


নিজস্ব প্রতিনিধি, বাঁকুড়া ও সংবাদদাতা, খাতড়া: বাঁকুড়ায় গতবারের থেকেও খারাপ ফল হল তৃণমূলের। এবার বিজেপি ১২টি আসনই দখল করেছে। তৃণমূল কংগ্রেস সবকটি কেন্দ্রেই পর্যুদস্ত হয়েছে। গেরুয়া ঝড়ে লাল মাটির জেলায় ঘাসফুল শিবির কার্যত ধুয়েমুছে সাফ হয়ে গিয়েছে। ফল প্রকাশের পর তৃণমূল শিবির বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। বিজেপি শিবিরে ব্যাপক উন্মাদনা দেখা যায়। তৃণমূলের তরফে অবশ্য ইভিএম নিয়ে অভিযোগ তোলা হয়েছে। বিজেপি এই জয়কে মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত সমর্থন বলে দাবি করেছে।
বাঁকুড়া তৃণমূল সাংসদ অরূপ চক্রবর্তী বলেন, এদিন গণনার সময় বহু ইভিএমের ব্যাটারিতে ৯০ শতাংশের বেশি চার্জ ছিল। দিনভর ভোট হওয়ার পরেও কীভাবে এত বেশি চার্জ থাকতে পারে? আমরা বিষয়টি নিয়ে নির্বাচন কমিশনের কাছে অভিযোগ জানিয়েছি। ভিভিপ্যাট গণনার দাবিও তোলা হয়েছে। বাঁকুড়া কেন্দ্রে প্রায় ৫০ হাজার ভোটের ব্যবধানে বিজেপির জয় মেনে নেওয়া যায় না। অনেকেই বলছে ধর্মীয় বিভাজনের ভিত্তিতে এবার ভোট হয়েছে। সেক্ষেত্রে তালডাংরা কেন্দ্রের সংখ্যালঘু অধ্যুষিত এলাকাতেও বিজেপি-র জয় আমাদের ভাবাচ্ছে।
বিজেপির বাঁকুড়া সংগঠনিক জেলা সভাপতি প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায় বলেন, তৃণমূলের অপশাসনের বিরুদ্ধে রাজ্যবাসী আমাদের দলের প্রার্থীদের ঢেলে ভোট দিয়েছে। বিজেপি-র সুনামির মুখে তৃণমূল খড়কুটোর মতো ভেসে গিয়েছে। সকালের দিকে কিছু কেন্দ্রে এগিয়ে থাকার সময় তৃণমূল ইভিএম নিয়ে কোনো অভিযোগ করেনি। পরাজয়ের পর তারা এসব অজুহাত খাড়া করছে।
সোমবার সকালে গণনা শুরু হতেই বিজেপি জেলার বেশিরভাগ আসনে এগিয়ে যায়। রাইপুর সহ কয়েকটি আসনে প্রথম দিকে তৃণমূল এগিয়ে থাকলেও পরে পিছতে শুরু করে। বেলা বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে বিজেপির সঙ্গে তৃণমূলের ব্যবধানও বাড়তে থাকে। ইন্দাস ছাড়া কোনো আসনেই তৃণমূল গেরুয়া সাইক্লোনের মুখে টিকতে পারেনি। তবে শেষ পর্যন্ত ইন্দাস আসনটিও বিজেপির দখলে চলে যায়। গত নির্বাচনে দখলে থাকা জেলার চার আসন রাইপুর, রানিবাঁধ, তালডাংরা ও বড়জোড়ায় এবার বিজেপি বড় ব্যবধানে জয় পেয়েছে। নিজেদের দখলে থাকা জেলার আট আসন বাঁকুড়া, শালতোড়া, ছাতনা, ওন্দা, কোতুলপুর, সোনামুখী, বিষ্ণুপুর, ইন্দাসের জয় বিজেপিকে সাফল্যের শিখরে তুলে দিয়েছে। বাঁকুড়ার প্রার্থী নীলাদ্রিশেখর দানার রেকর্ড ভোটে জয় বিজেপি শিবিরের অনেককেও হতবাক করে দিয়েছে। সদর মহকুমার অন্য বিধানসভাগুলির মধ্যে ওন্দায় অমরনাথ শাখা, ছাতনায় সত্যনারায়ণ মুখোপাধ্যায়, শালতোড়ায় চন্দনা বাউরি, বড়জোড়ায় বিল্বেশ্বর সিনহা বড় ব্যবধানে জয়ী হয়েছেন।
জঙ্গলমহলের রাইপুর, রানিবাঁধ ও তালডাংরা বিধানসভায় সবুজ গড়ে ধস নামল। গেরুয়া ঝড়ে ভাসল তিন বিধানসভা। সোমবার খাতড়া আদিবাসী মহাবিদ্যালয়ে নির্দিষ্ট সময় থেকেই গণনা শুরুর থেকে এগিয়ে থাকেন বিজেপি প্রার্থীরা। বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে তৃণমূল প্রার্থীদের পিছনে ফেলে আরও বেশি সংখ্যক মার্জিনে এগিয়ে যান বিজেপি প্রার্থীরা। রানিবাঁধের বিজেপি প্রার্থী ক্ষুদিরাম টুডু তৃণমূল প্রার্থী তনুশ্রী হাঁসদাকে ৫২২৬৯ ভোটে পরাজিত করেন। তালডাংরার তৃণমূল প্রার্থী ফাল্গুনী সিংহবাবুকে হারিয়ে জয়লাভ করে বিজেপি প্রার্থী সৌভিক পাত্র। রাইপুরের তৃণমূল প্রার্থী ঠাকুরমণি সরেনকে হারিয়ে জয়লাভ করেন বিজেপি প্রার্থী ক্ষেত্রমোহন হাঁসদা। উল্লেখ্য, ২০২১ এর বিধানসভা নির্বাচনে জঙ্গলমহলের এই তিন আসন তৃণমূলের দখলে ছিল। এছাড়া বড়জোড়া আসনে তৃণমূল জয় পেয়েছিল। কিন্তু, এদিন গেরুয়া ঝড়ে সব আসন হাতছাড়া হল তৃণমূলের। জেলার ১২টি আসনেই ফুটল পদ্ম।পদ্ম কর্মীদের উচ্ছ্বাস।-নিজস্ব চিত্র