


সৌম্য দে সরকার, মালদহ: সুজাপুর বিধানসভার জালালপুর এলাকা। প্রচার করছিলেন তৃণমূল কংগ্রেসের প্রার্থী সাবিনা ইয়াসমিন। এই এলাকা থেকে অনেকেই ভিনরাজ্যে যান কাজের সন্ধানে। সাবিনা তাঁদের মনে করিয়ে দিলেন আমির শেখের ভয়াবহ অভিজ্ঞতা। কীভাবে রাজস্থান পুলিশ রাতারাতি ২০ বছরের আমিরকে বাংলাদেশি সন্দেহে দেশ ছাড়া করেছিল। তৃণমূল কীভাবে আমিরকে দেশে ফিরিয়ে আনার লড়াই চালিয়ে তাঁকে বাড়িতে নিয়ে এসেছিল, সাবিনা বললেন সেসব কথাই।
মানিকচকের তৃণমূল প্রার্থী কবিতা মণ্ডল। এই বিধানসভা কেন্দ্রের অনেক বাসিন্দাই অন্য রাজ্যে কাজে যান। কিন্তু বিজেপি শাসিত রাজ্যগুলিতে বাংলার পরিযায়ী শ্রমিকদের উপরে কীভাবে আক্রমণ করা হয়েছে, সেই বৃত্তান্ত প্রচারে তুলে ধরছেন তৃণমূল প্রার্থী।
মালতীপুরের তৃণমূল প্রার্থী আব্দুর রহিম বক্সি, গাজোলের প্রসেনজিত্ দাস, চাঁচলের প্রসূন বন্দ্যোপাধ্যায়, রতুয়ার সমর মুখোপাধ্যায়ের নির্বাচনি প্রচারেও ঘুরেফিরে আসছে বিজেপি ও কংগ্রেস শাসিত রাজ্যগুলিতে পশ্চিমবঙ্গের পরিযায়ী শ্রমিকদের ওপর একের পর এক অত্যাচারের উদাহরণ। তৃণমূলের প্রার্থীরা নিজের নিজের বিধানসভা কেন্দ্রের পরিযায়ী শ্রমিকদের শোনাচ্ছেন আমির শেখের মতোই দিল্লিতে কীভাবে বাংলা ভাষা বলার অপরাধে হেনস্তার শিকার হয়েছিলেন চাঁচলের মুক্তার খান এবং তাঁর স্ত্রী সাজেনুর খাতুন।
বীরভূমের সোনালি খাতুনকে বাংলাদেশে পাঠিয়ে দেওয়ার প্রসঙ্গও প্রচারে তুলছেন তৃণমূলের প্রার্থীরা। একই সঙ্গে মনে করিয়ে দিচ্ছেন কীভাবে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং তৃণমূল আইনি লড়াই করে বাংলার অত্যাচারিত পরিযায়ী শ্রমিকদের ঘরে ফিরিয়ে নিয়ে এসেছেন। তৃণমূলের মালদহ জেলা সভাপতি আব্দুর রহিম বক্সি বলেন, পরিযায়ী শ্রমিকদের উপরে বিজেপি ও কংগ্রেস শাসিত রাজ্যগুলিতে যে নির্মম অত্যাচার হয় সেই কথা আমরা প্রচারে তুলে ধরছি। পাশাপাশি মনে করিয়ে দিচ্ছি, মৃত পরিযায়ী শ্রমিকদের ক্ষতিপূরণ, তাঁদের দেহ পরিবহণ এবং অন্ত্যেষ্টি ক্রিয়ার ব্যবস্থা ও খরচ বহন করেছে রাজ্য সরকার। একই সঙ্গে পশ্চিমবঙ্গে তৈরি করা হয়েছে পরিযায়ী শ্রমিক কল্যাণ পর্ষদ। তৃণমূলের দাবি, পরিযায়ী শ্রমিকদের সমর্থন তারাই পাবে।
অন্যদিকে, বিজেপির পক্ষ থেকে প্রচার করা হচ্ছে রাজ্যে কর্মসংস্থান নেই। শিল্প ধ্বংস করেছে তৃণমূল। তাই কাজের সন্ধানে ভিনরাজ্যে যেতে বাধ্য হচ্ছে মালদহের পাঁচ লক্ষ দক্ষ এবং অদক্ষ শ্রমিক। বিজেপির মালদহ উত্তর সাংগঠনিক জেলার সভাপতি প্রতাপ সিংহ বলেন, তৃণমূল রাজ্যকে ভিখারি করে দিয়েছে। শিল্প নেই, কর্মসংস্থান নেই। তাই মালদহের পরিযায়ী শ্রমিকরা বেশির ভাগ বিজেপি শাসিত রাজ্যেই কাজের সন্ধানে যাচ্ছে। কারণ গুজরাত, রাজস্থান, ওড়িশা, দিল্লিতে তাঁরা অনেক বেশি মজুরি পাচ্ছেন। দু’একটি বিচ্ছিন ঘটনা ঘটলেও পরিযায়ী শ্রমিকরা বিজেপি শাসিত রাজ্যে গিয়ে কাজ করতেই উৎসাহী।
মালদহ দক্ষিণ সাংগঠনিক জেলার বিজেপি সভাপতি অজয় গঙ্গোপাধ্যায় বলেন, বিজেপি রাজ্যে ক্ষমতায় এলে একজন দক্ষ শ্রমিককেও আর ভিনরাজ্যে যেতে হবে না। তাঁরা বাড়ির খাবার খেয়ে বেশি মজুরিতে বাংলাতেই কাজ করবেন।
সিপিএমের জেলা সম্পাদক কৌশিক মিশ্রের দাবি, পরিযায়ী শ্রমিকদের সমর্থন তাঁদের সঙ্গেই রয়েছে। বলেন, একমাত্র আমরাই পরিযায়ী শ্রমিকদের জন্য জাতীয় নীতি ঘোষণার দাবি করি। পরিযায়ী শ্রমিকরা তাই আমাদের লাল পতাকার তলায় সংঘবদ্ধ হচ্ছেন।