Bartaman Logo
২৫ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

নানুরে তৃণমূল কর্মী খুন

মঙ্গলবার বিকেলে ভোট পরবর্তী হিংসার বলি হলেন বীরভূমের নানুরের এক তৃণমূল নেতা। নিহতের নাম আবির শেখ(৪৫)। তাঁর বাড়ি নানুরের সন্তোষপুর গ্রামে।

নানুরে তৃণমূল কর্মী খুন
  • ৬ মে, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

সংবাদদাতা, বোলপুর: মঙ্গলবার বিকেলে ভোট পরবর্তী হিংসার বলি হলেন বীরভূমের নানুরের এক তৃণমূল নেতা। নিহতের নাম আবির শেখ(৪৫)। তাঁর বাড়ি নানুরের সন্তোষপুর গ্রামে। গুরুতর জখম অবস্থায় চিকিৎসাধীন রয়েছেন আরও এক তৃণমূল নেতা চাঁদু শেখ। মৃতের পরিবারের অভিযোগ, বিজেপি আশ্রিত দুষ্কৃতীরা এই খুনের ঘটনা ঘটিয়েছে।

Advertisement

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, আবির ছিলেন তৃণমূলের শ্রমিক সংগঠন আইএনটিটিইউসির নানুর অঞ্চলের সভাপতি ও চাঁদু শেখ সন্তোষপুর গ্রামের তৃণমূলের বুথ সভাপতি। অভিযোগ, এদিন বিকেলে বাড়ি ফেরার পথে আচমকাই দুষ্কৃতীদের হামলার মুখে পড়েন দু’জন। ধারালো অস্ত্র নিয়ে তাঁদের উপর চড়াও হয় দুষ্কৃতীরা। ঘটনাস্থলেই মৃত্যু হয় আবির শেখের। গুরুতর জখম অবস্থায় চাঁদুকে দ্রুত উদ্ধার করে বোলপুর মহকুমা হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। তাঁর অবস্থা আশঙ্কাজনক। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে ব্যাপক উত্তেজনা ছড়িয়েছে গোটা এলাকায়।
নিহতের পরিবারের দাবি, পরিকল্পিতভাবেই এই হামলা চালানো হয়েছে। আবিরের পিসিমা মহসিনা বেগম বলেন, আবির আমার বাড়িতে এসেছিল। সেখান থেকে নিজের বাড়ি ফেরার সময়ই ওঁদের উপর হামলা হয়। কিছু বুঝে ওঠার আগেই ওঁকে কুপিয়ে মারে দুষ্কৃতীরা। আবিরের ভাইপো জিয়াউল শেখ সরাসরি বিজেপি কর্মী-সমর্থকদের বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলেছেন। তাঁর কথায়, লাঠি ও ধারালো অস্ত্র নিয়ে বিজেপির লোকজন হামলা চালায়। কাকাকে কুপিয়ে খুন করা হয়। চাঁদুকেও বেধড়ক মারধর করা হয়।
এদিন ঘটনার পরপরই নানুর থানার পুলিশ বিশাল বাহিনী ও কেন্দ্রীয় বাহিনী নিয়ে এলাকায় পৌঁছায়। উত্তেজিত গ্রামবাসীরা প্রথমে মৃতদেহ তুলতে বাধা দেন। প্রায় এক ঘণ্টা পরে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এনে দেহ উদ্ধার করে পুলিশ ময়নাতদন্তের জন্য বোলপুর মহকুমা হাসপাতালে পাঠায়। এলাকায় উত্তেজনা থাকায় মোতায়েন রয়েছে পুলিশ বাহিনী।
এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক চাপানউতোর শুরু হয়েছে। জেলা পরিষদের সভাধিপতি কাজল শেখ জানান, আবির শেখ আইএনটিটিইউসির অঞ্চল সভাপতি ছিলেন। তাঁকে খুন করা হয়েছে। 
যদিও বিজেপির বোলপুর সাংগঠনিক জেলা সভাপতি শ্যামাপদ মণ্ডল অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, তিনি তৃণমূলের গোষ্ঠীকোন্দলের শিকার। এই ঘটনায় বিজেপির কোনো ভূমিকা নেই। এখন কিছু তৃণমূলী দুষ্কৃতী বিজেপির পতাকাকে কাজে লাগিয়ে অশান্তি ছড়াচ্ছে। প্রশাসনকে বিষয়টি কঠোরভাবে দেখার জন্য বলেছি। 
উল্লেখ্য, সদ্যসমাপ্ত বিধানসভা নির্বাচনে বাংলায় বড় জয় পেয়েছে বিজেপি। ২০৭টি আসনে জয়লাভ করে সরকার গঠনের পথে গেরুয়া শিবির। বীরভূম জেলাতেও তার প্রভাব পড়েছে। ১১টি আসনের মধ্যে ৬টিতে জয় পেয়েছে বিজেপি এবং ৫টিতে তৃণমূল। দীর্ঘদিন ধরে তৃণমূলের শক্ত ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত এই জেলায় এবার উল্লেখযোগ্য উত্থান হয়েছে বিজেপির।
রাজনৈতিক পালাবদলের এই আবহেই জেলার বিভিন্ন প্রান্তে অশান্তির অভিযোগ সামনে আসছে। নানুরের এই খুন সেই উত্তেজনাকে আরও বাড়িয়ে দিল বলেই মনে করছে রাজনৈতিক মহল। পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, ঘটনার তদন্ত শুরু হয়েছে। দুষ্কৃতীদের চিহ্নিত করে দ্রুত গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ