Bartaman Logo
২৮ আগস্ট, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

বিজেপি বিধায়কদের পরামর্শে কাজ করবে তৃণমূল পরিচালিত বোর্ড, সরকারি নির্দেশ

পুরসভায় ‘কুস্তি’ হলেও জেলা পরিষদ দিচ্ছে ‘দোস্তি’র বার্তা। চিত্র হুগলি জেলার। ইতিমধ্যেই একের পর এক পুরসভায় তৃণমূল কংগ্রেস বোর্ডের চেয়ারম্যান, কাউন্সিলাররা পদত্যাগ করেছেন।

বিজেপি বিধায়কদের পরামর্শে কাজ করবে তৃণমূল পরিচালিত বোর্ড, সরকারি নির্দেশ
  • ১৬ জুন, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, চুঁচুড়া: পুরসভায় ‘কুস্তি’ হলেও জেলা পরিষদ দিচ্ছে ‘দোস্তি’র বার্তা। চিত্র হুগলি জেলার। ইতিমধ্যেই একের পর এক পুরসভায় তৃণমূল কংগ্রেস বোর্ডের চেয়ারম্যান, কাউন্সিলাররা পদত্যাগ করেছেন। কোথাও কোথাও কাউন্সিলারদের গ্রেপ্তার হতে হয়েছে। পঞ্চায়েত স্তরেও গ্রেপ্তারি চলছে। সেইসময়েই প্রাক্তন শাসক দল তৃণমূল কংগ্রেসের হুগলি জেলা পরিষদ মিলেমিশে কাজ করার বার্তা দিচ্ছে রাজ্যের বর্তমান শাসক দল বিজেপিকে। সদ্য হুগলি জেলা পরিষদে রাজ্য ও কেন্দ্রীয় অর্থ কমিশনের কাজ নিয়ে বৈঠক হয়েছে। সেখানেই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, জেলার সমস্ত বিধায়কদের পরামর্শ নিয়ে উন্নয়ন পরিকল্পনা তৈরি করতে হবে। এখানেই শেষ নয়, কার্যত জেলা পরিষদের সমস্ত পরিকল্পনার ভার প্রশাসনিক কর্তাদের হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে।

Advertisement

প্রাক্তন শাসক দলের জেলা পরিষদ কর্তাদের ওই পরিকল্পনা প্রকাশ্যে আসতেই গুঞ্জন শুরু হয়েছে। বিশেষ করে পঞ্চায়েত স্তরে ক্ষোভ দেখা গিয়েছে। নীচুতলার কর্মী থেকে পঞ্চায়েত স্তরের জনপ্রতিনিধিদের অভিযোগ, রাজ্য সরকারের পুলিশ তাঁদের বিরুদ্ধে অভিযান করছে। বালতি চুরির মতো অভিযোগে মামলা করছে। আর সেখানেই জেলা পরিষদ দোস্তির বার্তা দিয়ে পিঠ বাঁচাতে চাইছে। 
জেলা পরিষদের এক কর্তা বলেন, বড়ো বড়ো নেতারা যখন সোজাসুজি বা ঘুরিয়ে বিজেপির সঙ্গে হাত মেলাচ্ছেন তখন আমরা কীসের ভরসায় প্রতিবাদী হতে যাব! যদিও জেলা পরিষদের সভাধিপতি এবং বলাগড় বিধানসভা আসনে সদ্য পরাজিত তৃণমূল প্রার্থী রঞ্জন ধাড়া বলেন, সবাইকে নিয়েই কাজ করতে হয়। বিধায়করাও জেলার উন্নয়নের অংশীদার। তাই আইন মেনেই তাঁদের কাছ থেকে প্রকল্প নিতে বলা হয়েছে। এখানে অন্য কোনো গল্প নেই। 
তৃণমূলের জেলা পরিষদের উদ্যোগে হাসছেন বিজেপির হুগলি সাংগঠনিক জেলার সভাপতি গৌতম চট্টোপাধ্যায়। তিনি বলেন, ২০২১ সালে আমাদের মাত্র চারজন বিধায়ক ছিলেন। তখন জেলা পরিষদের সভাধিপতিদের সবাইকে নিয়ে কাজের আইনটা মনে ছিল না! এখন জেলার ১৮টি বিধানসভা আসনের মধ্যে ১৬টি বিজেপির দখলে। তাই এখন আইনকানুনগুলো ওঁদের চোখে পড়ছে। একদিকে ভালো, খোলা চোখে পৃথিবী দেখলে অনেক কিছুই বেশি দেখা যায়।
রাজনৈতিক মহল বলছে, সম্প্রতি বিজেপির বিধায়করা উপস্থিত থাকতে পারবেন না বলে জেলা পরিষদের প্রশাসনিক কর্তারা সাধারণ সভা ডেকেও বাতিল করেন। তাতেই জেলা পরিষদে নিরঙ্কুশ গরিষ্ঠ তৃণমূল নেতাদের হাড়কাঁপুনি শুরু হয়ে যায়। ওইসঙ্গে দলের রাজ্য থেকে সর্বভারতীয় স্তরের ডামাডোল জেলা পরিষদের নেতাদের আরো বিপর্যস্ত করে তুলেছে। এই পরিস্থিতিতেই সমঝোতার বার্তাতেই নিজেদের নিরাপত্তা খুঁজতে চাইছেন পরিষদের জনপ্রতিনিধিরা। তবে রাজনৈতিক মহলের দাবি, অঙ্ক আছে আরো একটি। হুগলির অধিকাংশ পুরসভার মেয়াদ আছে আর আট-নয় মাস। সেখানে জেলা পরিষদের মেয়াদ ফুরোবে ২০২৮ সালে। সেই অঙ্কটাও রাজ্যের সাবেক শাসক দলের অবশিষ্ট নেতৃত্ব মাথায় রাখছেন। 

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ