নিজস্ব প্রতিনিধি, বারাসত: সামনে ‘হাই ভোল্টেজ’ বিধানসভা নির্বাচন। তাই আর দেরি না করে বিভিন্ন পুরসভায় চেয়ারম্যান ও ভাইস চেয়ারম্যানে বদল সেরে ফেলতে চাইছে তৃণমূল। সূত্রের খবর, দলের বারাসত, বনগাঁ ও বসিরহাট সাংগঠনিক জেলার পুরসভাগুলিতে একাধিক চেয়ারম্যান ও ভাইস চেয়ারম্যান পদে নতুন মুখ আনতে চলেছে তারা। প্রথম পর্যায়ের প্রস্তুতি শেষ। কোন কোন নেতার ঘাড়ে ‘কোপ’ পড়বে, তা নিয়েই এখন নানা জল্পনা চলছে তৃণমূলের অন্দরে ও রাজনৈতিক মহলে।
কয়েকমাস আগে তৃণমূলের সেকেন্ড ইন কমান্ড অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় স্পষ্ট জানিয়েছিলেন, একাধিক পুরসভায় রদবদল হবে। লোকসভা ভোটে যেসব পুরসভায় তৃণমূল পিছিয়েছিল, সেখানে বিশেষ ব্যবস্থা নেবে দল। পরিসংখ্যান বলছে, ২৪-এর ভোটে বারাসত পুরসভার ৩৫টি ওয়ার্ডের মধ্যে মাত্র ছ’টিতে এগিয়েছিল তৃণমূল। একাধিক সিআইসি ও হেভিওয়েট কাউন্সিলারের জনসংযোগ যে তলানিতে, তা কার্যত প্রমাণ হয়ে যায়। হাবড়া পুরসভার ২৪টি ওয়ার্ডেই হেরেছে তৃণমূল। অশোকনগরের ২৩ টি ওয়ার্ডের মধ্যে মাত্র ছ’টি, গোবরডাঙায় ১৭টির মধ্যে দু’টিতে এগিয়েছিল জোড়াফুল শিবির। মধ্যমগ্রাম পুরসভার ক্ষেত্রে অবশ্য ২৮টি ওয়ার্ডের মধ্যে ১৮টিতে এগিয়েছিল তৃণমূল। বনগাঁ ও বসিরহাটের ক্ষেত্রেও অবস্থা কমবেশি এক। তাই বিধানসভা ভোটের আগে পারফরম্যান্সের নিরিখে পদোন্নতি বা পদাবনতি হতে চলেছে অনেকের।
বারাসত, বনগাঁ ও বসিরহাট সাংগঠনিক জেলায় রয়েছে মোট ন’টি পুরসভা। তৃণমূলের একটি সূত্রের দাবি, এর মধ্যে পাঁচটি পুরসভাতেই শীর্ষপদে বদল আসতে চলেছে। ইতিমধ্যে তৃণমূল নিযুক্ত ভোট কুশলী সংস্থা সমীক্ষার রিপোর্ট জমা দিয়েছে দলের শীর্ষস্তরে। সব ঠিকঠাক চললে আর মাস খানেকের মধ্যেই পুরসভাগুলির দায়িত্বে নতুন মুখ আনা হবে। সূত্রের খবর, এক্ষেত্রে বয়সের দিকটিতে বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে দল। চেয়ারম্যান পরিবর্তনের ব্লুপ্রিন্ট কীভাবে চূড়ান্ত হল? এক কাউন্সিলার নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, ‘দলের টিম সরাসরি পুরসভার চেয়ারম্যানকে ফোন করে নির্দিষ্ট একটি দিনে সমস্ত কাউন্সিলারকে উপস্থিত থাকার কথা বলেছিল। ওই দিনই কাউন্সিলারদের আলাদা করে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। তাঁদের কাছে জানতে চাওয়া হয়, এলাকার জন্য পুরসভার চেয়ারম্যান বা ভাইস চেয়ারম্যান কতটা সময় দিচ্ছেন ইত্যাদি। এই পদে পরিবর্তন দরকার কি না, তাও জানা হয় কাউন্সিলারদের থেকে।’ বারাসতের এক দাপুটে নেতার কথায়, ‘পরিবর্তন হবে নিশ্চিত। যোগ্যতা ও স্বচ্ছতার দিকে গুরুত্ব দিচ্ছে দল।’ এভাবে স্থানীয় স্তরে গুরুত্বপূর্ণ রদবদল ঘটানোর পর তৃণমূলের প্রতি মানুষের আস্থা কি আগের থেকে বাড়বে? সেটাই এখন দেখার।