Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

প্রতি বিধানসভায় মুখপাত্র নিয়োগ করবে তৃণমূল, অগ্রাধিকারের তালিকায় নারীশক্তি

ডিজিটাল যুগে ভোট যুদ্ধ আর মাঠে ময়দানে সীমাবদ্ধ ঩নেই। সোস্যাল মিডিয়ায় বিরোধী রাজনৈতিক দলের প্রতি তীব্র আক্রমণ ও অভিযোগ তুলে জনমত গড়ে তোলার খেলাও চলে।

প্রতি বিধানসভায় মুখপাত্র নিয়োগ করবে তৃণমূল, অগ্রাধিকারের তালিকায় নারীশক্তি
  • ১৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

সুমন তেওয়ারি,  আসানসোল:

Advertisement

ডিজিটাল যুগে ভোট যুদ্ধ আর মাঠে ময়দানে সীমাবদ্ধ ঩নেই। সোস্যাল মিডিয়ায় বিরোধী রাজনৈতিক দলের প্রতি তীব্র আক্রমণ ও অভিযোগ তুলে জনমত গড়ে তোলার খেলাও চলে। পাশাপাশি একই দলের এক গোষ্ঠী অন্য গোষ্ঠীকে আক্রমণ করতে গেলে অস্ত্র করে এই সোশ্যাল মিডিয়াকেই। স্বাভাবিকভাবেই যে দলের মুখপাত্র তুখোড় হবেন, সেই দলই এগিয়ে থাকবে। এবার তৃণমূল সেই ‘মুখপাত্র’ নামক অস্ত্রের বিকেন্দ্রীকরণ চাইছে। অর্থাৎ রাজ্যস্তরে, জেলাস্তরের সঙ্গে বিধানসভা ভিত্তিক মুখপাত্র নিয়োগ করার পরিকল্পনা নিয়েছে শাসকশিবির। যাতে করে দলের বার্তা সবাই একসুরে জনগণের কাছে পৌঁছে দিতে পারেন। মুখপাত্র নির্বাচনের ক্ষেত্রে শিক্ষিত, মার্জিত অথচ, ধারালো বক্তব্য বলতে পারদর্শীদের বেছে নেওয়া হবে। অগ্রাধিকার দেওয়া হবে বাংলার নারীশক্তিকে। 
জানা গিয়েছে, প্রতি জেলায় মুখপাত্র টিম গঠন করার পাশাপাশি প্রতি বিধানসভা এলাকায় একজন করে মুখপাত্র করা হবে। যিনি একমাত্র সেই বিধানসভায় ঘটে যাওয়া নানা ঘটনা নিয়ে দলের অবস্থান সংবাদ মাধ্যমে ব্যাখ্যা করবেন। বিরোধীদের অভিযোগের জবাব দেবেন। আর সেই কাজের গুরু দায়িত্বেও বাংলার নারী শক্তির উপর বিশেষ ভরসা করতে চাইছে রা঩জ্যের শাসক দল। রাজনৈতিক সচেতন শিক্ষিত মহিলাদের এই পদের জন্য অগ্রাধিকার দিচ্ছে শাসক দলের থিংক ট্যাঙ্ক। আর সেই কাজ এসি ঘরের মধ্যে না করে মাঠে ময়দানে যোগ্যদের খোঁজে নেমে পড়েছে টিম এবি। তাঁরা এলাকায় গিয়ে খোঁজ নিচ্ছে, এই কাজের জন্য কে উপযুক্ত। 
জানা গিয়েছে, বিধানসভা ভোটে এই পদাধিকারীর যথেষ্ট গুরুত্ব থাকবে। তাই ব্লক সভাপতি নির্বাচনের জন্য যেমন কোনও ত্রুটি রাখতে চাইছে না শাসকদল তেমনিই বিধাসভা ভিত্তিক মুখপাত্র নির্বাচনও নিখুঁত করতে মরিয়া এবি টিম। 
কিন্তু, কেন এতটা মুখপাত্র প্রয়োজনীয়তা উপলব্ধি করল শাসক শিবির? সূত্রের খবর, রাজ্য সরকারের বিভিন্ন প্রকল্পের জেরে গ্রামে গঞ্জে শাসকদলের শিকড় যথেষ্ট মজবুত। প্রতি বুথেই তাঁদের শক্তিশালী সংগঠন রয়েছে। বিরোধীদের সেই অবস্থা নেই। বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই তাঁদের অবস্থান ও অভিযোগ সংবাদ মাধ্যম এবং সোস্যাল মিডিয়ায় জানিয়েই দায় সারছে। সাধারণ মানুষের একাংশকে বিক্ষুব্ধ করতে অনুঘটকের ভূমিকা নিচ্ছে বিরোধীদের পোস্ট। আর এখানেই দুর্বলতা শাসক শিবিরের। দল ভাঙিয়ে করে কম্মে খেলেও বিরোধী দলের পোস্টের পাল্টা পোস্ট করে মানুষকে ‘কনভিন্স’ করার দায়িত্ব নিচ্ছেন না বেশিরভাগ নেতাই। অনেকের মতে, ইডি , সিবিআই তদন্তের পর থেকে বহু বড় নেতাও সেই মাত্রায় বিরোধীদের আক্রমণে যাচ্ছে না। যার সুযোগ কাজে লাগাচ্ছে বিরোধীরা। সেই ঘাটতি কাটাতেই এবার শাসক দলের এই নতুন পদ সৃষ্টি। সেক্ষেত্রে জোর দেওয়া হচ্ছে সততার উপরও। যাতে বিরোধীরা মুখপাত্রের ব্যক্তিগত সততা নিয়ে  প্রশ্ন না তুলতে পারে। 
এই মুখপাত্র নিয়োগের মাধ্যমে বিভিন্ন এলাকায় গোষ্ঠীদ্বন্দে লাগামও টানতে চলেছে শাসক শিবির। মুখপাত্র নিয়োগের পর প্রকাশ্যে দলের নেতার মুখ খোলার উপর ফরমান জারির সম্ভাবনা রয়েছে। যাতে তাঁদের আলটপকা মন্তব্য দলকে বিড়ম্বনায় না ফেলে।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ