নিজস্ব প্রতিনিধি, বহরমপুর: প্রাকৃতিক দুর্যোগের পূর্বাভাস আছে। সকাল সাতটা থেকে কাউন্টিং এজেন্টরা গণনা কেন্দ্রে ঢুকবেন। তাই রবিবার রাতেই বহরমপুর শহরে চলে এসেছেন বেলডাঙা, নওদা, রেজিনগর, হরিহরপাড়ার তৃণমূল কর্মীরা। বিভিন্ন হোটেলে তাদের রাখার বন্দোবস্ত করেছে শাসকদলের প্রার্থীরা। কীভাবে এজেন্টরা কাজ করবে সেই নির্দেশিকা দিয়ে গণনা শেষ না হওয়া পর্যন্ত কেন্দ্র না ছাড়ার নির্দেশ দিয়েছেন তৃণমূল সুপ্রিমো। সঙ্গে কীভাবে ফর্ম ফিল আপ থেকে ইভিএমের খুঁটিনাটি নজরে রাখতে হবে, সে ব্যাপারে নির্দেশ দিয়েছেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। ভার্চুয়াল বৈঠকের পর জয়ের ব্যাপারে প্রত্যয়ী দুইজনের বার্তা পেয়ে চাঙ্গা শাসক শিবিরের এজেন্টরা। গণনা শেষ না হওয়া পর্যন্ত যাতে কোনো এজেন্ট কেন্দ্র না ছাড়েন, সে ব্যাপারে রীতিমতো হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তৃণমূল প্রার্থীরাও।
বহরমপুর মুর্শিদাবাদ সাংগঠনিক জেলার তৃণমূল সভাপতি তথা কান্দির প্রার্থী অপূর্ব সরকার বলেন, বিজেপি মানুষের সমর্থন না পেয়ে গণনা কেন্দ্রে নানারকম কারচুপি করার চেষ্টা করবে। কেন্দ্রীয় বাহিনীর ঘেরাটোপে তারা যা ইচ্ছা তাই করে নিজেদের ভোটের সংখ্যা বাড়িয়ে নিতে পারে। তাই কর্মীদের সজাগ এবং অত্যন্ত সচেতন থাকতে হবে। কোনো কারচুপি যাতে না হয়, তা দেখার জন্য জেলা প্রশাসন এবং পুলিশকে বলব। আমাদের কর্মীরা এর আগেও একাধিক গণনার কাজ করেছে। তারা নির্ভুলভাবে গণনা করবে বলেই আমরা আশাবাদী।
রেজিনগরের তৃণমূল প্রার্থী আতাউর রহমান বলেন, বিরোধীরা অনেক বড় বড় কথা বলছে। কিন্তু তারা গণনা কেন্দ্রে সব টেবিলে এজেন্ট দিতে পারবে কি না, তা নিয়ে সংশয় আছে। আমাদের এজেন্টরা সবাই প্রস্তুত আছেন। সকাল সাতটার মধ্যে কাউন্টিং সেন্টারে ঢুকবেন। আমার কেন্দ্রে ফল ভালো হবে বলেই আশাবাদী।
নওদা থেকেও রবিবার বিকেলে বাসে করে কাউন্টিং এজেন্টরা বহরমপুর শহরে চলে আসেন। তারা একটি হোটেলে রাত্রিবাস করছেন। সেখান থেকে ভোর সাড়ে ছ’টা নাগাদ বহরমপুর গার্লস কলেজের উদ্দেশ্যে রওনা দেবেন। নওদার তৃণমূল ব্লক সভাপতি সফিউজ্জামান শেখ বলেন, বিকেল চারটে নাগাদ আমরা বাসে করে কাউন্টিং এজেন্টদের বহরমপুর পাঠিয়েছি। তাঁরা সকালেই ঠিক সময়মতো ঢুকে যাবে। কাউন্টিং করার ক্ষেত্রে যাঁদের অভিজ্ঞতা ভালো, তাঁদের অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে।
বেলডাঙার তৃণমূল প্রার্থী রবিউল আলম চৌধুরীও কর্মীদের নিয়ে বহরমপুরে চলে আসেন। তিনি বলেন, আটটা থেকে কাউন্টিং শুরু হবে, আমরা চেষ্টা করছি সকাল সাতটার মধ্যে বহরমপুর গার্লস কলেজে পৌঁছে যেতে। দলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং সেনাপতি অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় আমাদের যা যা নির্দেশ দিয়েছেন, সেই মতো আমাদের এজেন্টরা কাউন্টিং সেন্টার সামলাবেন। কোথাও কোনো গন্ডগোল দেখলে সঙ্গে সঙ্গে আমাকে জানাবে এবং আমার নির্বাচনি এজেন্টকেও জানাতে পারেন তাঁরা। আমরা সঙ্গে সঙ্গে আমাদের কাউন্টিং অবজারভার প্রতীক উর রহমানকে জানাব।
ভোটের ফল ঘোষণার আগের দিন বহরমপুরে সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে অধীর চৌধুরী বলেন, যা হচ্ছে হবে। হারি জিতি, যা হয় হবে। মানুষ যাঁকে ভোট দেওয়ার, দিয়ে দিয়েছেন। বেশি ভেবে তো আমি ভোটের ফল বদলাতে পারব না। শুধু শুধু না ঘুমিয়ে, না খেয়ে টেনশন করে লাভ কী আছে? এসব নিয়ে কোনো টেনশন করার কারণ আছে বলে আমি মনে করি না। অপেক্ষা করুন, ফল যা হবে শুনে নেবেন।
তবে ফলতায় নতুন করে ভোট করা নিয়ে কমিশনের সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করেছেন অধীর। তিনি বলেন, ভোট গণনার দিন পিছিয়ে দিয়ে আগে ফলতার পুনর্নির্বাচন করিয়ে নেওয়া উচিত ছিল কমিশনের।