সংবাদদাতা, কাকদ্বীপ: প্রকাশ্যে হাতজোড় করে ক্ষমা চেয়ে কাটমানির টাকা ফেরত দিলেন তৃণমূল কংগ্রেসের পঞ্চায়েত সদস্য! ঘটনাটি ঘটেছে সাগর বিধানসভার নামখানার শিবরামপুর গ্রাম পঞ্চায়েতের পাতিবুনিয়া এলাকায়। অভিযোগ, আবাস যোজনার দ্বিতীয় কিস্তির টাকা পাইয়ে দেওয়ার জন্য উপভোক্তাদের থেকে পাঁচ হাজার টাকা করে নেওয়া হয়েছিল। এই গ্রাম পঞ্চায়েতের ২৫২ নম্বর বুথের পঞ্চায়েত সদস্য মাধবচন্দ্র লায়া প্রায় ৪৫ জন উপভোক্তার কাছ থেকে এই টাকা নিয়েছিলেন। রাজ্যে পালাবদল হতেই তিনি কাটমানির পাঁচ হাজার টাকা ৪৫ জন উপভোক্তাকেই ফিরিয়ে দেন। স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, রবিবার সকালে গ্রামের একটি স্কুলমাঠে মাধববাবু ওই উপভোক্তাদের ডেকে পাঠিয়েছিলেন। সেখানে বিজেপির স্থানীয় নেতৃত্বও উপস্থিত ছিল। প্রথমে তিনি সবার সামনে অন্যায় স্বীকার করে নেন। এরপর উপভোক্তাদের পাঁচ হাজার টাকা করে ফেরত দিয়ে দেন।
এ বিষয়ে বিকাশ মণ্ডল নামে এক উপভোক্তা বলেন, ‘বাংলা আবাস যোজনার প্রথম কিস্তির ৬০ হাজার টাকা পেয়েছিলাম। সেই টাকায় বাড়ির কাজ অনেকটা করেও ফেলেছিলাম। এরপর ব্যাংকে দ্বিতীয় কিস্তির টাকা ঢোকার কথা ছিল। সেই সময় আমাদের পঞ্চায়েত সদস্য পাঁচ হাজার টাকা কাটমানি চান। টাকা না দিলে ব্যাংকে দ্বিতীয় কিস্তির টাকা ঢুকবে না বলে জানিয়ে দেন। বাধ্য হয়ে টাকা দিই। সেই টাকাই ফেরত পেলাম।’ পঞ্চায়েত সদস্য মাধবচন্দ্র লায়া বলেন, ‘দলের ঊর্ধ্বতনদের নির্দেশে উপভোক্তাদের কাছ থেকে পাঁচ হাজার টাকা করে নিয়েছিলাম। এই টাকা নেওয়ার জন্য আমাকে চাপ দেওয়া হয়েছিল। ওই টাকা আমি পঞ্চায়েতের টেবিলেই জমা দিয়েছিলাম। এক টাকাও নিজে নিইনি। এই ঘটনার সঙ্গে বহু নেতা জড়িত।’ তবে এদিন তিনি তৃণমূলের কোনো নেতার নাম মুখে আনেননি। কারণ, তাঁর আশঙ্কা, নাম বলে দিলে আগামী দিনে তাঁর পরিবারের উপর হামলা হতে পারে। বিজেপির স্থানীয় মণ্ডলের সভাপতি দিলীপ প্রধান বলেন, ‘রাজ্যজুড়ে তৃণমূলের নেতারা বিভিন্ন অজুহাতে কাটমানি তুলেছেন। এই গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকাও তার ব্যতিক্রম নয়। এক্ষেত্রে তৃণমূল কংগ্রেসের উঁচুতলা নীচুতলার নেতাদের ব্যবহার করেছে। এবার সেই মাথাদেরও ধরা হবে।’ -নিজস্ব চিত্র