নিজস্ব প্রতিনিধি, বরানগর: উত্তর শহরতলির তৃণমূল গড়েই গেরুয়া সুনামি! তারমধ্যেও একা কুম্ভ হয়ে নিজের গড় রক্ষা করলেন এভারগ্রিন মদন মিত্র। এছাড়া বরানগর, পানিহাটি, খড়দহ, দমদম উত্তর ও দমদম বিধানসভায় বিপুল ভোটে পরাজিত হয়েছেন তৃণমূল প্রার্থীরা। অপ্রত্যাশিত ফলাফলে তৃণমূল শিবির যতই মুহ্যমান হয়েছে, ততই শহরতলিতে কমলা ও গেরুয়া আবিরের ঝড় উঠেছে। রাস্তায় বেরিয়েছে গেরুয়া শিবিরের বাইক মিছিল। শুধু তাই নয়, দুপুরের পর থেকে পানিহাটির গুরু নানক ডেন্টাল কলেজের গণনা কেন্দ্রে তৃণমূলের এজেন্ট সংখ্যা কমতে থাকে। শেষের দিকের গণনায় বহু টেবিলে তৃণমূলের এজেন্টই ছিল না!
২০২৪ সালের লোকসভা ভোটেও উত্তর শহরতলি দখলে রেখেছিল তৃণমূল। বিধানসভা ভোটের প্রচারেও ঝড় তুলেছিল শাসক দল। বিজেপির সভা ও সমিতির তুলনায় তৃণমূলের সভায় উপচে পড়েছিল ভিড়। আত্মবিশ্বাসী ছিলেন তৃণমূলের ভোট ম্যানেজাররা। কিন্তু সোমবার সকালে গণনা শুরু হতে না হতেই শহরতলির প্রতিটি কেন্দ্রে পিছিয়ে পড়তে থাকেন তৃণমূলের হেভিওয়েটরা। দমদমের উত্তরের তৃণমূল প্রার্থী চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য, দমদমের তৃণমূল প্রার্থী ব্রাত্য বসু, বরানগরের তৃণমূল প্রার্থী সায়ন্তিকা ভট্টাচার্য, পানিহাটির তৃণমূল প্রার্থী তীর্থঙ্কর ঘোষ, খড়দহের তৃণমূল প্রার্থী দেবদীপ পুরোহিত ক্রমশ পিছিয়ে পড়তে শুরু করেন। সময় যত গড়িয়েছে ততই লাফিয়ে বেড়েছে ব্যবধান।
কিন্তু এই ভূমিধস পরাাজয়ের মধ্যেও তৃণমূলের গড় কামারহাটি ধরে রেখেছেন তৃণমূল প্রার্থী মদন মিত্র। প্রচারের আলোয় থাকা চিরসবুজ মদনবাবু এদিনও শেষ হাসি হাসলেন। তিনি ৫,৬৪৬ ভোটে জয়ী হয়েছেন। তিনি পেয়েছেন ৬৪,৮১৭ ভোট। নিকটবর্তী বিজেপি প্রার্থী অরূপ চক্রবর্তী ৫৯,১৭১ ভোট পেয়েছেন। এদিন গণনা কেন্দ্রে মদনবাবু বলেন, এই জয় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের জয়। কামারহাটির মানুষকে ধন্যবাদ জানাচ্ছি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের উপর আস্থা রাখার জন্য।
দলের চূড়ান্ত পরাজয় প্রসঙ্গে মদনবাবু বলেন, কেন এমন ফলাফল হয়েছে তা দলে আলোচনা করে দেখা হবে। তবে সর্বত্র হামলা চালানো হচ্ছে। এই ধরনের ঘটনা গণতন্ত্রের পক্ষে বিপজ্জনক ও দুর্ভাগ্যজনক। দলের কর্মীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, লড়াই আরো বাড়বে। দলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে আমরা বিধানসভা ও রাস্তায় লড়াই চালিয়ে যাব। কেউ ভয় পাবেন না।
অন্যদিকে, খড়দহের বিজেপি প্রার্থী কল্যাণ চক্রবর্তী প্রায় ২৪,৪৮৬ ভোটে তৃণমূল প্রার্থী দেবদীপকে পরাজিত করেছেন। পানিহাটির বিজেপি প্রার্থী রত্না দেবনাথ প্রায় ২৮ হাজার ভোটে জয়ী হয়েছেন। উত্তর দমদমের বিজেপি প্রার্থী সৌরভ সিকদার জিতেছেন প্রায় ২৫ হাজার ভোটে। দমদমের বিজেপি প্রার্থী অরিজিৎ বক্সি প্রায় ২৪,৩৩৭ ভোটে ব্রাত্য বসুকে পরাজিত করেছেন। বরানগরের বিজেপির প্রার্থী সজল ঘোষও বিপুল ভোটে জয়ী হয়েছেন।
বিজেপির উত্তর শহতলি জেলা সভাপতি চণ্ডীচরণ রায় বলেন, প্রধানমন্ত্রীর গ্যারান্টিতে মানুষ ভরসা রেখে তৃণমূলের মহা জঙ্গলরাজকে প্রত্যাখ্যান করেছেন। এই জয় জনতা জনার্দনের জয়। এই জয় দলের খুন হওয়া প্রায় ৩০০ কর্মী ও অত্যাচারিত কর্মীদের উৎসর্গ করছি। -নিজস্ব চিত্র