সংবাদদাতা, রামপুরহাট: রামপুরহাটে রাজনৈতিক সমীকরণে বড়োসড়ো পরিবর্তনের ছবি ধরা পড়ল। শুক্রবার পর্যন্ত যে কার্যালয়ে সগর্বে উড়ছিল তৃণমূলের জোড়াফুল পতাকা, শনিবার সকাল ১১টা বাজতেই সেখানে স্থান পেল জাতীয় কংগ্রেসের ‘হাত’ চিহ্নের পতাকা। শুধু পতাকা বদলই নয়, ট্যাক্সি ইউনিয়নের সম্পাদক সহ সব কর্মকর্তা ও সদস্য একযোগে তৃণমূল ছেড়ে আনুষ্ঠানিকভাবে হাত শিবিরে যোগ দিলেন।
শনিবার বেলা ১১টা নাগাদ রামপুরহাট শহরের নিশ্চিতপুরে দমকল বিভাগের কার্যালয়ের সামনে ট্যাক্সি স্ট্যান্ড ও ইউনিয়ন অফিসে তৃণমূলের সব পতাকা খুলে নিয়ে সেখানে ঝুলিয়ে দেওয়া হয় কংগ্রেসের পতাকা। ইউনিয়নের সব কর্মকর্তা ও সদস্যরা আনুষ্ঠানিকভাবে তৃণমূল ছেড়ে জাতীয় কংগ্রেসে যোগ দেন। ফিতে কেটে রূপান্তরিত এই কংগ্রেস কার্যালয়ের উদ্বোধন করেন প্রাক্তন বিধায়ক তথা জেলা কংগ্রেস নেতা মিল্টন রশিদ। উপস্থিত ছিলেন প্রবীণ কংগ্রেস নেতা সত্যব্রত ভট্টাচার্য, শাহজাহান আলি এবং শহর কংগ্রেস নেতা সাহাজাদা হোসেন, বরকতুল্লা প্রমুখ। যোগদানকারীদের হাতে কংগ্রেসের পতাকা তুলে দিয়ে মিল্টন রশিদ বলেন, দীর্ঘদিন ধরে যাঁরা তৃণমূলের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন, আজ তীব্র হতাশায় তাঁরা কংগ্রেসে আস্থা রাখলেন। এই যোগদানের মাধ্যমে রামপুরহাটে কংগ্রেস আরও শক্তপোক্ত ভিত্তি পেল। এদিকে, তৃণমূল ত্যাগী ইউনিয়নের সম্পাদক নাসির শেখ জানান, তৃণমূলের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি, অস্পষ্ট নীতি ও দূরদর্শিতার অভাবে সাধারণ কর্মীরা বিভ্রান্ত। দলের কোন নেতা কোন দিকে যাচ্ছেন কোনো ঠিক নেই। ফলে কর্মীরা নিজেদের ভবিষ্যৎ নিয়ে চরম অনিশ্চয়তায় ভুগছিলেন। তাই রাহুল গান্ধীর হাত শক্ত করতে এবং সঠিক রাজনীতির ধারায় ফিরতেই স্বেচ্ছায় আমাদের এই কংগ্রেসে যোগ।
অন্যদিকে, এই ঘটনাকে গুরুত্ব দিতে নারাজ স্থানীয় তৃণমূল নেতৃত্ব। এ বিষয়ে তৃণমূল নেতা সৈয়দ সিরাজ জিম্মি বলেন, ক্ষমতা বা সরকার পরিবর্তনের সঙগে সঙ্গে দলবদল করা এখন কালচারে পরিণত হয়েছে। তাছাড়া যাঁরা আজ দলবদল করছেন, তাঁরা তৃণমূলের কোনো মূল সাংগঠনিক পদেও ছিলেন না।



