Bartaman Logo
৩ জুন, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

তৃণমূল পার্টি অফিসই লক্ষ্মীর ভাণ্ডারে আর্থিক জালিয়াতির আতুঁড়ঘর, সিটের তদন্তে সামনে আসছে তথ্য-প্রমাণ

তৃণমূল পার্টি অফিসে লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের জালিয়াতির তথ্য সামনে আসছে। ৩০০ কোটি টাকার জালিয়াতি, বিস্তারিত পড়ুন।

তৃণমূল পার্টি অফিসই লক্ষ্মীর ভাণ্ডারে আর্থিক জালিয়াতির আতুঁড়ঘর, সিটের তদন্তে সামনে আসছে তথ্য-প্রমাণ
  • ৩ জুন, ২০২৬ ০৪:০০

শুভ্র চট্টোপাধ্যায়, কলকাতা: তৃণমূল পার্টি অফিসই লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের জালিয়াতির আঁতুড়ঘর। এখানে বসেই আসল ‘লক্ষ্মীদের’ নথিতে নিজের অ্যাকাউন্ট ও মোবাইল নম্বর জুড়ে দিয়েছেন তৃণমূলের ‘পুরুষ’ নেতা-কর্মীরা।  সুবিধাভোগীর অ্যাকাউন্টে টাকা না পৌঁছে, তা চলে গিয়েছে তৃণমূলের নেতা- কর্মীদের ব্যক্তিগত অ্যাকাউন্টে।  ভুয়ো আধার, ভোটার সহ  বিভিন্ন নথি তৈরি করে অস্তিত্বহীন ব্যক্তির নামে তুলে নেওয়া হয়েছে লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের টাকা। জালিয়াতি ও প্রতারণার ঘটনার তদন্তে নেমে এই তথ্য পাচ্ছেন সিটের সদস্যরা। নথি যাচাইয়ের দায়িত্বে থাকা আধিকারিকরা এবার সিটের নজরে। সরকারি কোষাগার থেকে এভাবে বেরিয়ে যাওয়ায় টাকার অঙ্ক ৩০০ কোটি পেরিয়ে যাবে বলে মনে করছেন তদন্তকারীরা। তদন্তে নেমে তদন্তকারীরা বলছেন, মুর্শিদাবাদ জেলা এই জালিয়াতির ‘সূতিকাগার’। পরে তা ছড়িয়ে পড়ে নদীয়া, পূর্ব বর্ধমান সহ অন্য জেলাতেও।           

Advertisement

লক্ষ্মীর ভাণ্ডার নিয়ে জালিয়াতির তদন্তে  সিট তৈরি হয়েছে।  জানা যাচ্ছে, দুয়ারে সরকার শিবির থেকে লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের ফর্ম মিলত। সঙ্গে পুরসভা এলাকায় বরো অফিস ও পঞ্চায়েত অফিস থেকে এই ফর্ম দেওয়া হত।   ফর্ম নিয়ে মহিলাদের স্থানীয় তৃণমূল পার্টি অফিসে আসতে বলতেন তদানীন্তন শাসক দলের নেতা-কর্মীরা। মহিলাদের আধার, ভোটার, ব্যাঙ্কের পাশবুক সহ সমস্ত নথি আনতে বলা হত। ফর্ম ফিলআপের সময় মহিলার নাম, ঠিকানাসহ সমস্ত কিছু লিখতেন তৃণমূলের কর্মীরা। গ্রাহকদের বলা হত, তাঁরা ফর্ম জমা দিয়ে দেবেন। মহিলারা চলে যাওয়ার পর ফর্মে নিজেদের অ্যাকাউন্ট নম্বর বসিয়ে দিতেন তৃণমূলের লোকজন। সঙ্গে মোবাইল নম্বর। যে কারণে প্রকৃত গ্রাহকের কাছে টাকা পৌঁছত না। অনেক ক্ষেত্রে আবার ব্যাংকে গিয়ে মহিলাদের ব্যাংক অ্যাকাউন্ট নম্বর বদল করে  তৃণমূলের নেতা-কর্মীরা নিজেদের অ্যাকাউন্ট নম্বর বসিয়ে টাকা তুলে নিয়েছেন বলে অভিযোগ। এমনকি ব্যাংকে জমা দেওয়া প্রাপকের আধারের ছবিও পালটে দিয়েছেন ক্ষমতা হারানো দলের নেতা-কর্মীরা। ব্যাংকের কর্মীদের একাংশকে তাঁরা ম্যানেজ করেছিলেন। এক একজন কর্মী বা সমর্থক নিজেদের নামে ছাড়াও, স্ত্রী, আত্মীয়দের নামে অ্যাকাউন্ট খুলে টাকা ঢুকিয়েছেন বলে তদন্তে উঠে আসছে। তদন্তে উঠে আসছে, অস্তিত্বহীন ব্যক্তির নামে জাল আধার তৈরি করে খোলা হয়েছে ব্যাংক অ্যাকাউন্ট। ভুয়ো নথি ব্যবহার করে তুলে নেওয়া হয়েছে লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের টাকা। এমনকী মৃত মহিলা বা পুরুষের আধার জোগাড় করেও জালিয়াতি করে সেই নথি দিয়ে খোলা হয়েছে ব্যাংক অ্যাকাউন্ট। এগুলি দিয়ে ফর্ম জমা করে তুলে নেওয়া হয়েছে সরকারি এই স্কিমের টাকা। এহেন ষড়যন্ত্রে য় জ঩ড়িত তৃণমূলের নেতা নেতা-কর্মীদের চিহ্নিত করার কাজ চলছে।

সম্পর্কিত সংবাদ