নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: নির্বাচনের নির্ঘণ্ট ঘোষণা হওয়ার দু’দিনের মাথায় প্রার্থী তালিকা ঘোষণা করে তৃণমূল। আর পাঁচ দিনের মাথায় প্রকাশ করেছে নির্বাচনি ইস্তাহার। তারপর থেকে একটানা প্রচারে রয়েছেন তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং দলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। নির্বাচন ঘোষণা হওয়ার পরবর্তী এক মাসে ১০০টি কর্মসূচি করে ফেলেছেন মমতা ও অভিষেক। এভাবে রাজ্যজুড়ে প্রচারে যে ঝড় তৃণমূল তুলে দিয়েছে, সেখানে বিরোধীরা অনেকটাই ম্রিয়মান বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল।
গত এক মাসে নির্বাচনি প্রস্তুতি কেমন হয়েছে, তা নিয়ে আজ, মঙ্গলবার পর্যালোচনা বৈঠক করবেন অভিষেক। সন্ধ্যায় ভার্চুয়াল মাধ্যমে এই বৈঠক হবে। তৃণমূলের জনপ্রতিনিধি এবং দলীয় পদাধিকারীরা থাকবেন বৈঠকে। ভোটের আগে বাকি সময়কে কীভাবে কাজে লাগানো হবে এবং ভোটের দিনগুলিতে কী কী করণীয় সে বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা হওয়ার কথা বৈঠকে। তারই সঙ্গে এসআইআর প্রক্রিয়ায় সাধারণ মানুষের সর্বশেষ সমস্যাগুলি নিয়েও আলোকপাত করা হবে।
গত ১৫ মার্চ নির্বাচন কমিশনের তরফে পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের নির্ঘন্ট প্রকাশ করা হয়। ১৭ মার্চ বিধানসভা নির্বাচনের জন্য প্রার্থী তালিকা ঘোষণা করে তৃণমূল। রাজ্যে ২৯৪টি আসনের মধ্যে তৃণমূল একা লড়াই করছে ২৯১টি আসনে। দার্জিলিং, কার্শিয়াং ও কালিম্পং আসনে প্রার্থী দেয়নি তারা। এই তিনটি আসনে অনীত থাপার দলকে সমর্থন জানিয়েছে তৃণমূল। প্রার্থীদের নাম ঘোষণার পর ২০ মার্চ নির্বাচনি ইস্তাহার প্রকাশ করে তৃণমূল। রাজ্যের মানুষের জন্য ১০ প্রতিজ্ঞা নির্বাচনি ইস্তাহারে প্রকাশ করা হয়। নির্ঘণ্ট ঘোষণা হওয়ার পরপরই একসঙ্গে ২৯১টি আসনের প্রার্থী ঘোষণা এবং ইস্তাহার প্রকাশ করে প্রথমেই এক কদম এগিয়ে যায় তৃণমূল। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নিজের ভবানীপুর বিধানসভা আসন থেকেই নির্বাচনি কর্মসূচি শুরু করেন। ২৩ মার্চ ভবানীপুর বিধানসভা এলাকার দলীয় কর্মীদের নিয়ে বৈঠক করেন তিনি। ২৪ মার্চ থেকে টানা ভোট প্রচারে রয়েছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তার নির্বাচনি সফর শুরু হয়েছে উত্তরবঙ্গের চালসা থেকে। ঘটনাচক্রে ওই দিন থেকেই প্রচার শুরু করেন দলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর কর্মসূচি শুরু হয়েছে দক্ষিণ ২৪ পরগনার পাথরপ্রতিমা থেকে। তারপর এখনও পর্যন্ত মমতা এবং অভিষেক রাজ্যের প্রতিটি জেলায় জনসভা, পদযাত্রা, সাংগঠনিক বৈঠক করে ফেলেছেন। দু’জনে মিলে যে কর্মসূচি করেছেন, তার সংখ্যা ১০০ পার করেছে। পর্যবেক্ষকরা বলছেন, প্রথমে প্রার্থী তালিকা এবং ইস্তাহার ঘোষণা করে আগেই বিরোধীদের গোল দিয়েছে রাজ্যের শাসক দল। দ্বিতীয় পর্বেও যে সর্বাত্মক প্রচার রাজ্যের সর্বত্র চালাচ্ছে তৃণমূল, তাতেও বিরোধীরা বেশ খানিকটা ব্যাকফুটে। রাজ্যের প্রধান বিরোধী দল বিজেপি এখনও মমতা ও অভিষেকের ১০০ কর্মসূচির ধারেকাছে পৌঁছতে পারেনি। সিপিএম, কংগ্রেসের প্রচারের অবস্থা আরও করুণ।
তৃণমূলের বক্তব্য, বিজেপি দিল্লি, গুজরাত, উত্তরপ্রদেশ থেকে নেতাদের কলকাতা বা বাংলার বিভিন্ন জায়গায় নিয়ে আসছে। কিন্তু তাতেও সভার সংখ্যা কম। এমনকি সভাতে লোকও হচ্ছে না। আর সেখানে মমতা ও অভিষেকের ১০০ কর্মসূচিতে স্বতঃস্ফূর্ততা জানান দিচ্ছে, জোড়াফুলের জয়যাত্রা কেবল সময়ের অপেক্ষা!