নিজস্ব প্রতিনিধি, নাকাশিপাড়া: কিছুক্ষণ আগেই চলে গিয়েছে ভাগীরথী এক্সপ্রেস। তারপরেই প্রতিদিনের মতো নাকাশিপাড়ার কংগ্রেস নেতা আনিসুর রহমান (৫৪) ও তাঁর ছেলে আবু সুফিয়ান (২৩) গাড়িতে বাড়ি ফিরছিলেন। রাত ৯টা নাগাদ রেলগেটের আন্ডারপাস পেরিয়ে ঢালে উঠতেই একটি কালো গাড়ি এসে তাঁদের সামনে দাঁড়ায়। তারপর গাড়ি থেকে আততায়ীরা বেরিয়ে বেপরোয়া গুলি চালাতে শুরু করে। মুহূর্তের মধ্যেই গুলিতে ঝাঁঝরা হয়ে যান কংগ্রেস নেতা আনিসুর ও তাঁর ছেলে। শনিবার রাতের এই শ্যুট আউটের ঘটনায় ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়ায়। গুলি করার পাশাপাশি আনিসুর সাহেবকে ধারালো অস্ত্র দিয়েও কোপানো হয়। ঘটনার প্রতিবাদে রবিবার কালাদিবস পালন করে কংগ্রেস। এই খুনের ঘটনায় নাকাশিপাড়া থানার পুলিশ রবিবার সকালে তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে। ধৃতরা হল হরনগর পঞ্চায়েতের তৃণমূল প্রধান ফতেমা বিবি, সাহেব আলি মণ্ডল ও মিঠু শেখ। এদিন তাদের কৃষ্ণনগর আদালতে তোলা হলে এসিজিএম অশোক হালদার ধৃতদের ন’দিনের পুলিশি হেপাজতের নির্দেশ দেন। কৃষ্ণনগর পুলিশ জেলার এসপি অতুল ভি বলেন, ঘটনার তদন্ত চলছে। তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি শুভঙ্কর সরকার বলেন, স্বাধীনতা দিবসে এত নিরাপত্তা সত্ত্বেও কীভাবে এই খুন হল? গোয়েন্দা বিভাগ একেবারে ব্যর্থ। তৃণমূলের সরকার গিয়েছে। কিন্তু তাদের হয়ে যারা গুণ্ডামি করত, এখনো তারা তাই করছে। পলাশিপাড়ার তৃণমূল বিধায়ক রুকবানুর রহমান বলেন, পুলিশ ঘটনার যথাযথ তদন্ত করুক। কেউ প্রকৃত দোষী হলে ব্যবস্থা নিক। স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, ফতেমা বিবি ওই এলাকার ‘কুখ্যাত’ তৃণমূল নেতা জুব্বার শেখের স্ত্রী। জুব্বার বর্তমানে জেলে আছে। আনিসুর সাহেব এবং জুব্বারের রাজনৈতিক দ্বন্দ্ব ছিল। সেই কারণেই শ্যুট আউটের ঘটনা কি না তা পুলিশ খতিয়ে দেখছে। আনিসুর সাহেবের পরিবারের তরফে ১০ জনের বিরুদ্ধে খুনের অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। পরিবার সূত্রে জানা গিয়েছে, শনিবার সন্ধ্যার দিকে ছেলেকে নিয়ে বেথুয়াডহরি এসেছিলেন। দলীয় কর্মীদের সঙ্গে আলোচনা সেরে বাড়ি ফিরছিলেন। সাধারণত তিনি নিজেই গাড়ি চালাতেন। কিন্তু, শনিবার চালকের আসনে ছিলেন তাঁর ছেলে। আন্ডারপাস পেরিয়ে ঢাল বরাবর উঠতেই একটি কালো গাড়ি তাদের সামনে এসে দাঁড়ায়। ওই গাড়ি থেকে দুষ্কৃতীরা নেমেই চালকের আসন লক্ষ্য করে একের পর এক গুলি চালাতে শুরু করে। আনিসুর সাহেব গাড়ি থেকে বেরিয়ে পালানোর চেষ্টা করলে তাঁকেও গুলি করে ও কুপিয়ে খুন করা হয়। কংগ্রেস নেতাদের দাবি, আনিসুর সাহেব প্রতিদিনই সন্ধ্যার দিকে বেথুয়াডহরি আসতেন। মাঝেমধ্যে সঙ্গে তাঁর ছেলেও থাকত। আততায়ীরা আনিসুর সাহেবের এই অভ্যাস রেকি করেছিল। আনিসুর সাহেবের ভাই সাজিজুর রহমান বলেন, ওই দিন রাত ৯টা ১১ মিনিট নাগাদ ঘটনাটি ঘটে। কালো রঙের ওই গাড়িতে ১০ জনের মতো দুষ্কৃতী ছিল।