


নিজস্ব প্রতিনিধি, আসানসোল: কয়লা চুরিতে বাধা দিতেই অগ্নিগর্ভ হয়ে উঠল জামুড়িয়া থানার চুরুলিয়া। বৃহস্পতিবার চুরুলিয়া কয়লা খাদানে কয়লা লুটে বাধা দেয় পুলিশ ও কারখানা কর্তৃপক্ষ। অভিযোগ, তাতেই ক্ষিপ্ত হয়ে কোলিয়ারি কর্তৃপক্ষের গাড়ি ভাঙচুর করে দুষ্কৃতীরা। তারপরই তৃণমূল কংগ্রেসের কার্যালয়ে হামলা হয় বলে অভিযোগ। পার্টি অফিস ভাঙচুর করার পাশাপাশি দলীয় কার্যালয়ের সামনে রাখা বাইকগুলিও ভাঙচুর করা হয়। একাধিক তৃণমূল কর্মী দুষ্কৃতীদের হাতে আক্রান্ত হন। দলীয় কার্যালয় আক্রান্ত হওয়ার খবর পেয়ে তৃণমূল কর্মীরাও জোট বাঁধেন। দু’ পক্ষের মধ্যে প্রবল সংঘর্ষ হয়। পরে বিশাল পুলিশ বাহিনী এসে পরিস্থিতি সামাল দেয়। কেন্দ্রীয় বাহিনী রুটমার্চ করে। পুরো এলাকা থমথমে। তৃণমূল কংগ্রেসের অভিযোগ, বিজেপির উস্কানিতে দলীয় কার্যালয়ে হামলা চালিয়েছে সিপিএমের দুষ্কৃতীরা। বিজেপি ও সিপিএম অভিযোগ অস্বীকার করেছে।
জানা গিয়েছে, চুরুলিয়া এলাকায় ডব্লবিপিডিসিএল একটি কয়লা খনির বরাত পেয়েছিল। তাঁরা একটি বেসরকারি সংস্থাকে সহযোগী করে সেখানে কয়লা উত্তোলন করছে। প্রতিদিন রাতে বিপুল পরিমাণ লোক খাদানে ঢুকে কয়লা চুরি করতে থাকায় খাদান এলাকা টিন দিয়ে ঘিরে দেওয়া হচ্ছিল। তাতেই প্রবল আপত্তি ছিল কয়লা চোরদের। বৃহস্পতিবার ভোরে পুলিশও কয়লা চুরিতে বাধা দিতেই পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়। এদিন সকালে কোলিয়ারির কর্মচারী বিকাশ দত্তের গাড়ি আটকে বিক্ষোভ দেখায় বাসিন্দারা। দুষ্কৃতীরা তাঁর গাড়ি ভাঙচুর করে। তৃণমূল কংগ্রেসের ব্লক সাধারণ সম্পাদক শেখ আসরাফ তাঁকে উদ্ধার করেন। তারপরই দুষ্কৃতীদের রাগ গিয়ে পড়ে তৃণমূলের উপর। শেখ আসরাফকে বাঁশ দিয়ে পিঠে মারা হয়। কোনো রকমে লোকের বাড়িতে ঢুকে প্রাণ বাঁচান তিনি। দুষ্কৃতীরা তৃণমূল কার্যালয় নির্বিচারে ভাঙচুর করতে থাকে। আলমারি সহ নানা আসবাব ভেঙে দেওয়া হয়। এরপরই তৃণমূল কর্মীরাও জমায়েত হয়। দু’ পক্ষের মধ্যে প্রবল ইটবৃষ্টি শুরু হয়। লাঠি নিয়ে একে অপরকে আক্রমণ করে। পরে বিশাল পুলিশ বাহিনী এলে দুষ্কৃতীরা ছত্রভঙ্গ হয়। দুপুর থেকে শুরু হয়েছে পুলিশ অভিযান। পুরো এলাকায় রুটমার্চ করছে কেন্দ্রীয় বাহিনী। জামুড়িয়া ১ তৃণমূল ব্লক সভাপতি সুব্রত অধিকারী বলেন, বিজেপির উস্কানিতে সিপিএমের দুষ্কৃতীরা পার্টি অফিসে হামলা করেছে। তৃণমূল কংগ্রেসের জেলা সভাপতি নরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী বলেন, বিজেপি শিল্পাঞ্চলের সবচেয়ে বড় কয়লা মাফিয়াকে দলের উঁচু পদ দিয়েছে। কয়লা চোরদের নিয়ে তৃণমূল পার্টি অফিস আক্রমণ করাচ্ছে। এবার আমরা ময়দানে নেমে প্রতিবাদ শুরু করব। প্রশাসনকে বলবে কঠোরতম ব্যবস্থা নিতে হবে।
বিজেপি জেলা সভাপতি দেবতনু ভট্টাচার্য বলেন, নরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তীর নেতৃত্বেই শিল্পাঞ্চলে কয়লা লুট হয়। সাধারণ মানুষের এই কোলিয়ারি নিয়ে দীর্ঘদিনের ক্ষোভ রয়েছে। তাঁদের কাছে কাটমানি খেয়ে প্রোটেকশন দেয় তৃণমূল। তাঁদের দু’টি গোষ্ঠী আছে। তাদের মধেই দ্বন্দ্ব। সিপিএম জেলা সম্পাদক মণ্ডলীর সদস্য মনোজ দত্ত বলেন, এই ঘটনার সঙ্গে সিপিএমের যোগ নেই। এটা মানুষের ক্ষোভের বহিপ্রকাশ।