নিজস্ব প্রতিনিধি, নয়াদিল্লি: তৃণমূলের প্রতীক এবং মালিকানা ইস্যুতে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিতে কতদিন সময় লাগবে? আগামী সোমবারের মধ্যে নির্বাচন কমিশনকে তা জানাতে নির্দেশ দিল সুপ্রিম কোর্ট। যদিও বৃহস্পতিবার শুনানির শুরুর দিকে মামলাটি শুনতে তেমন আগ্রহী ছিল না দেশের প্রধান বিচারপতির বেঞ্চ। বলা হয়, (নন্দীগ্রাম এবং রেজিনগরের) উপনির্বাচন প্রক্রিয়া আরম্ভ হয়ে গিয়েছে। তৃণমূলের প্রতীক ফ্রিজ করে দেওয়ার যে সিদ্ধান্ত কমিশন নিয়েছে, সেটি সাময়িক। কমিশনের অন্তবর্তী নির্দেশ। ফলে এই মামলায় এখন কিছু বলার নেই।
কিন্তু মমতা বন্দ্যোপাধ্যাায়ের আইনজীবী কপিল সিবাল এদিন ছিলেন নাছোড়। তাঁর সওয়াল, নির্বাচন কমিশনের ওই অন্তবর্তী নির্দেশ বা উপনির্বাচনের ওপর কোনো স্থগিতাদেশ চাইছি না। আমাদের একটাই প্রশ্ন, কমিশন নিজেই উপনির্বাচনের দিনক্ষণ ঘোষণা করেছে। তাহলে তার মধ্যেই কী করে এভাবে প্রতীক ‘ফ্রিজ’ করতে পারে? তৃণমূলের প্রতীকের দাবি এবং মালিকানা নিয়ে কমিশনের কাছে মামলা পড়ে আছে জুলাই থেকে। তাহলে আগেই কেন সিদ্ধান্ত নেওয়া হল না? এখন উপনির্বাচন প্রক্রিয়ার মধ্যে কেন এই সিদ্ধান্ত? এই অধিকার পেলে আগামীদিনেও যেকোনো নির্বাচন প্রক্রিয়ার মধ্যে একই কাজ করতে পারে কমিশন। যা গণতন্ত্রের পক্ষে ক্ষতিকর। তাই আমি কমিশনের এই সিদ্ধান্তকে চ্যালেঞ্জ করছি।
সিবালের সওয়ালে সন্তুষ্ট হয়ে কমিশনের আইনজীবী নীরজ কিষেণ কউলকে চেপে ধরেন প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত। বলেন, তৃণমূলের প্রতীক ফ্রিজ ইস্যুতে গত ১৭ সেপ্টেম্বর অন্তবর্তী নির্দেশ দিয়েছে কমিশন। চূড়ান্ত তথা ফাইনাল নির্দেশ দিতে কতদিন সময় লাগবে? আইনজীবী কউল বলেন, আমি কমিশনের থেকে জেনে তবে বলতে পারব। তখন প্রধান বিচারপতি জানিয়ে দেন, আগামী সোমবারের মধ্যে জেনে বলুন।
মূলত কমিশনের বিরুদ্ধে মামলা করেছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তবে মামলায় বিবাদী করা হয়েছে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়কেও। বিবাদীদের হয়ে আইনজীবী মুকুল রোহতগি বলেন, এত দ্রুত এ ব্যাপারে কমিশনের সিদ্ধান্ত নেওয়া মুশকিল। তাদের সময় দেওয়া উচিত। ঠিক যেভাবে শিবসেনা, এআইডিএমকে, এনসিপি’র ক্ষেত্রে হয়েছিল। তাছাড়া কমিশন সময় মতোই সিদ্ধান্ত নেয়। ঠিক যেভাবে শিবসেনার ক্ষেত্রে আমরা দেখেছি।’ যা শুনে খানিক শ্লেষের স্বরে বিচারপতি জয়মাল্য বাগচী বলেন, ‘হ্যাঁ, শিবসেনার সময় কত সময় নেওয়া হয়েছিল আমরা তা জানি। এক্ষেত্রে কত সময় লাগবে, সেটা কমিশনের স্পষ্ট করে বলা দরকার।’ সেই মতো আগামী ২৮ সেপ্টেম্বর মামলার পরবর্তী শুনানি হবে।
মমতা বনাম অরূপ রায়-ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়, তৃণমূলের দাবিদার ইস্যুতে দুপক্ষের লড়াইয়ে কমিশনে চলছে মামলা। দুপক্ষের সঙ্গে বৈঠক, জমা পড়া নথি পরীক্ষা করে গত ১৭ সেপ্টেম্বর জ্ঞানেশ কুমার, সুখবীর সিং সান্ধু এবং বিবেক যোশি ১৪ পাতার অন্তবর্তী নির্দেশ জারি করেন। সেখানে বলা হয়, সামনেই (৬ অক্টোবর) উপনির্বাচন। তাই এত তৃণমূলের প্রতীক এবং মালিকানা নিয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া সম্ভব নয়। তাই আপাতত অল ইন্ডিয়া তৃণমূল কংগ্রেস নামটি এবং জোড়াফুল প্রতীক ব্যবহার করতে পারবে না কোনো পক্ষই। অর্থাৎ ফ্রিজ করে দেওয়া হয় প্রতীক। কমিশনের এই অন্তবর্তী নির্দেশকে চ্যালেঞ্জ করেই গত শুক্রবার ১৮ সেপ্টেম্বর সুপ্রিম কোর্টে মামলা করেন মমতা। এদিন প্রথমদিনের শুনানিতেই কার্যত কমিশনকে চাপে ফেলে মমতার আবেদন মেনে নিল শীর্ষ আদালত।