Bartaman Logo
২৮ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

মুখ্যমন্ত্রীর আশ্বাসের পর অভিযুক্ত ২৩ জনকে গ্রেপ্তার করল পুলিশ, কালীগঞ্জে তামান্না খুন

কালীগঞ্জে তামান্না খাতুনের হত্যাকাণ্ডে মুখ্যমন্ত্রীর আশ্বাসের পর ২৩ জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। বিস্তারিত জানুন।

মুখ্যমন্ত্রীর আশ্বাসের পর অভিযুক্ত ২৩ জনকে গ্রেপ্তার করল পুলিশ, কালীগঞ্জে তামান্না খুন
  • ২৮ জুন, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, কৃষ্ণনগর: রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর সঙ্গে দেখা করে মেয়ের খুনিদের দ্রুত গ্রেপ্তারের দাবি জানিয়েছিলেন তামান্না খাতুনের মা সাবিনা ইয়াসমিন। মুখ্যমন্ত্রী তাঁকে আশ্বাস দিয়েছিলেন। তার মাত্র তিন দিনের মধ্যেই কালীগঞ্জ থানার পুলিশ আরও ১২ জন অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করেছে। ফলে তামান্না খুনের ঘটনায় এফআইআরে নাম থাকা ২৪ জন অভিযুক্তের মধ্যে ২৩ জনই এখন পুলিশের জালে। 

Advertisement

বিজেপি সরকার ক্ষমতায় আসার পর রাজ্যে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল। তামান্না হত্যাকাণ্ডে দ্রুত গ্রেপ্তারির ঘটনাকে সেই প্রতিশ্রুতির বাস্তবায়নের উদাহরণ হিসেবেই তুলে ধরেছেন মুখ্যমন্ত্রী। শনিবার নিজের এক্স হ্যান্ডেলে কৃষ্ণনগর পুলিশ জেলার ভূয়সী প্রশংসা করে মুখ্যমন্ত্রী লিখেছেন, অভিযুক্তদের দ্রুত গ্রেপ্তার নিশ্চিত করতে পুলিশ তৎপরতার সঙ্গে অভিযান চালিয়েছে। পশ্চিমবঙ্গের মানুষকে জানাতে পেরে আমি আনন্দিত যে, এফআইআরে নাম থাকা প্রায় সমস্ত অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। গত কয়েক দিনে আমাদের পুলিশ বাহিনী ভিন রাজ্যে অভিযান চালিয়ে আরও ১২ জনকে গ্রেপ্তার করেছে। পূর্ববর্তী সরকারের আমলে অপরাধীদের রাজনৈতিক পরিচয় দেখে বিচার হত। নিহতের রাজনৈতিক পরিচয়ের ভিত্তিতে পুলিশের পদক্ষেপ প্রভাবিত হত। আমাদের সরকার সম্পূর্ণ ভিন্নভাবে কাজ করছে। 
কালীগঞ্জের তৃণমূল বিধায়ক আলিফা আহমেদ বলেন, মোলান্দির ঘটনাটি অত্যন্ত মর্মান্তিক। আমাদের সরকার থাকাকালীনও বরাবর বলেছিলাম প্রকৃতি দোষীরা শাস্তি পাক।
উল্লেখ্য, গত বছরের ২৩ জুন কালীগঞ্জ বিধানসভা উপনির্বাচনের ফল ঘোষণার দিনই তৃণমূলের বিজয় মিছিল থেকে ছোড়া বোমার আঘাতে মৃত্যু হয় নাবালিকা তামান্না খাতুনের। ঘটনায় রাজ্যজুড়ে শোরগোল পড়ে যায়। ঘটনার কয়েক দিনের মধ্যে মূল অভিযুক্ত সহ ১১ জনকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ আদালতে চার্জশিট জমা দেয়। যদিও তামান্নার মা সাবিনা ইয়াসমিন মোট ২৪ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করেছিলেন। বাকি অভিযুক্তদের গ্রেপ্তারের দাবিতে সাবিনা ইয়াসমিন একাধিকবার পুলিশ সুপারের সঙ্গে দেখা করে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার আবেদন জানান। রাজ্যে সরকার পরিবর্তনের পর গত বুধবার বিধানসভায় মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করেন সাবিনা ইয়াসমিন। সেখানেই তিনি বাকি অভিযুক্তদের গ্রেপ্তারের দাবি জানান। মুখ্যমন্ত্রী দ্রুত পদক্ষেপের আশ্বাস দেওয়ার পরই কালীগঞ্জ থানার পুলিশ ভিনরাজ্যে মেগা অভিযান চালিয়ে বাকি অভিযুক্তদের গ্রেপ্তার করে।
শনিবার কৃষ্ণনগর আদালতে ধৃত আমিরুল শেখ, জামাত শেখ ও রাকিবুল শেখকে তোলা হলে বিচারক তাদের ন’দিনের পুলিশি হেপাজতের নির্দেশ দেন। তদন্তের শুরুতেই জিয়ারুল শেখ ও সাবির শেখকে গ্রেপ্তার করে আদালতে পেশ করা হয়েছিল। পরে হাফিজুল শেখ, আনিসুর শেখ ও ফকর শেখকে গ্রেপ্তার করা হয়। বৃহস্পতিবার তাদেরও আদালতে তোলা হয়। গুরগাঁও থেকে মিনারুল শেখ এবং নাগপুর থেকে সাহিবুল শেখ, মিলন শেখ সহ মোট ১২ জনকে গ্রেপ্তার করেছে কালীগঞ্জ থানার পুলিশ।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ