নিজস্ব প্রতিনিধি, জলপাইগুড়ি: এলাকাবাসীর চাপের মুখে কাটমানি ফেরালেন তৃণমূলের পঞ্চায়েত সদস্য। জলপাইগুড়ি সদর ব্লকের পাতকাটা পঞ্চায়েতের ডাঙাপাড়া এলাকার সদস্য সুদীপ বাছাড় রবিবার সন্ধ্যা থেকে রাত পর্যন্ত প্রায় ৩০ জন বাসিন্দার হাতে দেড় লক্ষ টাকা ফিরিয়েছেন। আবাসের ঘর পাইয়ে দেওয়ার নাম করে বাসিন্দাদের কাছ থেকে তৃণমূলের ওই পঞ্চায়েত সদস্য কাটমানি নিয়েছিলেন বলে অভিযোগ। এদিন নিজে হাতে গুনে কাটমানি বাবদ নেওয়া টাকার একাংশ বাসিন্দাদের ফিরিয়ে দেন তৃণমূলের ওই পঞ্চায়েত সদস্য। উপস্থিত ছিলেন স্থানীয় বিজেপি কর্মীরা। টাকা ফেরত পেয়ে খুশি এলাকার বাসিন্দারা। রাতে টেলিফোনে যোগাযোগ করা হলে অভিযুক্ত ওই পঞ্চায়েত সদস্য কাটমানি নেওয়ার অভিযোগ স্বীকার করে নিলেও তাঁর দাবি, তৃণমূলের স্থানীয় নেতাদের চাপে পড়েই তিনি বাসিন্দাদের কাছ থেকে ওই টাকা নিয়েছিলেন। সব টাকা তাঁদেরই দিয়ে দিতে হত। দলের মিটিং, মিছিল করার জন্য কিছু টাকা দেওয়া হত তাঁকে।
এদিকে, তৃণমূল পঞ্চায়েত সদস্যের কাটমানি ফেরানোর খবরে এলাকায় আলোড়ন ছড়ায়। পাতকাটা পঞ্চায়েত এলাকায় এতদিন একচ্ছত্র রাজত্ব চালাতেন তৃণমূল নেতা কৃষ্ণ দাস। তাঁর অঙ্গুলিহেনন ছাড়া পঞ্চায়েত সদস্য থেকে প্রধান, কেউ কোনো কাজ করার সাহস পেতেন না। বিজেপির অভিযোগ, এসব কাটমানির ভাগ পৌঁছাত কৃষ্ণ দাস ও তাঁর বাহিনীর কাছে। বিজেপি কর্মীদের উপর সশস্ত্র হামলার ঘটনায় মূল অভিযুক্ত কৃষ্ণ দাস বিধানসভা ভোটের ফল বেরনোর পরদিন থেকে বেপাত্তা। ইতিমধ্যেই কৃষ্ণর এক শাগরেদের বিরুদ্ধে বোদাগঞ্জে ভ্রামরীদেবীর মন্দিরে প্রণামী বাবদ জমা পড়া সোনা ও টাকা হাতিয়ে বেপাত্তা হয়ে যাওয়ার অভিযোগ উঠেছে। তিনি ওই মন্দিরে দীর্ঘদিন ধরে ক্যাশিয়ার ছিলেন। কৃষ্ণর বাহিনীর জুলুমবাজি থেকে এতদিনে রেহাই পেতে পাতকাটা পঞ্চায়েতের রংধামালি এলাকায় মহারাজঘাটের মেলা কমিটি ভেঙে দিয়েছেন স্থানীয়রা। অভিযোগ, কৃষ্ণর তৈরি করে দেওয়া ওই কমিটি ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে মেলার নামে জোর করে মোটা টাকা আদায় করত।