Bartaman Logo
৫ জুলাই, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

করিমপুরে জয় রাখাই টার্গেট তৃণমূলের , প্রতিপক্ষের দৌড়ে সিপিএমকে পিছনে ফেলেছে বিজেপি

একদিকে পুরনো জমি ফিরে পেতে চায় বামেরা। অন্যদিকে, তৃণমূলের লক্ষ্য একটাই, গতবারের জয় ধরে রাখা। ১৯৭৭ সাল থেকে করিমপুর বিধানসভা বরাবর সিপিএমের শক্ত ঘাঁটি ছিল।

করিমপুরে জয় রাখাই টার্গেট তৃণমূলের , প্রতিপক্ষের দৌড়ে সিপিএমকে পিছনে ফেলেছে বিজেপি
  • ২৫ মার্চ, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

সংবাদদাতা, করিমপুর: একদিকে পুরনো জমি ফিরে পেতে চায় বামেরা। অন্যদিকে, তৃণমূলের লক্ষ্য একটাই, গতবারের জয় ধরে রাখা। ১৯৭৭ সাল থেকে করিমপুর বিধানসভা বরাবর সিপিএমের শক্ত ঘাঁটি ছিল। এমনকী ২০১১ সালে পালাবদলের সময়েও করিমপুর লালপার্টিকেই জিতিয়েছিল। কিন্তু ২০১৬ সালে বামেদের জয়ের তাল কাটে। সেবার  এই আসনে তৃণমূল প্রার্থীই বামেদের বিজয়রথ আটকে দেয়। দলের প্রার্থী মহুয়া মৈত্র জয়ী হয়েছিলেন। সেবার তাঁর প্রতিদ্বন্দ্বী  ছিলেন সিপিএমের সমরেন্দ্রনাথ ঘোষ। মহুয়াদেবী তাঁকে হারিয়ে প্রথমবার বিধায়ক হন। কিন্তু এবার সেই সমরেন্দ্রনাথই করিমপুরে বিজেপির টিকিটে দাঁড়িয়েছেন। কাজেই এবারের ভোটে করিমপুর বিধানসভায় এখনও সেভাবে প্রচার শুরু না হলেও এখানে কোন দল জয়ী হবে আর কোন দল দ্বিতীয় স্থানে থাকবে সেসব নিয়েই চর্চা শুরু হয়েছে। 

Advertisement

২০১৬ সালেও করিমপুরে ভোটের লড়াই ছিল মূলত সিপিএম বনাম তৃণমূলের। কিন্তু ২০১৮ সালের পঞ্চায়েত ভোটে করিমপুর ১ ব্লক এলাকার আটটি পঞ্চায়েতের মধ্যে মোট আসনের ৭০টিতে বিজেপি ও ৬১টি আসনে তৃণমূল জিতেছিল। আর সিপিএম মাত্র ২টি ও কংগ্রেস সবেধন নীলমনি একটি আসনেই জিততে পারে। সেদিন থেকেই করিমপুরে ভোটের লড়াই তৃণমূল বনাম বিজেপির হয়ে গিয়েছে। 
২০২১ সালের বিধানসভা ভোটের আগে সিপিএমের প্রাক্তন বিধায়ক সমরেন্দ্রনাথ অনেক কর্মী, সমর্থক নিয়ে বিজেপিতে যোগ দিয়েছিলেন এবং সেবার গেরুয়া শিবিরের হয়ে টিকিট পান। কিন্তু সেবার তৃণমূলই করিমপুরে জেতে। বিপরীতে সিপিএম, কংগ্রেস জোট মাত্র ১৭,১৮৫টি ভোট পেয়েছিল। 
এমনকী, গত লোকসভা ভোটেও মুর্শিদাবাদ কেন্দ্রের অন্তর্গত করিমপুরে তৃণমূল পেয়েছিল ৮৭,৫১৩ ভোট। বিজেপির প্রাপ্ত ভোট ছিল ৭৩,১৭৩। সেবারও পৃথক লড়ে সিপিএম ও কংগ্রেস প্রার্থীদের মিলিত ভোট দাঁড়ায় মাত্র ৩৯,৭০৬। এবার এই কেন্দ্রে রামে যাওয়া ভোট বামে ফেরত আনাই কিন্তু মূল লক্ষ্য সিপিএমের। 
গতবারের স্থানীয় প্রার্থী প্রভাস মজুমদারকে এবারেও লড়াইয়ে নামিয়েছে বামফ্রন্ট। প্রভাসবাবু বলেন, আমাদের বহু সমর্থক বিভিন্ন কারণে ভুল বুঝে অন্য দলে চলে গিয়েছিলেন। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে তাঁরা দলে ফিরছেন। এবারের ভোটে তাঁদের বিরাট অংশ আমাদের সমর্থন জোগাবেন। 
বিজেপির মুর্শিদাবাদ সাংগঠনিক জেলার সহ সভাপতি সুরজিৎ জোয়ারদার বলেন, রাজ্যে গত ১৫ বছরের শাসনকালে তৃণমূলের সর্বত্র চুরি, দুর্নীতি মানুষ দেখেছেন। কাজের জন্য সবাইকে ভিন রাজ্যে ছুটতে হচ্ছে। শুধু মাত্র ভাতা দিয়ে উন্নতি হবে না। এখানে প্রায় ১১টি পঞ্চায়েত এলাকায় আমাদের মজবুত সংগঠন রয়েছে। সেসব এলাকায় ব্যাপক লড়াই হবে। 
করিমপুর ১ ব্লক যুব তৃণমূল সভাপতি সৌমিক সরকার বলেন, বিরোধীরা স্বপ্ন দেখছে দেখুক। পঞ্চায়েত ও গত বিধানসভা ভোটে এলাকার মানুষ বুঝিয়ে দিয়েছেন করিমপুরে বিজেপি ও সিপিএম বলে কিছু নেই। স্থানীয় মানুষ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গেই রয়েছেন। সিপিএমের করিমপুর ১ এরিয়া কমিটির সম্পাদক সন্দীপক  বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, প্রায় ৬০ লক্ষ মানুষের নাম তালিকায় ঝুলিয়ে রেখে ভোট ঘোষণা  হয়েছে। সাধারণ মানুষ তৃণমূলের দুর্নীতি ও ভাঁওতাবাজি আর কেন্দ্রের বিজেপি সরকারের লাগামছাড়া দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধি, ধর্মের ভিত্তিতে রাজনীতি দেখছেন। সুতরাং এসব কারণে সিপিএমকেই সমর্থন করবেন তাঁরা। 

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ