়েছে। রাশিয়া ইউক্রেনের উপর হামলা করার পর থেকেই জো বাইডেনের সরকার এতদিন ইউক্রেনকে যুদ্ধাস্ত্র সহ বিভিন্ন পরিকাঠামোগত সাহায্য করে এসেছে। আমেরিকার সাহায্যের ফলেই এতদিন ধরে রাশিয়ার আক্রমণ ঠেকিয়ে রাখতে সক্ষম হয়েছে ইউক্রেন। কিন্তু ট্রাম্প বরাবরই ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনেস্কির কঠোর সমালোচনা করে এসেছেন। প্রচারের সময় তাঁর দাবি ছিল, তিনি মাত্র একদিনেই রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ থামিয়ে দিতে সক্ষম। তবে, এক্ষেত্রেও তিনি সুষ্পষ্ট নীতির কথা তিনি বলেননি। উল্টোদিকে, রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের প্রশংসা শোনা গিয়েছে ট্রাম্পের গলায়। তাই ক্ষমতায় আসর পর তিনি আর আদৌ ইউক্রেনের পাশে দাঁড়াবেন কি না, সেদিকে নজর সকলের।
অন্যদিকে, মধ্যপ্রাচ্যে প্রথমে প্যালেস্তাইন, তারপর একে একে লেবানন ও ইরানের সঙ্গে সংঘাতে জড়িয়ে পড়েছে ইজরায়েল। রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের মতোই এক্ষেত্রেও ট্রাম্প ঘোষণা করে দিয়েছেন, ক্ষমতায় এসেই তিনি মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি ফিরিয়ে আনবেন। তিনি থাকলে হামাস ইজরায়েলের উপর হামলা চালাতে পারত না বলেও দাবি করেছিলেন ট্রাম্প। তিনি জানিয়েছিলেন, গাজায় ইজরায়েল-হামাস সংঘাত ও লেবাননে ইজরায়েল-হিজবুল্লা সংঘাত থামিয়ে দেবেন। কিন্তু কোন পথে, তার কোনও দিশা তাঁর বক্তব্যে ছিল না। প্রথমবার প্রেসিডেন্ট পদে থাকাকালীন ট্রাম্প ইজরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুকে ‘ভালো বন্ধু’ বলে দাবি করেছিলেন। ট্রাম্পের জয়ে নীতিগতভাবে ইজরায়েল লাভবান হলেও মধ্যপ্রাচ্যে সংঘর্ষ থামাতে ট্রাম্প কী ভূমিকা নেবেন, তার দিকে নজর বিশেষজ্ঞ মহলের। এর মধ্যেই হামাস এদিন জানিয়েছে, নতুন সরকার যেন ইজরায়েলকে অন্ধভাবে সমর্থন না করে। প্যালেস্তাইনের বাসিন্দাদের প্রতি আমেরিকা কী মনোভাব নেয়, তার উপর ভিত্তি করেই ভবিষ্যতপন্থা ঠিক করা হবে বলে হামাসের দাবি।
এদিকে, বুধবার ট্রাম্পের জয় নিশ্চিত হওয়ার পরই ডলারের নিরিখে ইরানের মুদ্রা রিয়ালের দাম একধাক্কায় সর্বকালের মধ্যে সর্বনিম্ন স্তরে নেমে এসেছে। ট্রাম্পের জয় প্রসঙ্গে এদিন ইরানের তরফে জানানো হয়েছে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচন নিয়ে তাদের কোনও বক্তব্য নেই। দুই দেশের মধ্যে প্রধান নীতিগুলি আগে থেকেই নির্দিষ্ট। তাই প্রেসিডেন্ট বদলের ফলে সেই সব নীতি বদলাবে না।
Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ